kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মিয়ানমারে রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলাতে হবে

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মিয়ানমারে রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলাতে হবে

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারে রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলানোসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রধান আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নিষ্ক্রিয়তা বাংলাদেশকে মর্মাহত করেছে। সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল। তাদের যত দ্রুত সম্ভব মিয়ানমারে ফিরে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্ভাব্য সব কিছু

করতে হবে। গত বুধবার রাতে নিউ ইয়র্কে উচ্চ পর্যায়ের এক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের জবাবদিহি ও বিচারের ওপর জোর দেন। এ সময় তিনি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথা জানান। 

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ২০১৭ সাল থেকে জাতিসংঘে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আঞ্চলিক ক্ষেত্রে আমরা চীন ও ভারতসহ প্রধান শক্তিগুলোকে এ সংকট সমাধানে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছি। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে আসিয়ানকে আরো সক্রিয় রাখার চেষ্টা চালিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বহুপক্ষীয় ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বেও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘ সংস্থার মনোযোগ আকর্ষণ করে জাতিসংঘের প্রস্তাবের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনার টেবিলে ধরে রেখেছি। তবে দুঃখজনকভাবে দুর্ভাগা, গৃহহীন হয়ে পড়া মিয়ানমারের নাগরিকদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য চালানো আমাদের প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।’ তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত তাদের একজনও তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যেতে পারেনি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘চার বছর ধরে বাংলাদেশ অনেক আশা নিয়ে অপেক্ষা করে রয়েছে, বাস্তুহারা এসব মানুষ নিরাপদে এবং মর্যাদাসহকারে তাদের নিজের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী এই সংকট সমাধানে পাঁচ দফা আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন। প্রথম দফা প্রস্তাবে তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সবার জোরালো প্রচেষ্টা চালানোর কথা বলেছেন। দ্বিতীয়ত, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা দূর করতে মিয়ানমারে রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তন ঘটানো এবং এই সংকট সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার একটি সংশোধন প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আসিয়ানের জোরদার প্রচেষ্টা দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এ ক্ষেত্রে আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের পদক্ষেপ মিয়ানমারকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চতুর্থত, আমাদের অবশ্যই মনে রাখা দরকার মানবিক সহায়তা জরুরি হলেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও তাদের ধারণক্ষমতার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে জাতিসংঘ ও অংশীদারদের মিয়ানমারে অবশ্যই স্পষ্ট বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা এ ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি।’

শেখ হাসিনা তাঁর পাঁচ দফা প্রস্তাবের পঞ্চম দফায় রোহিঙ্গা নিপীড়নকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া জনগোষ্ঠীর আস্থা সৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালানোর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো গুরুত্বপূর্ণ।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি থেকে রেহাই দেওয়া মোটেও উচিত হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘নির্যাতনকারীদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দাঁড় করাতে চলমান আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার প্রতি ঢাকার জোরালো সমর্থন রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও মানবাধিকার পরিষদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কাঠামো করতে বিশ্বের জোরালো সমর্থন চান।

তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে নিপীড়ন এড়াতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক আগমনের শুরুতে আমাদের করণীয় ছিল তাদের জীবন বাঁচানো অথবা সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া। সীমান্ত বন্ধ করে দিলে তারা জাতিগত নিধনের মুখে পড়ত। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা তাদের জীবন বাঁচানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করি।’

তিনি বলেন, এই মানবিক সিদ্ধান্ত ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের জনগণের নিজস্ব বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবং বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের কভিড টিকা দেওয়ারও ব্যবস্থা করেছে।

শেখ হাসিনা হতাশাগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নিয়ে ঝুঁকির কথাও জানান। তিনি বলেন, প্রতিবছর ৩০ হাজারের বেশি নতুন শিশু জন্ম নেওয়ায় আশ্রয়শিবিরে জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। এ কারণে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের একাংশকে স্থানান্তরের উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আজ : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সাধারণ বিতর্কে আজ শুক্রবার রাতে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তৃতায় কভিড মহামারি, টিকা, জলবায়ু সংকট ও রোহিঙ্গা ইস্যু প্রাধান্য পাবে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জাতিসংঘের মহাসচিব আয়োজিত খাদ্য ব্যবস্থা বিষয়ক সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

 



সাতদিনের সেরা