kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

ই-কমার্স খাতে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি

টিপু মুনশি, বাণিজ্যমন্ত্রী

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ই-কমার্স খাতে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি

সম্প্রতি ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ ও ধামাকার মতো কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। সরকারও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, দায় আছে বলেই ই-কমার্স খাতের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন তাঁরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এম সায়েম টিপু

 

কালের কণ্ঠ : দেশে ই-কমার্স খাতের প্রসার বেড়েছে, একই সঙ্গে বেড়েছে প্রতারণা। সম্ভাবনাময় এই ব্যবসার সাম্প্রতিক সংকটকে কিভাবে দেখছেন?

বাণিজ্যমন্ত্রী : সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তথ্য-প্রযুক্তি খাতের ব্যবসার প্রসারে রয়েছে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা। করোনাকালে ই-কমার্সের প্রসার হয়েছে। গত দেড় বছরে লাখ লাখ মানুষ এ খাতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এটা সরকারের জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক। আরো দুই বছর পরের টার্গেট এখনই পূরণ হয়েছে। তবে এটা নিয়ে কিছু সমস্যাও তৈরি হয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সুযোগ নিয়ে মানুষের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। এটা সরকারের নজরে এসেছে। বাণিজ্য, অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় এই জালিয়াতি নিয়ে সরাসরি কাজ করছে। সমস্যাগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ক কমিটিকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করা হবে। শুধু লাভ নয়, সব দিক বিবেচনা করে যেন মানুষ বিনিয়োগ করেন। ভোক্তারা যেন বঞ্চিত না হন, লোকসানে না পড়েন। তবে কোনো অবস্থায় ই-কমার্সের এই প্রসার স্থবির হয়ে পড়ুক—এটা সরকার চায় না। কারণ তৃণমূলের অনেকে এই ব্যবসা করে বেঁচে আছেন। এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যাঁরাই ব্যবসা করুক, তাঁদের একটি কেন্দ্রীয় নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নীতিমালা মানতে হবে। ওই বিজ্ঞাপনে বলে দেওয়া হবে, নিজেরা বুঝেশুনে সতর্কভাবে বিনিয়োগ করুন। সরকারকে দায়ী করবেন না। এর মধ্যে আগে ‘পণ্য ডেলিভারি, পরে পেমেন্ট’ পদ্ধতি চালু হয়েছে। প্রতারণায় জড়িত ইভ্যালি ও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কী পরিমাণ সম্পদ আছে, সেগুলোও খতিয়ে দেখতে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের কতটা ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়। বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে কমিটি। আইন মন্ত্রণালয় এর প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে।

 

কালের কণ্ঠ : এটা ঠিক, সরকারের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই উদ্যোগগুলো শুরুর দিকে কেন নেওয়া হয়নি?

বাণিজ্যমন্ত্রী :  বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ হাজার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এ ছাড়া আমরা যদি বলি, এত সস্তায় পণ্য নিবেন না; এটা কি বলা যেত? তখন তো লোকে বলত, ‘আমার লাভ-লোকসানের হিসাব তো সরকার করে দিবে না।’ দেড় লাখ টাকার মোটরসাইকেল এক লাখ টাকায় কিনছেন। যদি বলি এটা ঠিক নয়; তাহলে তাঁরাই বলবেন, ‘আমি এক লাখ টাকায় পেলে সরকারের কী সমস্যা।’ এটাতে তো বাধা দেওয়া যায় না। তবে অভিযোগ করলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যায়। তাই শুরুতেই নজরদারি করা যায়নি। ওই সময় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

মানুষ যুবকে ঠকেছে, ডেসটিনিতে ঠকেছে, এর পরও শিখে নাই। অন্যদিকে একটি মোটরসাইকেল কিনে লাভ পেয়ে আরো ১৭টি কিনতে অর্ডার করেছে। লোভে পড়ে সব হারিয়েছে। এই অবস্থার জন্য ভোক্তারাও দায়ী, তাই তাদেরও দায় নিতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : বর্তমানে নজরদারির উদ্যোগ নিয়েছেন। এই নজরদারির মানদণ্ড কী হবে?

বাণিজ্যমন্ত্রী : সব প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন করতে হবে। ব্যাংকিং লেনদেনগুলো কিভাবে হবে, কিভাবে প্রতারণাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি নজরদারিতে আনা যায়, সেটা নিয়ে কাজ চলছে।

 

কালের কণ্ঠ : ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে স্বতন্ত্র আইনের কথা বলছেন? এই আইনে কী থাকছে?

বাণিজ্যমন্ত্রী :  ই-কমার্সে বর্তমানে যে সংকট তা হলো প্রতারণা। বিদ্যমান আইনের ৪২০ ধারায় এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের জেল বা অর্থদণ্ড এবং এটা জামিনযোগ্য অপরাধ। এখন তো সেই আইন দিয়ে চলবে না। এটা শুধু প্রতারণা নয়; তারা সাধারণ মানুষের শত শত কোটি টাকা মেরে দিচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তার আইনের নতুন কোনো ধারায় তাদের নিয়ে আসতে হবে। এই বিষয়গুলো নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আইনমন্ত্রী বিষয়টি দেখছেন।

 

কালের কণ্ঠ : অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ই-কমার্স ব্যবসায় প্রতারণার দায় এড়াতে পারে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

বাণিজ্যমন্ত্রী : উনি যেটা বলেছেন; উনার  অবস্থান থেকে বলেছেন। কেন বলেছেন এর উত্তর অর্থমন্ত্রী দিতে পারবেন। আমি উনাকে দায়ী করতে চাই না। আমি বলছি, আমাদের যে দায়িত্ব সেটা নিয়েই কাজ করছি। এই জন্য গতকাল চার মন্ত্রী বসে বৈঠক করেছি। সভা, মামলা-মোকদ্দমা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া থেকে শুরু করে যা যা করা দরকার সবই করছি। আমরা মনে করি. আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি।

 

কালের কণ্ঠ: ই-কমার্স নজরদারিতে আনতে বুধবার কর্তৃপক্ষ করার প্রস্তাব করেছেন। বিষয়টি কী? এই কর্তৃপক্ষ কিভাবে কাজ করবে?

বাণিজ্যমন্ত্রী : কর্তৃপক্ষ মানে বর্তমানে যে কমিটি কাজ করছে, ওই কমিটি বতর্মান সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে কাজ করবে। নতুন করে এ কমিটিতে তথ্য মন্ত্রণালয়সহ আরো কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে সম্পৃক্ত করা হবে। কমিটি কিভাবে কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে, সেই পরামর্শ দেবে আইন মন্ত্রণালয়।

 

কালের কণ্ঠ : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী : আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

 



সাতদিনের সেরা