kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অস্ত্র মামলা

স্বাস্থ্যের সেই মালেকের ১৫ বছর করে জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাস্থ্যের সেই মালেকের ১৫ বছর করে জেল

অস্ত্র আইনে করা মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আলোচিত গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে বাদলকে আলাদা দুই ধারায় ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে উভয় কারাদণ্ড একই সঙ্গে চলবে। এ কারণে তাঁকে ১৫ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে। গতকাল সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামিপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবে।

গতকাল সকাল ১১টার দিকে মালেককে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাঁর উপস্থিতিতে দুপুর ১২টায় বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। ১২টা ৬ মিনিটে সাজা ঘোষণা দিয়ে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালত থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় মালেক সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমার কাছ থেকে কিছুই পাইনি। সব সাক্ষী মিথ্যা। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমার কাছ থেকে কিছুই উদ্ধার হয়নি। আমি কোনো অন্যায় করিনি। আমি ন্যায়বিচার পাইনি।’

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে গাড়িচালক আবদুল মালেককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি জাল নোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ১১ জানুয়ারি অস্ত্র আইনের মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১-এর উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান চৌধুরী মালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। এরপর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালত মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। গত ৪ এপ্রিল মালেকের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন আদালত। বিচারকালীন বিভিন্ন সময়ে ১৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনে মালেক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। গত ১৩ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সালাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, মালেকের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। রায়ে বিচারক আলাদা দুটি ধারায় ১৫ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। দুটি ধারার সাজা একসঙ্গে চললে তাঁকে ১৫ বছর কারাভোগ করতে হবে।

এদিকে রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় মালেকের আইনজীবী শাহিন উর রহমান বলেন, ‘এ রায়ে আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।’

মালেকের স্বজনদের আহাজারি : মালেকের বিরুদ্ধে দুই ধারায় ১৫ বছর করে কারাদণ্ড ঘোষণার পরই তাঁর স্বজনরা আদালতের বাইরে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় মালেকের বোন বলেন, ‘আমার ভাই নির্দোষ। আমার ভাইকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। ভাইয়ের সঙ্গে আমাদেরও কারাগারে নিয়ে যান।’

মালেকের মা আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের বাসায় অস্ত্র ও মাদক কিছুই পায়নি। পুলিশ বাসায় কিছু একটা উল্টে বলে, বাসায় জাল টাকা আছে। এরপর আবার কোথায় একটা ফোন দিয়ে বলে, বাসায় অস্ত্র পাওয়া গেছে।’

 



সাতদিনের সেরা