kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আফগানিস্তানে ফিরেছেন শীর্ষ তালেবান নেতারা

সরকার গঠন নিয়ে শুরু আলোচনা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সরকার গঠন নিয়ে শুরু আলোচনা

ছবি: ইন্টারনেট

নির্বাসনে থাকা তালেবান নেতারা ক্ষমতা বুঝে নিতে আফগানিস্তানে ফিরেছেন। মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারসহ শীর্ষ নেতাদের গতকালই রাজধানী কাবুলে পৌঁছানোর কথা। তাঁদের পৌঁছানোর আগেই মধ্যম সারির তালেবান নেতারা সরকার গঠনের জন্য অন্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। এর মধ্যে জালালাবাদে তালেবানবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতায় তিনজন নিহত হয়েছে। এদিকে তালেবানের নেতৃত্বে নতুন আফগান সরকার গঠিত হলে সেটাকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি হবে না, সেই প্রশ্নে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছেন বিশ্বনেতারা। এ ছাড়া আফগানিস্তান ইস্যুতে জরুরি অধিবেশন করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট।

গত রবিবার তালেবানের হাতে কাবুলের পতন হয়। এর তিন দিনের মধ্যে দেশে ফেরেন নির্বাসনে থাকা তালেবান নেতারা। মঙ্গলবার তালেবানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সারির নেতাকে নিয়ে একটি বিশেষ বিমানে করে কাতারের দোহা থেকে কান্দাহারে পৌঁছান সংগঠনটির রাজনৈতিক শাখার প্রধান মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার। গতকালই দলটির কাবুলে পৌঁছে যাওয়ার কথা।

তালেবানের শীর্ষ নেতাদের দলটি কাবুলে পৌঁছানোর আগেই নতুন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তালেবান সংশ্লিষ্ট হাক্কানি নেটওয়ার্কের ঊর্ধ্বতন ও সামরিক কমান্ডার আনিস হাক্কানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, এমনটা জানিয়েছেন বিভিন্ন তালেবান কর্মকর্তা। আনিস হাক্কানি হলেন হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান সিরাজুদ্দিন হাক্কানির ছোট ভাই। ওই বৈঠকে দেশটির সদ্য সাবেক সরকারের শান্তি আলোচনা বিষয়ক দূত আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের একটি ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, তবে বৈঠকে কী কথা হয়েছে, সে সম্পর্কে জানা যায়নি।

তালেবানের সরকার গঠনের তোড়জোড়ের মধ্যে কমপক্ষে তিনটি শহরে তালেবানবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল বুধবার জালালাবাদ, কুনার ও খোস্ত শহরে আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা নিয়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। এসংক্রান্ত ভিডিও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জালালাবাদে মিছিল লক্ষ্য করে গুলি চালানোর খবরও পাওয়া গেছে। এতে তিন জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

আফগানিস্তানে নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে নারী অধিকার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও প্রায় এক ডজনের বেশি দেশের নেতা। বিবৃতিতে বলা হয়, আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীনরা যেন নারী ও মেয়েদের শিক্ষা, কাজ ও চলাফেরার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।

এদিকে তালেবানের নেতৃত্বে আফগানিস্তানের সরকার গঠনের যে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তা নিয়ে টেলিফোনে আলোচনা করছেন বিশ্বনেতারা। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কথা বলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন। পরে মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের সরকারপ্রধান ইমরান বলেন, ‘পাকিস্তান সব আফগান নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করছে।’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও যেন সঙ্গে থাকে, বিশেষ করে আফগান জনগণকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থাকে, এই আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসনের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, আফগানিস্তানের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি হতে হবে আন্তর্জাতিকভাবে, একক সিদ্ধান্তে নয়।’ তালেবান সরকার মানবাধিকার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে কিনা, সেটার ওপর নির্ভর করে তাদের বৈধতা দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করা হয় বিবৃতিতে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেও ফোন করার কথা ব্রিটিশ সরকারপ্রধান জনসনের। বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আফগান ইস্যুতে আলোচনার মধ্যেই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তোপের মুখে পড়েন তিনি। নিম্নকক্ষের ওই জরুরি অধিবেশনে জনসন দাবি করেন, আফগানিস্তানে ‘আমাদের অভিযান সফল হয়েছে’। তাঁর এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান হাউস অব কমন্সের নেতারা (এমপি)। কনজারভেটিভ পার্টির এমপি টম টুজেন্ডহ্যাট বলেন, যেভাবে ন্যাটো জোট আফগানিস্তান ছাড়ছে, তাতে তিনি ‘ক্ষুব্ধ, দুঃখিত এবং ক্রুদ্ধ’।

সরকারি কোষাগারে তালেবানের হাত পড়তে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র : আফগানিস্তানের সেন্ট্রাল ব্যাংকের যে অর্থ মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ও অন্যান্য মার্কিন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় আছে, সেই অর্থ যেন কোনোভাবেই তালেবানের হাতে না যায়, তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। বিষয়টির সঙ্গে জড়িত মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে এ কথা জানিয়েছে সিএনএন।

ঝুঁকিপূর্ণ আফগানদের গ্রহণ করা নিয়ে বিতণ্ডা : আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটের দুই দশকের অভিযানকালে যে আফগানরা বিভিন্নভাবে পশ্চিমাদের সঙ্গে কাজ করেছে, তালেবানের প্রত্যাবর্তনে তারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রাণহানির শঙ্কায় থাকা এসব আফগানকে সরিয়ে নিতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে পশ্চিমের বিভিন্ন দেশ। কানাডা ও ব্রিটেন দীর্ঘ মেয়াদে ২০ হাজার করে আফগানকে গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছে। বেঁকে বসেছে অস্ট্রেলিয়া। ন্যাটোর এ সদস্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী এক বছরে তিন হাজার আফগানকে নেওয়ার কথা জানিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমি খেয়াল করেছি, কেউ কেউ ২০ হাজার (আফগানকে) নেওয়ার কথা বলছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এ ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। অস্ট্রেলিয়া এসবের মধ্যে যাবে না।’ সূত্র : এএফপি, বিবিসি।



সাতদিনের সেরা