kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

এবার ইভ্যালি গোটাল অফিস

অনলাইনে চলবে কার্যক্রম ♦ গ্রাহকের আগের টাকা ফেরত না দিয়ে ফের নিত্যনতুন অফার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার ইভ্যালি গোটাল অফিস

সময়ের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল এবং তাঁর স্ত্রী চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফের প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে তালা পড়েছে। হঠাৎ প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। পণ্য না পাওয়া ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা বন্ধ ইভ্যালির ধানমণ্ডির প্রধান কার্যালয়ের সামনে ভিড় করছেন। গতকাল শনিবারও অনেকেই সেখানে খণ্ড খণ্ড মিছিল করে স্লোগান দিয়েছে।

কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে গতকাল ইভ্যালির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়, ইভ্যালির কর্মীরা নিজ নিজ বাসায় থেকে অফিস করবেন।

বন্ধ ইভ্যালি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের একজন হাসনাত করিম। তিনি গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিন লাখ টাকা দামের দুটি মোটরসাইকেল অর্ডার করেছিলেন। অফারে কম দামে মোটরসাইকেল দুটি অর্ডার করলে ৪৫ দিনের মধ্যে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল ইভ্যালি। গতকাল পর্যন্ত তিনি মোটরসাইকেল দুটি পাননি। ইভ্যালি কার্যালয়ের সামনে হাসনাত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন আমার পণ্য কিভাবে ফেরত পাব? কার্যালয়ে এ পর্যন্ত দশবার এলাম, কোনো লাভই হলো না। প্রতিবার একই কথা বলে ওরা। আজ তো তালা ঝুলছে, কথাই বলতে পারলাম না।’

এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইভ্যালিতে তিনি দুই কোটি টাকার পণ্য অর্ডার করেছিলেন। এখন পর্যন্ত সেগুলো পাননি তিনি। ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ তাঁকে টাকা ফেরত দেবে বলেছিল, কিন্তু সেই টাকাও তিনি এখনো পাননি।

বৃহস্পতিবার ইভ্যালির দুই কর্ণধার গ্রেপ্তার হওয়ার পর শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। বেশির ভাগ গ্রাহক কালের কণ্ঠকে জানান, ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানকে বিচারের আওতায় আনা জরুরি। কারণ এসব লোকের কারণে অনলাইন ব্যবসা ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে। সরকারের উচিত রাসেল ও শামীমার কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। তাঁদের সম্পত্তি থেকে গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এই দায় থেকে তাঁরা যেন মুক্তি না পান। এমনকি তাঁদের যে শাস্তিই হোক না কেন, টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত যেন তাঁরা ব্যবসা না করতে পারেন।

তবে কিছু গ্রাহক জানান, ইভ্যালির রাসেল ও শামীমাকে ছেড়ে দেওয়া হোক। কারণ তাঁরা গ্রাহকদের পণ্য ফেরত দিতে ছয় মাস সময় চেয়েছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আন্দোলনকারীর মধ্যে একজন বলেন, ‘রাসেল ও তাঁর স্ত্রীর নামে যে মামলা করা হয়েছে তার যথাযথ প্রয়োগ যেন হয়। ব্যবসার নামে জনগণের সঙ্গে তাঁরা প্রতারণা করেছেন। সময়মতো পণ্য না পাওয়ায় আমরা হয়রানির শিকার হয়েছি।’ এঁদের মধ্যে একজন জায়েদি হোসেন আকিব ইভ্যালিতে ২৭ হাজার টাকার কম্পিউটার অ্যাকসেসরিজ অর্ডার করেছিলেন। পণ্য অর্ডার দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মাস পার হলেও তিনি এখনো সেগুলো পাননি। তিনি বলেন, ‘আমার মতে, ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যেন ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রতারণা আর কেউ না করে। ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান যেন সবার কাছে বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে।’



সাতদিনের সেরা