kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ হবে

করা হবে স্বতন্ত্র আইন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ হবে

ই-কমার্স ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে সরকার ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ভোক্তাদের প্রতারণা করতে না পারে, এ জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও মানি লন্ডারিং আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

গতকাল বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদসহ চার মন্ত্রীর এক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান টিপু মুনশি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোক্তাদের সঙ্গে যেন প্রতারণা করতে না পারে এ জন্য একটি কেন্দ্রীয় অভিযোগ সেল গঠনের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ই-কমার্স আইন করা হবে। এ ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের বিরুদ্ধে প্রতারণা করেছে বর্তমান আইন অনুসারে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইভ্যালিসহ অন্যান্য যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান প্রতারণা করে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করেছে তাদের ব্যাপারে সরকার কোনো দায় নেবে না। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় দেখা হবে তাদের কাছে দায় শোধের সম্পদ আছে কি না কিংবা লুকানো অবস্থায় তাদের কোনো সম্পদ আছে কি না। যদি থাকে তবে এগুলো থেকে ভোক্তাদের দায় শোধ করা হবে।

এর আগে দুপুরে ‘সোর্সিং বাংলাদেশ-২০২১ ভার্চুয়াল এডিশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে  বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির গ্রাহকদের অর্থ কিভাবে ফেরত দেওয়া যায়, তা বিবেচনা করা হচ্ছে। এ জন্য ইভ্যালির সম্পদ এবং দায়দেনার হিসাব করা হচ্ছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কার্যালয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে আমরা দেখেছি ডেসটিনির মতো প্রতিষ্ঠানের সম্পদ কাজে লাগানো হয়নি। সেগুলো অন্যরা ভোগদখলে রেখেছে। অথচ গ্রাহক তাদের পাওনা বুঝে পায়নি। ইভ্যালির ক্ষেত্রেও যেন এমনটা না হয় সে জন্য গ্রাহকদের টাকা ফেরতের চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।’ তিনি বলেন, ‘ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যানকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু এটা তো সমাধান নয়। গ্রাহকরা যেন তাদের টাকা ফেরত পায় আবার অভিযুক্তরাও যেন শাস্তি পায়—উভয় বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে সরকার।’

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে বর্তমানে ৩০ হাজার অনলাইন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১০-১২টির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তাই সামগ্রিকভাবে অনলাইন প্রতিষ্ঠানকে খারাপ বলা যাবে না।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে উল্লেখ করে টিপু মুনশি বলেন, আড়াই লাখ টাকার মোটরসাইকেল এক লাখ টাকায় কিভাবে দেওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে চিন্তা করে তারপর বিনিয়োগ করতে হবে।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ই-কমার্সে অনেক মানুষ প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ আছে। ই-কমার্স পরিচালনার জন্য একটি আইন তৈরি করা প্রয়োজন। দেশের কোনো মানুষ যাতে ডিজিটাল বাণিজ্যে প্রতারিত না হয়, সে জন্য পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এ জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করা দরকার।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ বলেছেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ই-কমার্স জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মানুষ যাতে প্রতারিত না হয়, সে জন্য আইন করা দরকার। এ ব্যবসা পরিচালনার জন্য একটি রেগুলেটরি অথরিটি গঠন করা যেতে পারে। গুটিকয়েক প্রতারণাকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ই-কমার্স বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হবে না। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য প্রচারমাধ্যম, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগাতে হবে। তাহলে প্রতারণার সুযোগ কমে আসবে। রেগুলেটরি অথরিটিকে অত্যাধুনিক করে গড়ে তুলতে হবে এবং মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ই-কমার্স বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হবে না। আইনের আওতায় এতে ই-কমার্সকে সুশৃঙ্খল করতে হবে, যাতে করে কেউ প্রতারণা করতে না পারে। মানুষ কম দামে পণ্য পেতে চাইবে, এটাই বাস্তবতা। ই-ব্যবসার জন্য জামানত রাখার ব্যবস্থা করা যায়। ব্যবসা যত বড় হবে জামানত তত বেশি হবে। মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। মানুষকে প্রতারণার বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। মানুষ যাতে টাকা ফেরত পায়, সে জন্য সহযোগিতা করা প্রয়োজন।



সাতদিনের সেরা