kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

১২ বছরের শিক্ষার্থীদেরও টিকার ব্যবস্থা হচ্ছে

ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা পাবে ৫০% মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা পাবে ৫০% মানুষ

সংসদে প্রধানমন্ত্রী । ফাইল ছবি

আসছে ডিসেম্বরের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে করোনার টিকার আওতায় আনতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি জানান, ১২ বছর ও এর বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় নিয়ে আসা, প্রতিবন্ধীদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সুবর্ণ কার্ডের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা দেওয়া এবং শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এসংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে বয়সসীমা ১৮ পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সরকারের পদক্ষেপে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৪ কোটি ৬৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৬০ ডোজ টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় চার কোটি ৪৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে। প্রতি মাসে যাতে এক কোটি ডোজ বা এর বেশি টিকা পাওয়া যায়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অক্টোবর থেকে প্রতি মাসে দুই কোটি হিসাবে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ছয় কোটি সিনোফার্ম টিকা পাওয়া যাবে।

করোনার সংক্রমণ এখনো চলমান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি, সবার সহযোগিতায় চলমান এই বৈশ্বিক মহামারি সফলভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হব। পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। এ জন্য টিকা নেওয়ার পাশাপাশি সবাইকে নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।’ পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকা প্রদান করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদ নেতা জানান, চলমান টিকা কার্যক্রম জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এরই মধ্যে সব বিভাগীয় সদর, জেলা সদর ও উপজেলা সদরে অবস্থিত ৬৭৩টি টিকাকেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মজুদ ভ্যাকসিনের পরিমাণ ৯৬ লাখ ৫৪ হাজার ১১৯ ডোজ। এ পর্যন্ত দুই কোটি ৯ লাখ ২২ হাজার ৭১৫ জনকে প্রথম ডোজ এবং এত কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬ জনকে দ্বিতীয় ডোজসহ সর্বমোট তিন কোটি ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬১ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্দিষ্ট অনুপাতে ভ্যাকসিন বা টিকা দেওয়া যায়, তাহলে ওই কমিউনিটিতে আর সংক্রমণ হয় না। হার্ড ইমিউনিটি তৈরির জন্য প্রতি ১০০ জনের মধ্যে কতজনকে টিকা দিতে হবে, তা বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন হয় এবং কভিড-১৯-এর বেলায় এটি কত হবে, তা নির্ধারণ করা যায়নি; যা এখনো গবেষণাধীন। সে জন্য ১৮ বছরের ওপরের সব বাংলাদেশি নাগরিককে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, পৃথিবীর সব উন্নত দেশে স্বাস্থ্যসেবায় টিস্যু ব্যাংকিং গবেষণা ও সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশে এত দিন এ কার্যক্রম হয়েছে সীমিতভাবে। টিস্যু ব্যাংকিং সেবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ মানবটিস্যু বা কোষ ব্যাংক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্পের সুফলভোগী হিসেবে চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। এ প্রকল্পের আওতায় টিস্যু ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে এবং বিভিন্ন জটিল ও দুরারোগ্য রোগ, পঙ্গুত্ব, পুড়ে যাওয়া রোগীদের জন্য বায়োম্যাটেরিয়াল তৈরি ও ব্যবহারের উদ্দেশ্যে গবেষণা পরিচালনাসহ দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় টিস্যু ও সেল থেরাপিভিত্তিক চিকিৎসাসেবার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সরকারি দলের সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগরের প্রশ্নের লিখিত জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা জানান, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারের পক্ষ থেকে দেশে ও প্রবাসে বিভিন্ন পেশার শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাঁর সরকার ৪২টি শিল্প সেক্টরে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কলকারখানাগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি (স্কেলভিত্তিক) চার হাজার ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করে আট হাজার ৩০০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তৈরি পোশাক শিল্প কারখানাগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি (স্কেলভিত্তিক) এক হাজার ৬৬২ থেকে পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে আট হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা