kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

গ্রামীণ ব্যাংকের ৬৭ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি

► এনবিআরের দুটি মামলা
► প্রতিষ্ঠানটি এখনো ভ্যাট নিবন্ধন নেয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্রামীণ ব্যাংকের ৬৭ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি

এনবিআরের ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাবসায়িক কার্যক্রম তদন্ত করে প্রায় ৬৭ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন করেছে। ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ায় ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্যাট আইন অনুযায়ী নিবন্ধন গ্রহণ না করে ভ্যাটযোগ্য সেবা প্রদান করায় আরেকটি মামলা করেছেন রাজস্ব বিভাগের ভ্যাট গোয়েন্দারা।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার কায়সারের নেতৃত্বে একটি দল প্রতিষ্ঠানটির ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই তদন্তকালে গ্রামীণ ব্যাংকের এই অনিয়ম বের হয়। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান কালের কণ্ঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকায় অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সেবার কোড এস ০৫৬-এর আওতায় ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসছে; কিন্তু ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি এখনো নিবন্ধন গ্রহণ করেনি। মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১-এর ধারা ১৫-এর উপধারা (১) অনুযায়ী করযোগ্য পণ্যের সরবরাহকারী বা করযোগ্য সেবা প্রদানকারীকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধন গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩-এর ধারা ২-এর দফা (খ)-এর উপধারা (অ) অনুযায়ী শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি বা গৃহায়ণের জন্য ঋণ প্রদানকারীকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কিস্তি সুবিধায় ঋণ প্রদান করে থাকে। গ্রামীণ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম এই আইনের অন্তর্ভুক্ত। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রদত্ত এসব ঋণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন খরচের বিপরীতে গ্রামীণ ব্যাংক চার্জ, ফি ও কমিশনের বিনিময়ে বিভিন্ন সেবা প্রদান করে থাকে, যার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য এবং করযোগ্য সেবা প্রদান করায় তাদের নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া ভ্যাট বিধিমালা ১৯৯১-এর বিধি ১৮(ক) অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি উৎস কর কর্তনকারী সত্তা এবং সে অনুযায়ী বিভিন্ন খরচের বিপরীতে উৎস ভ্যাট কর্তনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত মেয়াদে প্রদত্ত বিভিন্ন সেবা থেকে প্রাপ্ত আয়ের বিপরীতে ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ৩০,৩৬,৮৩,৬০০ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ৩০,৩৬,৪৮,৬৯০ টাকা উদঘাটন করা হয়। ভ্যাটযোগ্য প্রদত্ত সেবা থেকে প্রাপ্ত আয়ের বিপরীতে এই অপরিশোধিত ভ্যাটের ওপর ভ্যাট আইন অনুসারে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ শতাংশ হারে ১৩,৯৯,৯৫,৭০৬ টাকা সুদ প্রযোজ্য হবে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত মেয়াদে বিভিন্ন খরচের বিপরীতে উৎস ভ্যাট বাবদ ৮,৫৪,২০,৮১৯ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে, কিন্তু তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির উৎস কর্তন বাবদ প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ২৩,৯৩,১০,০৭৪ টাকা। এতে অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ১৫,৩৮,৮৯,২৫৬ টাকা উদঘাটন করা হয়। এই অপরিশোধিত ভ্যাটের ওপর ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মাসিক ২ শতাংশ হারে ৭,২৩,২৬,৯৭৭ টাকা সুদ প্রযোজ্য  হয়েছে।

বর্ণিত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির সর্বমোট অপরিশোধিত ভ্যাটের পরিমাণ ৪৫,৭৫,৩৭,৯৪৬ টাকা এবং সুদ বাবদ ২১,২৩,২২,৬৮৩ টাকাসহ সর্বমোট ৬৬,৯৮,৬০,৬২৯ টাকা ভ্যাট পরিহারের তথ্য উদঘাটিত হয়। গ্রামীণ ব্যাংককে এই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

 



সাতদিনের সেরা