kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভাঙা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

গরিবের ঘরে এরা হাত দেয় কিভাবে?

বিশেষ প্রতিনিধি   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গরিবের ঘরে এরা হাত দেয় কিভাবে?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে দেশজুড়ে গৃহহীনদের বিনা মূল্যে দেওয়া আশ্রয়ণ (আশ্রয়ণ-২) প্রকল্পের ঘর হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ভেঙে মিডিয়ায় অপপ্রচারের অভিযোগ করে বলেছেন, গরিবের ঘরে এরা হাত দেয় কিভাবে? তিনি বলেন, তদন্তে এসব কাজে জড়িতদের নাম বেরিয়ে এসেছে এবং পুরো রিপোর্টই তাঁর কাছে রয়েছে। ৩০০টি ঘর কিছু মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে গিয়ে হাতুড়ি শাবল দিয়ে ভেঙে এরপর মিডিয়ায় ছবি তুলেছে। তিনি এ ঘটনায় হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘আমরা সেগুলো মোকাবেলা করেছি। তবে আমাদের নেতাকর্মীদের এ ব্যাপারে আরো সতর্ক থাকা দরকার।’

গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এসব অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশে বত্তৃদ্ধতা করেন। দরিদ্র অসহায় জনগোষ্ঠীর সম্পদ ধ্বংসকারী কিছু মানুষের মনোবৃত্তিকে ‘জঘন্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, যখন ঠিক করলাম প্রত্যেকটি মানুষকে আমরা ঘর করে দেব, কিন্তু দেশের কিছু মানুষ এত জঘন্য চরিত্রের; আমি কয়েকটি জায়গায় দেখলাম ঘর ভেঙে পড়ছে, বিভিন্ন জায়গার এমন ছবি দেখার পর সার্ভে করালাম কোথায় কী হচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রায় দেড় লাখ ঘর আমরা বিভিন্ন এলাকায় তৈরি করে দিয়েছি। ৩০০টি ঘর কিছু মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে গিয়ে হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ভেঙে এরপর মিডিয়ায় ছবি তুলেছে। এদের নামধাম তদন্ত করে সব বের করা হয়েছে। আমার কাছে পুরো রিপোর্ট আছে।’ প্রধানমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘গরিবের জন্য ঘর করে দিচ্ছি, সেই ঘরগুলো এভাবে যে ভাঙতে পারে, ছবিগুলো দেখলে দেখা যায়। আর যেসব মিডিয়া এগুলো ধারণ করে আবার প্রচার করে; সেটা কিভাবে হলো (ঘর ভাঙল) সেটা কিন্তু তারা (প্রচার) করছে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক জায়গায় যেমন ৬০০ ঘর করা হয়েছে। সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাতে মাটি ধসে কয়েকটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ৯টি জায়গায় আমরা পেয়েছিলাম, যেখানে কিছুটা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু অন্যত্র আমি দেখেছি যে প্রত্যেকেই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।’ তিনি বলেন, ইউএনও এবং ডিসিসহ সরকারি কর্মচারীদের ওপর এগুলোর তদারকির দায়িত্ব ছিল, যাঁদের অনেকেই এই ঘর তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে এসেছেন। যাঁরা ইট তৈরি করেন তাঁরাও এগিয়ে এসেছেন। অনেকে অল্প পয়সায় ইট সরবরাহ করেছেন। এভাবে সবার সহযোগিতা ও আন্তরিকতাটাই বেশি। কিন্তু এর মধ্যে দুষ্ট বুদ্ধির কিছু (অসাধুচক্র) কাজটি করেছে। সেটাই সবচেয়ে কষ্টকর। এ ধরনের ঘটনা দেখা বা জানার পর স্থানীয় যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতারা সরেজমিনে গিয়ে নিজেরাও তদারকি করছেন এবং তাঁকে ছবি পাঠাচ্ছেন।

দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে : শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগকে তৃণমূল পর্যায় থেকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আসছে, কাজেই দলকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলার বিষয়ে আমাদের মনোযোগী হতে হবে।’ তিনি বলেন, এবারের করোনাভাইরাসের সময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেভাবে আর কোনো রাজনৈতিক দলকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি দেখেননি। কেউ দাঁড়ায়নি। এ ব্যাপারে অন্য দলগুলোর কোনো আগ্রহ ছিল না। তাদের কাজই ছিল প্রতিদিন টেলিভিশনে বত্তৃদ্ধতা বা বিবৃতি দেওয়া এবং আওয়ামী লীগের সমালোচনা করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের সময় সরকারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। তবে কখনো সরকারের একার পক্ষে এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে একটাই কারণে যে আমাদের একটা শক্তিশালী সংগঠন তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আছে। আর সেটা আছে বলেই আমরা এটা করতে সক্ষম হয়েছি; যেটা আমার বিশ্বাস। জানি এ কথা কেউ হয়তো বলবেও না, লিখবেও না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এককভাবে শুধু সরকারি লোক দিয়ে সব কিছু করা সম্ভব হয় না। তাঁরাও করেছেন খুব আন্তরিকতার সঙ্গে। আমাদের প্রশাসনে যে যেখানে ছিল—পুলিশ বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, বিডিআর, আনসার, প্রত্যেকে এবং বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।’



সাতদিনের সেরা