kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

৩০ লাখ টাকার সরঞ্জামসহ টেলিটকের ৯০০ সিম জব্দ

► ভিওআইপির অবৈধ স্থাপনায় বিটিআরসির অভিযান
► একজন সৌদিপ্রবাসীসহ চারজনের সিন্ডিকেট জড়িত
► এনওসি বলছে কারবারে টেলিটক কর্মকর্তারা জড়িত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩০ লাখ টাকার সরঞ্জামসহ টেলিটকের ৯০০ সিম জব্দ

রাজধানী ঢাকায় ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল বা ভিওআইপির অবৈধ স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি আবারও টেলিটকের ৯০০ সিমসহ ৩০ লাখ টাকার সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। বিটিআরসি বলছে, ভিওআইপির এই অবৈধ স্থাপনা বা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই লাখ ৩০ হাজার মিনিট হারে কল হতো, যার ফলে সরকার প্রায় সাত কোটি টাকার রাজস্ব হারায়। আলী নামে সৌদিপ্রবাসীসহ চারজনের সিন্ডিকেট প্রায় দেড় বছর ধরে এ অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। আলী সৌদি আরব থেকে চোরাইপথে আন্তর্জাতিক কল বাংলাদেশে পাঠাতেন। স্থাপনাটি থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মূল কারবারিদের কেউ ধরা পড়েনি। তদন্তের স্বার্থে বিটিআরসির কর্মকর্তারা সৌদিপ্রবাসী আলীসহ এই চোরাই সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের বিস্তারিত পরিচয় জানাননি।

বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, গতকাল সন্ধ্যায় ভিওআইপির অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে বিটিআরসি প্রযুক্তিভিত্তিক সোর্স এবং র‌্যাব-২-এর সহায়তায় এই অভিযান চালায়। বিটিআরসির এনফোর্সমেন্ট টিমের সম্পূর্ণ কারিগরি দক্ষতা ও এনটিএমসির প্রযুক্তিগত সহায়তায় পরিচালিত এই অভিযানে একটি আবাসিক স্থাপনা থেকে ৫১২ পোর্ট-এর তিনটি এবং ২৫৬ পোর্টের দুটি সিমবক্স, সাতটি ল্যাপটপ, পাঁচটি মডেম, একটি সুইচ ও ৯০০টি টেলিটক সিম জব্দ করা হয়।

এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে এবং ভিওআইপির অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে কমিশনের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

এর আগে ২০১৯ সাল থেকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত ৩১টি অপারেশনে অবৈধ ভিওআইপিতে ব্যবহার করা ৫১ হাজার ৩৩১টি সিম উদ্ধার করা হয়। এসব সিমের মধ্যে টেলিটকেরই ৩৯ হাজার ৮২৫টি সিম। বাকি সিমের মধ্যে রবির ৯ হাজার ৩৭৯, এয়ারটেলের এক হাজার ২১৯, গ্রামীণফোনের ৬২৭ এবং বাংলালিংকের ২৮১টি। দুটি কলসেন্টার ও দুটি ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিফোনের সার্ভিস প্রোভাইডার্স বা আইপিটিএসপিতে ভিওআইপি সরঞ্জাম মেলে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের জরিমানার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। মামলা চলছে ৯টি। তবে এসব মামলাতেও মূল হোতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

এর আগে সর্বশেষ গত ৩ ও ৪ ফেব্রুয়াারি বিটিআরসি ও র‌্যাব ভিওআইপির অবৈধ কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। ওই অভিযানে রাজধানী ঢাকার নিউ মার্কেট, তুরাগ ও শাহআলী থানা এলাকা থেকে ভিওআইপির অবৈধ কারবারে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ১৯টি সিমবক্স ডিভাইস, ৪১৬টি জিএসএম এন্টেনা, তিন হাজার ৪০০টি টেলিটক সিম ও সাত মিনি কম্পিউটারসহ অন্য ভিওআইপিসামগ্রী। কিন্তু এই চক্রের মূল হোতাদের খোঁজ নিতে আগ্রহ দেখায়নি বিটিআরসি।

জানা যায়, গত ২৩ ও ২৪ মার্চ টেলিটকের নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) এবং রাজউক কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সে এর প্রধান কার্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিটিআরসির পরিদর্শক দল। পরিদর্শনে যেসব তথ্য মেলে তাতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে ভিওআইপির অবৈধ কারবারের সঙ্গে টেলিটকের কর্মকর্তারা জড়িত। তাঁদের এই পরিদর্শন প্রতিবেদন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।



সাতদিনের সেরা