kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মত

ফেসবুক মেসেঞ্জারে বিপদে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেসবুক মেসেঞ্জারে বিপদে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে

আপনি যদি ফেসবুক মেসেঞ্জারের ১.৩ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর একজন হন, তাহলে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে আপনার সরে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে; যদিও সাম্প্রতিক খবরে বলা হচ্ছে—এই প্ল্যাটফর্মটি নতুন করে সুরক্ষার বিষয় যোগ করছে। তবে সেখানে একেবারে বাজে কিছু বিষয় লুকানো আছে। সেগুলো কল্পনার চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে এই প্ল্যাটফর্ম। ফলে ফেসবুক ও এর নিরাপত্তাবিষয়ক সিস্টেমগুলো সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

অ্যাপলের বিতর্কিত সিএসএএম আপডেটের বিষয়টি শিরোনামে উঠে এসেছে। তবে ফেসবুক চুপিসারে মেসেঞ্জারে একটি বিশাল পরিবর্তন করে ফেলেছে। অ্যাপল যা করেছে তার তুলনায় এটি আপনার নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তার ক্ষেত্রে আরো গুরুতর প্রভাব ফেলছে।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসেঞ্জারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সব সময় ‘ডিফল্ট এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’-এর অভাব। কয়েক বছর দেরি করে এবং হতাশা দেখে ফেসবুক এখন বলছে যে তারা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিষয়টির কার্যকারিতা পরীক্ষা করছে। কিন্তু সেখানে দুটি বিশাল সমস্যা গোপন রয়েছে, যার উভয়টিই আপনাকে জানতে হবে, যদি আপনি অ্যাপটি ব্যবহার করা অব্যাহত রাখতে চান।

ফেসবুক তথ্য সংগ্রহের ব্যবসা করে—আমরা সবাই এটা জানি। ব্যবহারকারী সংগ্রহের ব্যবসাও আছে ফেসবুকের। শুধু সংখ্যার দিকে তাকান। ফেসবুকের চারটি অ্যাপ রয়েছে, যা তিন বিলিয়নের বেশি ইনস্টল করেছে। সেটি হলো ফেসবুক নিজেই, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রাম। এর বাইরে শুধু টিকটক এই সংখ্যা ছুঁয়েছে।

কিন্তু এসব প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারী কিন্তু এক রকম নয়। সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ একেবারেই আলাদা। আপনাকে এই প্ল্যাটফর্মে টেনে নিয়ে আসার জন্য কোনো ‘অ্যালগরিদমিক’ বিষয়বস্তু নেই। এখানে স্ক্রল করার সময়সীমা নেই, শুধু কারো সঙ্গে কিংবা গ্রুপে চ্যাট করা যায়; যেখানে ব্যবহারকারীরা একে অপরকে গোপনীয়ভাবে বার্তা পাঠায়। ফেসবুক বিজ্ঞাপন দেখায় এবং ব্যাবসায়িক পরিষেবাগুলোকে ‘প্রমোট’ করে। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ আলাদা।

বহু নামকরা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলছেন, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সবখানে হওয়া উচিত। ইন্টারনেট সিকিউরিটি কম্পানি ইএসইটির জ্যাক মোর বলেছেন, মেসেঞ্জার সব ধরনের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের গুরুত্বকে ‘ডিফল্ট’ করার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্মের প্রতি আস্থা বাড়াবে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্ধ হয়ে গেছে।

ফেসবুক বলেছে, মেসেঞ্জার এনক্রিপশন এই প্ল্যাটফর্মে শিশু নির্যাতনের বিষয়টি চিহ্নিত করার ক্ষমতা কমিয়ে ফেলবে না। এ বছরের শুরুর দিকে ফেসবুকের গ্লোবাল পলিসি ম্যানেজমেন্টের প্রধানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, শিশু নির্যাতনের রিপোর্ট করা ঘটনাগুলো এনক্রিপশনসহ ‘অদৃশ্য’ বা মুছে ফেলা হবে কি না।

সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমি আশা করি, এই সংখ্যা কমে যাবে। যদি কনটেন্ট শেয়ার করা হয় এবং সেই কনটেন্টে যদি আমাদের প্রবেশাধিকার না থাকে, তাহলে আমরা তা দেখতেও পারব না এবং রিপোর্টও করতে পারব না।’

এরই অংশ হিসেবে ফেসবুক এখন বলছে যে তারা ব্যবহারকারীদের কিছু অধিকার দেবে, যা দ্বারা ব্যবহারকারী ঠিক করবে কে তার ইনবক্সে পৌঁছতে পারে, তার রিকোয়েস্ট ফোল্ডারে কে যাবে এবং কে তাকে মোটেও বার্তা দিতে পারবে না—এসব নির্ধারণ করার সক্ষমতা দেবে। ফলে ব্যবহারকারীরা অবাঞ্ছিত মিথস্ক্রিয়া থামাতে পারবে।

 



সাতদিনের সেরা