kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সিপিডির ওয়েবিনার

ক্ষতিগ্রস্তদের মালিকানা দিয়ে ই-কমার্সে আস্থা ফেরানোর পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্ষতিগ্রস্তদের মালিকানা দিয়ে ই-কমার্সে আস্থা ফেরানোর পরামর্শ

তদারকি প্রতিষ্ঠানের সময়োপযোগী উদ্যোগের অভাবে সম্ভাবনাময় ই-কমার্স খাতে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া নজরদারির অবহেলা ও সুশাসন না থাকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কৌশলে জালিয়াতি করে সাধারণ মানুষের হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দিয়ে ই-কমার্স খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান আইনের সংশোধনসহ একটি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভোক্তাদের মালিকানা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গতকাল শনিবার ‘ই-কমার্স খাতের চ্যালেঞ্জ : সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এই পরামর্শ দেন তাঁরা।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

সংকট থেকে উত্তরণে পরামর্শ দিয়ে আলোচকরা বলেন, ইভ্যালিসহ যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কাছে ভোক্তারা প্রতারিত হয়েছেন তাঁদের ওই সব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা দেওয়া হোক। এই লক্ষ্যে যথাযথ নিরীক্ষার জন্য সরকারের একটি কর্তৃপক্ষ কাজ করতে পারে। আর বিদ্যমান আইনে সমাধান করা না গেলে প্রয়োজনে আইন সংশোধন হতে পারে। এ ছাড়া সংকটে উচ্চ আদালতও এগিয়ে আসতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশে এ ধরনের উদাহরণ আছে।

আলোচকরা বলেন, চার-পাঁচ বছরের মধ্যে ই-কমার্স খাত বিকশিত হতে শুরু করলেও করোনাকালে ঘরে বসে সহজে পণ্য পাওয়ায় এর দ্রুত প্রসার হয়েছে। তিন কোটি ৯০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী এবং প্রায় ৩০ হাজার অনলাইন প্রতিষ্ঠান এ খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সিপিডির তথ্য অনুসারে, ই-কমার্স খাতে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে। এর প্রবৃদ্ধিও প্রায় শতভাগ। প্রতিবছরই দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। খাতসংশ্লিষ্টদের আশা, ২০২৩ সালের মধ্যে এর বার্ষিক বাজার দাঁড়াবে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে সাম্প্রতিক জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে বিকশিত এই খাত ধসের মুখে পড়েছে।

সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, সুশাসনের অভাবে ই-কমার্স খাতে এ ধরনের প্রতারণার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকের হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা।

তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবহেলার কথা উল্লেখ করে আলোচকরা আরো বলেন, ইভ্যালি যখন ৪৫ দিনে পণ্য ডেলিভারি, শতভাগ ক্যাশ ব্যাক—এমন সব অফার দিচ্ছিল তখনো নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুমিয়ে ছিল। এমন ভুয়া অফারেও তাদের ঘুম ভাঙেনি। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান নগদ ও বিকাশও তাদের দায় এড়াতে পারে না। তারাও ২০ শতাংশ ক্যাশ ব্যাকের নামে ভোক্তাদের প্রতারিত হতে উৎসাহিত করেছিল।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দায়িত্ব অবহেলার কথা উল্লেখ করে বিডিজবস ডট কম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ফাহিম মাশরুর বলেন, এসব জালিয়াতি শুরু থেকে নজরদারিতে আনা গেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে ১০ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়ত না। যদিও তারা ৭০ শতাংশের বেশি অভিযোগের সমাধান করেছে, কিন্তু এতে ভোক্তারা তেমন কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। তাই সময়ের দাবি, এই দপ্তরকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

এই বিষয়ে কম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার তানজিবুল আলম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে শেয়ার দেওয়া বর্তমান আইনে না পড়লেও আদালতের হস্তক্ষেপে করা যেতে পারে। 

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ তমাল, অনলাইনে পণ্য বেচাকেনার প্রতিষ্ঠান চাল-ডাল ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম আলীম, ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর এফ হুসাইন প্রমুখ ওয়েবিনারে যুক্ত হন।



সাতদিনের সেরা