kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

খালেদার মুক্তির মেয়াদ বাড়ল আরো ছয় মাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খালেদার মুক্তির মেয়াদ বাড়ল আরো ছয় মাস

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শর্ত সাপেক্ষে মুক্তির মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। গতকাল রবিবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান।

এর আগে গত ১৫ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে খালেদা জিয়ার কারাভোগের মেয়াদ ছয় মাস স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে। মেয়াদ শেষের আগেই প্রজ্ঞাপন জারি করে মেয়াদ বাড়ানো হলো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালেদা জিয়া শর্ত সাপেক্ষে যে জামিন পেয়েছেন এবং চিকিৎসা করাচ্ছেন, সেই সময় বৃদ্ধির জন্য তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। সে আবেদন যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেটা অনুমোদন দিয়েছি। একই শর্তে চতুর্থবারের মতো সাজা স্থগিতের মেয়াদ আগের সব শর্ত বহাল রেখে ছয় মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাস গণনা করা হবে। খালেদা জিয়াকে তাঁর নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য প্রথমে ছয় মাস সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। সে সুবিধা আবারও চতুর্থবারের মতো দেওয়া হলো। তিনি (খালেদা জিয়া) নিজ বাসায় থেকে যেভাবে চিকিৎসা নিতে চান, সেভাবে চিকিৎসা নেবেন। তবে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। পাশাপাশি অন্যান্য শর্ত বহাল থাকবে।

স্থায়ী মুক্তির যে দাবি ছিল সে বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তাহলে তাদের আদালতে যেতে হবে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পক্ষে যে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, সেটা আমরা নিয়েছি। আর বাদবাকি যেগুলো আছে তার জন্য আদালতে যেতে হবে।’

এর আগে চলতি মাসের প্রথমে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর এই আবেদন করেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মতামতের জন্য আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা আবার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠায়। সেখান থেকে মুক্তির মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসে।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এ মামলায় আপিলে তাঁর আরো পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন একই আদালত। রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

কারান্তরীণ অবস্থায়ই চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে তাঁকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। এভাবে কয়েক দফায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এবং হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়া হয়। এর মধ্যে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির জোর দাবি তোলেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান। সরকারের নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে গত বছরের ২৫ মার্চ শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। এর পর থেকে গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজায়’ আছেন খালেদা জিয়া।

 



সাতদিনের সেরা