kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বাইডেনের সভায় ছয় দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

নিউ ইয়র্কের পথে এখন হেলসিংকিতে তিনি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাইডেনের সভায় ছয় দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অংশীদারির ভিত্তিতে সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করার জন্য বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে আগে থেকে ধারণ করা ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ‘জলবায়ু ও জ্বালানি বিষয়ে বড় অর্থনীতিগুলোর ফোরাম’ শীর্ষক ওই সম্মেলন আয়োজন করেন। আগে ধারণ করা প্রধানমন্ত্রীর  ভাষণ সেখানে প্রচার করা হয়।

এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক যাওয়ার পথে শেখ হাসিনা গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে পৌঁছান।

বাইডেনের সভায় প্রচার করা ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোকে অংশীদারির ভিত্তিতে বিশ্বব্যাপী সব অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ফোরামের বিবেচনার জন্য ছয় দফা প্রস্তাব রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম প্রস্তাবে প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্যে তাদের কার্বন নির্গমন হ্রাস করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা তাঁর দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলেন, জলবায়ু তহবিলের জন্য উন্নত দেশগুলোর বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলারের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে এবং অভিযোজন ও প্রশমনের মধ্যে ৫০ঃ৫০ বিতরণ করতে হবে। তৃতীয় প্রস্তাবে তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের পাশাপাশি সবচেয়ে কার্যকর জ্বালানি সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

তাঁর চতুর্থ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উত্তরণের ক্ষেত্রে, জাতি-রাষ্ট্রগুলোর সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোর হিসাব নেওয়া এবং তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লোকসান ও ক্ষতির বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর পঞ্চম প্রস্তাবে বলেছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব সব দেশের ভাগ করে নেওয়া দরকার।

তিনি আগামী নভেম্বরে গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিতব্য কপ২৬ সম্মেলনে দৃঢ় ও তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল কামনা করেন এবং এ লক্ষ্যে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তিনি আরো বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার প্রভাব ছাড়াও ১১ লাখ রোহিঙ্গা জোরপূর্বক মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে বাংলাদেশ গুরুতর জলবায়ু প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে।

হেলসিংকিতে প্রধানমন্ত্রী : গতকাল সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে পৌঁছেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে তিনি গতকাল সকালে ঢাকা ছাড়েন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর ইতালি সফরের দেড় বছর পর এটি তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইট গতকাল সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে হেলসিংকির উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

জানা গেছে, সফরসূচি অনুযায়ী তিনি হেলসিংকিতে দুই দিন যাত্রাবিরতি করবেন। হেলসিংকি সময় আগামীকাল রবিবার বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা) হেলসিংকি থেকে তিনি নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। নিউ ইয়র্ক সময় রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় (বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৪টায়) নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং সেখানে বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য সরকারি সফরের অংশ হিসেবে ১৯ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে অবস্থান করবেন। নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী বিগত বছরগুলোর মতো এবারও বাংলায় ভাষণ দেবেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আহ্বানে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের একটি ছোট দলের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, শেখ হাসিনা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। হেলসিংকিতে যাত্রাবিরতির পর তিনি ১ অক্টোবর দেশে ফিরবেন।



সাতদিনের সেরা