kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সংসদে ক্ষোভ, ব্যবস্থা দাবি

ভিওআইপি সিন্ডিকেটের কারণে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভিওআইপি সিন্ডিকেটের কারণে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেছেন, অবৈধ ভিওআইপির ভয়াবহ সিন্ডিকেটের কারণে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। মাসে ৩৭৫ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত টেলিটক। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের ৩০০ বিধিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর বিবৃতি এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। তিনি জোরগলায় বলেন, টেলিটকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা মিলে এই অবৈধ ভিওআইপি কারবার করছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ নিয়ে পীর ফজলুর রহমান বলেন, অবৈধ ভিওআইপির অবৈধ সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে বাংলাদেশ সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বিটিআরসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ ভিওআইপির কারণে সরকারের দৈনিক সাড়ে ১২ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়, যা মাসিক হিসাবে ৩৭৫ কোটি টাকা এবং বার্ষিক হিসাবে চার হাজার ৫৬২ কোটি টাকার বেশি।

তিনি বলেন, ‘আশ্চর্যজনকভাবে এই অবৈধ ভিওআইপির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিটক। সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে রাজধানীর নিউ মার্কেট, তুরাগ ও শাহ আলী থানা এলাকায় বিটিআরসি ও র‌্যাব মিলে অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায় জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়। সেখানে ব্যবহৃত মোবাইলের যে সিম পাওয়া যায়, সেই সিম টেলিটকের তিন হাজার ৪৮৩টি। পরবর্তী সময়ে বিটিআরসি তদন্তের জন্য টেলিটকে গেছে এবং একটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অবৈধ ভিওআইপি কাজে ব্যবহৃত সিমগুলো একটি এনআইডির অনুকূলে একটি সেলস পয়েন্ট থেকে বিক্রি করা হয়েছে।

এ সময় ওই সংসদ সদস্যকে থামিয়ে দিয়ে স্পিকার এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে কার্যপ্রাণালির কোনো সুনির্দিষ্ট বিধিতে নোটিশ দেওয়ার আহ্বান জানান। তখন পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে মাননীয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর ৩০০ বিধিতে বিবৃতি প্রয়োজন। কারণ তদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে, অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়েছেন আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিটকের কর্মকর্তারা। এই প্রতিষ্ঠানের এমডি সাহাব উদ্দিন সাহেব। সংবাদমাধ্যমেও এসেছে। সাহাব উদ্দিন সাহেব ও কিছু কর্মকর্তা এবং তাঁদের সঙ্গে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা মিলে এই অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা করছেন। এতে সরকার ও টেলিটক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ তিনি ওই সব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতার শাস্তি দাবি করেন।

বিভিন্ন দাপ্তরিক নথি ও কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধান বলছে, সরকারি মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটক রয়েছে ভিওআইপি কারবারের শীর্ষে। বিভিন্ন অভিযানে যত সিম জব্দ হয়েছে, তার প্রায় ৮৫ শতাংশই টেলিটকের। সংস্থাটির উচ্চ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ভয়াবহ এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল হক ওরফে শারুন চৌধুরী। রাজধানীর গুলশানে অফিস খুলে তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন দেশের ভিওআইপি কারবারের বড় একটি অংশ। এ কারবারে তাঁর অন্যতম সহযোগী টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাহাব উদ্দিন। টেলিটকের কর্মকর্তাদের কেউ শারুন-সাহাব সিন্ডিকেটের বাইরে গেলে তাঁদের চাকরিচ্যুতি, এমনকি নির্যাতনের শিকারও হতে হয়। শারুন-সাহাব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে।

বিটিসিএলে ক্রয় বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ওএসডি করা হয়েছিল সাহাব উদ্দিনকে। তাঁর বেশুমার দুর্নীতির কারণে বিটিসিএলের টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (বিডি-পি ৫৩) থেকে অর্থ প্রত্যাহার করে নেয় জাপানি দাতা প্রতিষ্ঠান জাইকা। তখন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন অ্যাডভোকেট তারানা হালিম। ভিওআইপি কারবারে সম্পর্কের সূত্র ধরে সাহাব উদ্দিন ধরনা দেন শারুনের কাছে। শারুনের নানামুখী তদবির ও একান্ত চেষ্টায় দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়ে যান সাহাব। পরে শারুনের সহযোগিতায় টেলিটকের বড় একটি প্রকল্পে পরিচালকের (পিডি) পদও বাগিয়ে নেন সাহাব উদ্দিন।

ইভ্যালি প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা : পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারের গাফিলতির কারণেই ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জের মতো প্রতিষ্ঠান ব্যবসার নামে প্রতারণা করে হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। যাঁরা টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন, তাঁদের টাকা সরকারকে ফিরিয়ে দিতে হবে। পরে সরকার ওই সব প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা আদায় করবে।



সাতদিনের সেরা