kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

চমকহীন বিশ্বকাপ দলে আছেন শামীমও

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চমকহীন বিশ্বকাপ দলে আছেন শামীমও

ছোটদের দুনিয়া থেকে বড়দের বিশ্বমঞ্চে পা রাখতে তাঁর লাগল মাত্র দেড় বছর। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে আকবর আলীর নেতৃত্বে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের যুব বিশ্বকাপ জয়ের সাফল্যে অন্যতম অংশীদার শামীম হোসেন পাটোয়ারী এবার যাচ্ছেন বড়দের বিশ্বকাপেও। জিম্বাবুয়ে সফরে সিরিজ ভাগ্যনির্ধারণী টি-টোয়েন্টিতে অপরাজিত ৩১ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংসই মূলত তাঁর জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুয়ার খুলে দিয়েছে। কারণ এরপর দেশে ফিরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার ম্যাচ খেলে তেমন কিছু করতে না পারলেও হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠের ঝলক দেখেই তাঁর সামর্থ্যে আস্থা রেখেছেন নির্বাচকরা। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল নিয়ে উল্লেখযোগ্য খবর বলতে এই শামীমের অন্তর্ভুক্তিই।

নিজেকে বিশ্বকাপ দল থেকে সরিয়ে নিয়ে কিছুদিন আগেই সবচেয়ে বড় খবর হয়ে গেছেন তামিম ইকবাল। তা ছাড়া পর পর তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজজয়ী দলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আচমকা কারো চমক হিসেবে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনাও একদমই ছিল না। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় কুড়ি-বিশের বিশ্ব আসরের জন্য কাল দুপুরে ঘোষিত বাংলাদেশ দলটি তাই প্রত্যাশিতই ছিল। জিম্বাবুয়ে সফর থেকে শুরু হওয়ার পর দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও সিরিজ জেতার অব্যাহত যাত্রায় যাঁরা ঘুরেফিরে খেলেছেন এবং দলের সাফল্যে অবদান রেখেছেন, তাঁদের নিয়েই ১৫ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন।

কিউইদের বিপক্ষে আজ শেষ হতে যাওয়া সিরিজের দল অবশ্য ছিল ১৯ জনের। সেখান থেকে যে চারজন বাদ পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে মোসাদ্দেক হোসেনই শুধু সর্বশেষ ১২ ম্যাচের একটিতে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে এক ম্যাচ খেলা এই অফস্পিনিং অলরাউন্ডার ছাড়া অন্য তিনজন কোনো ম্যাচ না খেলেই বাদ পড়েছেন। তাঁরা হলেন তাইজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।

শেষের দুজন অবশ্য না থেকেও আছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বকাপ দলের সঙ্গী হচ্ছেন তাঁরা। কারণ কভিড মহামারিকালীন বাস্তবতায় প্রতিটি দলই আইসিসির কাছে বিশ্বকাপ দলে বাড়তি সদস্য রাখার সুযোগ চেয়েছিল। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেই সুযোগ দিয়েছে। তবে শর্ত হলো বাড়তি সদস্যদের সফরে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে রাখার খরচ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) নিজেদের খরচায় নিয়ে যাচ্ছে পেসার রুবেল ও লেগস্পিনার আমিনুলকে। অন্যভাবে এই দুজনের অন্তর্ভুক্তি বাদ দিলে মোসাদ্দেক ও তাইজুলের ছিটকে পড়া একরকম অনুমিতই ছিল।

জিম্বাবুয়েতে সামর্থ্যের স্ফুরণ দেখিয়ে দলে ঢুকে পড়া শামীমের সঙ্গে এই প্রথম বিশ্বকাপের স্বাদ পেতে চলেছেন আরো পাঁচজন। তাঁরা হলেন নাঈম শেখ, আফিফ হোসেন, শরীফুল ইসলাম, শেখ মেহেদী হাসান ও নাসুম আহমেদ। অবশ্য লিটন কুমার দাস ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনও এই প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে বিশ্বকাপে খেলার ‘প্রথম’ অনির্বচনীয় অনুভূতির ব্যাপার নেই। কারণ তাঁরা দুজনই যে ২০১৯ সালে খেলে ফেলেছেন ওয়ানডের বিশ্বকাপও।

বিশ্বকাপের বাংলাদেশ স্কোয়াড : মাহমুদ উল্লাহ (অধিনায়ক), নাঈম শেখ, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান, শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও শামীম হোসেন।

স্ট্যান্ড বাই : রুবেল হোসেন ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।

 



সাতদিনের সেরা