kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

অভিযানে বাড়ে বৈধ কল

ভিওআইপির চোরাকারবারিরা তৎপর

কাজী হাফিজ ও হায়দার আলী   

৩১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



অভিযানে বাড়ে বৈধ কল

ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল বা ভিওআইপির অবৈধ কারবারিদের বিরুদ্ধে যখনই বিটিআরসি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়, তখনই বেড়ে যায় বৈধ পথে আসা আন্তর্জাতিক কলের সংখ্যা। গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে এক অভিযানের পরদিন অন্তত ৮০ লাখ মিনিট কল বেড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অতীতেও এমন নজির আছে। তবে অভিযানের উত্তাপ থিতিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফের তৎপর হয়ে ওঠে চোরাকারবারিচক্র। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময়ই বৈধ পথে আন্তর্জাতিক কলের পরিমাণ কম থাকে। এতে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় সরকার।

দেশে আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদানের লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডাব্লিউ) অপারেটরদের ফোরাম আইওএফ-ও জানিয়েছে একই কথা। সংস্থাটি বলেছে, ভিওআইপির অবৈধ কারবার বন্ধ হলে এই খাত থেকে বছরে অন্তত ২১৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতে পারে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিও এ বাস্তবতা স্বীকার করে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে চাচ্ছে। সংস্থাটির সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত ও দক্ষ পর্যবেক্ষণ ছাড়া এই চোরাকারবার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই চুরিচামারি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। জ্ঞাতসারে আমি টেলিযোগাযোগ খাতে কোনো অন্যায় করতে দেব না—এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি এ ক্ষেত্রেও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।’

মন্ত্রীর এই নিশ্চয়তার পরও কর্তৃপক্ষের বিক্ষিপ্ত ও লম্বা বিরতির অভিযানে সংশয় দূর হচ্ছে না আইজিডাব্লিউ অপারেটরদের। বিটিআরসি নির্দেশিত ‘সেলফ রেগুলেশন’ অনুসরণ করে মোবাইল ফোন অপারেটররা নিজেরাই আগস্ট মাসের ২৪ দিনে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে সাড়ে সাত হাজার সিম। এর মধ্যে টেলিটকেরই সিম দুই হাজার ৩৮৮টি। তবে সেলফ রেগুলেশন পুরোপুরি প্রতিপালন হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। শুধু মোবাইল অপারেটর না, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডারদের সহযোগিতাও লাগে ভিওআইপির চোরাকারবারে। আইআইজি অপারেটরদের ক্ষেত্রে বিটিআরসির নির্দেশনা রয়েছে, ডিপিআই বা ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন করতে হবে। ডাটার মাধ্যমে ভয়েস কল এবং অন্যান্য ক্ষতিকর কনটেন্ট যাচ্ছে কি না, তা-ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে, কিন্তু এসংক্রান্ত যন্ত্র-সরঞ্জাম ব্যয়বহুল। লোকবলও প্রয়োজন। এ কারণে দায়সারাভাবেই প্রতিপালন হচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা।

কারা এই ভিওআইপির চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নেমে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে হাওয়া ভবনের প্রশ্রয়ে যারা এই চোরাকারবারে দক্ষ হয়ে ওঠে, তারা এখনো দেশে-বিদেশে অবস্থান নিয়ে সক্রিয়। ক্ষমতাসীন দলের হাইব্রিড কয়েকজন নেতার আত্মীয়-স্বজনও এই অপকর্মের অংশীদার। এদের মধ্যে হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের নামটি বেশি আলোচিত।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে এই শারুন চৌধুরীই সারা দেশের অবৈধ ভিওআইপি সিন্ডিকেটের মূল হোতা। টেলিটকের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে হাত করে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন এই অবৈধ কারবার। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে সিন্ডিকেটের অনেকে গ্রেপ্তার হলেও নাটের গুরুরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন। ফলে অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

বিটিআরসির অবস্থান : গত ২৭ জুলাই বিটিআরসির ২৫৩তম সভায় সংস্থাটির ইঅ্যান্ডআই বিভাগের মহাপরিচালক ভিওআইপির অবৈধ কারবার রোধে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। এই নথিতেও সংকটের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কার্যপত্রে বলা হয়, ভিওআইপি প্রযুক্তির অবৈধ ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন অননুমোদিত টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে বাইপাস করে একটি অসাধু চক্র আন্তর্জাতিক কল আনার ব্যবসা চালাচ্ছে। মোবাইল অপারেটরদের সিম ও পিএসটিএন (ল্যান্ডফোন) অপারেটরদের সার্কিটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তারা এই অপরাধমূলক কাজ করে যাচ্ছে। বিটিআরসি ভিওআইপির অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে সরেজমিন পরিদর্শনসহ বিভিন্ন মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছিল। ২০১০ সালে অবৈধ স্থাপনায় ব্যবহৃত নম্বরসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করার লক্ষ্যে বিটিআরসির প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনায় মোবাইল অপারেটরদের আর্থিক সহায়তায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সিমবক্স ডিটেকশন সিস্টেম ব্যবহার শুরু করে। পরে থ্রিজি লাইসেন্সিং গাইডলাইনে অবৈধ প্রক্রিয়ায় সিম নিবন্ধন নিরুৎসাহ করাসহ ভিওআইপি কল শনাক্ত করার লক্ষ্যে যথাযথ পদ্ধতি রাখার বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যার ধারাবাহিকতায় মোবাইল অপারেটররা সম্মিলিতভাবে সিমবক্স ডিটেকশন সিস্টেম স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রেখে আসছিল।

