kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

দুর্নীতি বন্ধে কঠোর হতে হবে সচিবদের

ওমর ফারুক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্নীতি বন্ধে কঠোর হতে হবে সচিবদের

দুর্নীতি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অন্যায়কারীদের শাস্তির আওতায় আনারও নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া সামরিক শাসনামলে জারি করা ৫১টি অধ্যাদেশ, ২২টি মন্ত্রণালয়/বিভাগে থাকা অনিষ্পন্ন বিষয় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এসংক্রান্ত ২০টি নির্দেশনাসংবলিত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সচিবদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। এরই আলোকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নির্দেশনাগুলো একত্র করে লিখিতভাবে সচিবদের কাছে পাঠিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানানোর জন্যও চিঠিতে সচিবদের বলা হয়েছে।

জানা গেছে, নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ভালো কাজ করলে পুরস্কার এবং অন্যায় করলে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত ও কার্যকর করার জন্য সচিবদের অধিকতর সজাগ ও সম্পৃক্ত হতে হবে। সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির অপব্যবহার যাতে কেউ করতে না পারে সে জন্য চুক্তির শর্তাবলির বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং চুক্তিতে অস্পষ্টতা পরিহারসহ নির্দিষ্ট সময় পর পর শর্তগুলো যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সময়োপযোগী করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন এলাকাভিত্তিক ঘোষিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শিল্পায়নের কারণে যেন পরিবেশদূষণ না হয় এবং কৃষিজমি কমে না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। রক্ষা করতে হবে পরিবেশ ও প্রকৃতি। পাহাড় ও টিলা অধ্যুষিত এলাকায় পরিবেশ রক্ষা ও ভূমিধস প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন অভিঘাত মোকাবেলায় বদ্বীপ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত অনেক কাজ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের করার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। নদ-নদী, খাল, হাওর-বাঁওড়ে খনন, নাব্যতা পুনরুদ্ধার, দখলমুক্তসহ জলজ অঞ্চল তীরবর্তী ভূমি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম নিতে হবে। করোনাকালীন অর্থনীতির চাকা সচল এবং উন্নয়নের গতি বজায় রাখার জন্য সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো নির্দেশ দেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পুরনো জেলখানার পাগলাগারদের নিকটবর্তী যে সেলে রাখা হতো, সেটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। নবনির্মিত ফায়ার স্টেশনে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে ফসলের ন্যায্য মূল্য অর্জন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। বেইলি রোডে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য নির্মিত ‘শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’ স্যুভেনির শপে পার্বত্য এলাকায় উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। করোনা মোকাবেলায় সবাইকে একযোগে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু সরকারি কর্মচারী হিসেবে নয়, দেশপ্রেমিক নাগরিক ও জনগণের সেবক হিসেবে জনকল্যাণে আত্মনিয়োগে সহকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

এ ছাড়া সামরিক শাসনামলে জারি করা ৫১টি অধ্যাদেশ ২২টি মন্ত্রণালয়/বিভাগে অদ্যাবধি অনিষ্পন্ন রয়েছে, যা আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকরের উদ্যোগ নিয়ে নিষ্পত্তি করতে হবে। আগামীতে নিয়মিত সচিবসভা আয়োজন করাসহ প্রয়োজনে একাধিক দিন সচিবসভা আয়োজন করা যেতে পারে।



সাতদিনের সেরা