কার্যপত্রে আরো বলা হয়, মোবাইল অপারেটররা রিভ সিস্টেম লিমিটেডের সঙ্গে ‘সিমবক্স ডিটেকশন সার্ভিস’ সিস্টেমের চুক্তি করে ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। এর মেয়াদ ছিল গত ৩১ মে পর্যন্ত। এককালীন ২১ হাজার ৪৩৯ ইউএস ডলার এবং প্রতি মাসে সার্ভিস চার্জ ৯ হাজার ১৪৮ ইউএস ডলার নিয়ে রিভ সিস্টেম লিমিটেড এ সেবা চালু রাখে। এতে প্রতি মাসে টেস্ট কলের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৫০ হাজার, কিন্তু গত ২৩ মে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটব ই-মেইলে বিটিআরসিকে জানায়, সিমবক্স ডিটেকশন সিস্টেম (এসবিডি) পরিচালনাকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান রিভ সিস্টেম চিঠিতে জানিয়েছে যে ২০২১ সালের ৩১ মের পর তারা আর সেবা দেবে না। গত ৩১ মে থেকে ওই সেবা বন্ধ হয়ে যায়।

এতে আরো বলা হয়, ‘সিমবক্স ডিটেকশন সিস্টেমটি প্রথম দিকে কার্যকর হলেও গত এক বছর ভেন্ডরের দক্ষতা ও সিস্টেমের কারিগরি সক্ষমতায় ত্রুটি দেখা যায়। এ অবস্থায় বিটিআরসির তথা সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে আধুনিক প্রযুক্তির বিশেষায়িত ডিটেকশন সিস্টেম স্থাপনের লক্ষ্যে দ্রুত পরিকেল্পনা প্রণয়ন জরুরি।’ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষায়িত ডিটেকশন ও মনিটরিং সিস্টেম থাকলে সরকারের রাজস্ব বিপুল পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, এর ফলে বিটিআরসির নিজস্ব কারিগরি সক্ষমতাও বাড়বে।

কার্যপত্রে বলা হয়, ‘থ্রিজি লাইসেন্সিং গাইডলাইন অনুসারে অবৈধ কল টার্মিনেশন চিহ্নিত করা, এর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, ভুল তথ্যে সিম নিবন্ধন—এসবের  জন্য প্রয়োজনীয় সিস্টেম স্থাপন করা মেবাইল অপারেটরদের জন্য বাধ্যতামূলক। এ বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ না থাকায় বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরদের নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর  মনিটরিং এবং ডিটেকশন সিস্টেম স্থাপনে নতুন কোনো ভেন্ডরের সঙ্গে চুক্তি করে সার্ভিস চালুর জন্য একাধিকবার চিঠি দেয়, কিন্তু মোবাইল অপারেটররা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’

এমটবের বক্তব্য : এমটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অব.) গত শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অবৈধভাবে ব্যবহৃত সিমের ব্যবহার বন্ধে মোবাইল অপারেটররা সব সময় সচেষ্ট এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে। এ কাজে বিটিআরসি নির্দেশিত দুই স্তরে এ ধরনের সিম ডিটেক্ট করা হয়, যার মাধ্যমে বেশির ভাগ সিম যাচাই করা সম্ভব হয় এবং নিয়মিতভাবে রিপোর্ট প্রদান করা হয়। এর আগে সিমবক্সের মাধ্যমে যেভাবে অবৈধ সিম শনাক্ত হচ্ছিল তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং সম্প্রতি ওই কম্পানি নিজেরাই তাদের চুক্তি বাতিল করে। নতুনভাবে অন্য কোনো কম্পানির সঙ্গে চুক্তির বিষয় নিয়ে অপারেটরদের সঙ্গে বিটিআরসির আলোচনা চলছে।’

২৪ দিনে সাড়ে সাত হাজার সিম বন্ধ : এদিকে বিটিআরসি নির্দেশিত মোবাইল অপারেটরদের দুই স্তরের নিজস্ব  নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এসআর (সেলফ রেগুলেশন) এবং এসআরপিতেও (সেলফ রেগুলেশন প্রসেস) ভিওআইপির অবৈধ কারবারের যুক্ত থাকতে পারে—এমন সন্দেহের সিম প্রতিদিন শনাক্ত হচ্ছে। বিটিআরসিকে দেওয়া মোবাইল অপারেটরদের তথ্য অনুসারে, গত ১ আগস্ট থেকে গত ২৪ আগস্ট পর্যন্ত চার অপারেটরের এ ধরনের সিম শনাক্ত হয়েছে মোট সাত হাজার ৫৩৮টি। এর মধ্যে টেলিটকেরই দুই হাজার ৩৮৮টি। অন্য অপারেটরদের মধ্যে গ্রামীণফোনের ৬৯২টি, রবি/এয়ারটেলের দুই হাজার ৭৪৪টি এবং বাংলালিংকের এক হাজার ৭১৪টি। কোনো গ্রাহকের সিমে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি কল, কিংবা শুধু বহির্গামী কল, একই অবস্থান থেকে কল, স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ এসএমএস করা এবং আরো কিছু অস্বাভাবিক আচরণের তথ্য পেলে অপারেটররা নিজ উদ্যোগে ওই সিম বন্ধ করে দেয়।

আইওএফের বক্তব্য : দেশে আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদানের লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডাব্লিউ) অপারেটরদের ফোরাম আইওএফের কাছে কালের কণ্ঠ ভিওআইপির চোরাকারবার সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য জানতে চায়। ফোরামটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মুশফিক মঞ্জুর এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানান, বর্তমানে দেশে বৈধ ও অবৈধ পথে আসা আন্তর্জাতিক কলের বাজার রয়েছে দৈনিক প্রায় পাঁচ কোটি থেকে ছয় কোটি মিনিট। এই হিসাবের মধ্যে ওটিটি (ওভার দ্য টপ) কল অন্তর্ভুক্ত নয়। বর্তমানে বৈধ পথে সরকারি ও বেসরকারি আইজিডাব্লিউ হয়ে দৈনিক প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ মিনিট থেকে দুই কোটি মিনিট কল আসছে।

দেশে বৈধ পথে ঈদ উৎসবের দিনগুলো ছাড়াও সাধারণ দিনগুলোতে দিনে ১১ কোটি মিনিট আন্তর্জাতিক কল আসারও রেকর্ড রয়েছে, কিন্তু এখন তা আসছে না কেন—এ প্রশ্নে আইওএফের জবাব হচ্ছে, ভিওআইপির  অবৈধ কারবার এ জন্য প্রথমত ও প্রধানত দায়ী। এর ফলে সরকার ও আইজিডাব্লিউগুলো তথা দুই পক্ষরই প্রচুর লোকসান হচ্ছে জানিয়ে বলা হয়, দৈনিক অবৈধ পথে আসা তিন কোটি মিনিট কল থেকে বিদ্যমান রেটে সরকারের রাজস্ব হারানোর পরিমাণ বছরে ২১৮ কোটি টাকা এবং দেশের সব আইজিডাব্লিউর হারানো আয়ের পরিমাণ বছরে ১০৯ কোটি টাকা। এই বাস্তবতায় আইজিডাব্লিউ অপারেটরদের ব্যাংকঋণ, প্রশাসনিক ব্যয়, স্টেকহোল্ডারদের অর্থ পরিশোধ ও নিজেদের অর্থ পরিশোধের পর নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক আইজিডাব্লিউ ক্ষতি লাঘব করতে জনবল ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

ভিওআইপির অবৈধ কারবারিদের বিরুদ্ধে বিটিআরসির পদক্ষেপ যথেষ্ট কি না, আইওএফ এ প্রশ্নের উত্তরে বলে, বিটিআরসি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানের জন্য আইওএফ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ, কিন্ত শুধু এই অভিযান চলাকালে ভিওআইপি কার্যক্রমে সাময়িক ভাটা পড়ে; কিছু কল অবৈধ পথ থেকে বৈধ পথে পরিচালিত হয় এবং বৈধ পথে আসা কলের পরিমাণ সাময়িক বৃদ্ধি হয়। উদাহরণ দিয়ে আইওএফ বলে, গত ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে বিটিআরসি ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণে অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জাম ধরা পড়ার পর  ওই মাসে বৈধ পথে দৈনিক ৮০ লাখ মিনিট কল বেড়ে যায়। ফলে রাজস্ব আয়ের পরিমাণও দৈনিক ৪২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৫৮ লাখ টাকায় উন্নীত হয়, কিন্তু মার্চে আবারও কল কমতে থাকে। আগস্ট মাসে কলের পরিমাণ দাঁড়ায় দৈনিক এক কোটি ৯০ লাখে।

আইওএফ আরো লেখে, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, ভিওআইপির বিরুদ্ধে সরকারের এসব অভিযান বিক্ষিপ্তভাবে ও লম্বা বিরতিতে পরিচালিত হয়। ফলে অভিযানের রেশ কেটে যেতে ভিওআইপির চোরাকারবারিরা আবারও সচল হয়ে ওঠে এবং বৈধ পথে আসা কলের পরিমাণ কমে যায়।’ সরকার রুখে না দাঁড়ালে বিদেশ থেকে আসা কল আরো কমে যাবে বলেও আশঙ্কা আইওএফের।



সাতদিনের সেরা