kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ত্রাণ দরিদ্রদের ঘরে ঘরে

কোটালীপাড়ায় দুস্থদের মুখে হাসি, উৎফুল্ল শিক্ষার্থীরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধি, কোটালীপাড়া থেকে   

১০ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে




শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ত্রাণ দরিদ্রদের ঘরে ঘরে

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লি. গতকাল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার কুশলা ইউনিয়নের ভিক্ষুক পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘অবলম্বন’-এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

স্বামী-সন্তান কেউই নেই সত্তরোর্ধ্ব ঊষা রায়ের। বিধবা কার্ডে পাওয়া সহায়তায় কোনোমতে দিন গুজরান তিনি। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের দেওয়া খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট পেয়ে চোখে জল রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলবাড়ী গ্রামের এই বৃদ্ধার। কৃতজ্ঞ কণ্ঠে বলেন, এই খাবার দিয়ে তাঁর কেটে যাবে বেশ কিছু দিন। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় গতকাল সোমবার ঊষার মতো অনেকের মনেই বয়ে গেছে খুশির জোয়ার। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এ ধরনের সহায়তা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন লকডাউনে কর্মহীন ব্যক্তিরা।

গতকাল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের পক্ষ থেকে দেওয়া বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী এবং শিক্ষা উপকরণ কোটালীপাড়ার প্রান্তিক অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে বিতরণ করা হয়েছে। বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় আট হাজার পরিবারে খাদ্যসামগ্রী এবং দুই হাজার শিক্ষার্থীর জন্য স্কুলব্যাগসহ শিক্ষা উপকরণ বিতরণের উদ্যোগ নেয় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র।

ক্লাবের দায়িত্বশীলরা জানান, মানবিক এ আয়োজনের নেপথ্যে দিকনির্দেশনা দেন ক্লাবের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর। খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেটে ছিল ১০ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, দুই লিটার সয়াবিন তেল এবং এক কেজি করে ডাল ও লবণ। দৃষ্টিনন্দন স্কুল ব্যাগের সঙ্গে ছিল ছয়টি খাতা, একটি করে পেন্সিল বক্স, কলম, পেন্সিল, শার্পনার, ইরেজার ও স্কেল।

অসহায় ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের আয়োজনে সম্পৃক্ত হন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। সকালে হিরণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ত্রাণ বিতরণকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, ‘আপনারা বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের জন্য দোয়া করবেন, তিনি যেন বারবার এখানে এসে আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পারেন। আল্লাহ যেন তাঁকে দীর্ঘ হায়াত দেন।’

এর আগে সকাল ১০টায় কোটালীপাড়া পৌরসভার সম্মেলনকক্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মেয়র হাজি মো. কামাল হোসেন শেখ আপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের এই মানবিক যুদ্ধ আমাদের খুবই অনুপ্রাণিত করেছে। তারা যেন শিক্ষার প্রসারে বারবার উদ্যোগ গ্রহণ করে, এই প্রত্যাশা রইল। কোটালীপাড়ার অজপাড়াগাঁর মানুষের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর যে দায়িত্ব নিয়েছেন, সেটি সত্যি প্রশংসনীয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘শেখ রাসেলের স্মৃতি ধরে রাখতে বসুন্ধরা গ্রুপ যে দায়িত্ব নিয়েছে, তা কোটালীপাড়ার মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। সায়েম সোবহান আনভীরকে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা পছন্দ করেন। নেত্রী যাঁকে পছন্দ করেন, আমরাও তাঁকে ইজ্জত করি।’

দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিন গত রবিবার টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের কাছে এসব সহায়তা হস্তান্তর করা হয়। গতকাল প্রান্তিক পর্যায়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে সহায়তা নিতে আসে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের হাতে এসব সহায়তা তুলে দেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের বিভিন্ন পর্যায়ের পরিচালক, সদস্য এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা।

সকাল ১০টায় কোটালীপাড়া পৌরসভার সম্মেলনকক্ষে সরকারি কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগসহ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। এরপর সকাল ১১টায় হিরণ ইউনিয়নের মাঝবাড়ী বিদ্যালয় মাঠে গরিব ও দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। দুপুর ১২টায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয় কুশলা ইউনিয়নের ভিক্ষুক পুনর্বাসন কেন্দ্রে। দুপুর ১টায় রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে, ২টায় কলাবাড়ী ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজারে, বিকেল ৩টায় রামশীল ইউনিয়ন পরিষদে এবং বিকেল ৫টায় কান্দি ইউনিয়নের ধারাবাশাইল স্কুল মাঠে গরিব ও দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপস্থিত ছিলেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ক্রীড়া পরিচালক শেখ সালেহ জামান সেলিম, পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম, পরিচালক মাকসুদুর রহমান, সদস্য মেজর (অব.) শেখ মো. মিজানুর রহমান ও সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম।

গতকাল বিভিন্ন স্থানে খাদ্যসামগ্রী এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শেখ আয়নাল হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবির, পৌর মেয়র হাজি মো. কামাল হোসেন শেখ, হিরণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া দাড়িয়া, কুশলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বাদল, রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অমৃত লাল হালদার, রামশীল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন বালা, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন খান, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মতিউর রহমান হাজরা, জেলা পরিষদ সদস্য মাজহারুল আলম পান্না, সরকারি কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক হিমাংশু কুমার পাণ্ডে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন প্রমুখ।

ব্যাগ পেয়ে উত্ফুল্ল শিক্ষার্থীরা : তাহমিদা নূর তিনা সরকারি কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। গতকাল সকালে পৌরসভার সম্মেলনকক্ষে অন্যদের সঙ্গে এসেছিল সেও। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের দেওয়া স্কুল ব্যাগসহ শিক্ষা উপকরণ পেয়ে আপ্লুত তিনা বলে, করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ। এ অবস্থায় বিকল্প উপায়ে পড়াশোনা চলমান থাকলেও নানা রকম হতাশা ভর করেছে। অনেক দিন পর স্কুলের অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গ পেয়ে ভালো লাগছে। পাশাপাশি ব্যাগসহ শিক্ষা উপকরণ পেয়ে অন্য রকম অনুভূতি হচ্ছে।

উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে একই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তরিকুল ইসলাম, সপ্তম শ্রেণির তাওসিফ রোহান, তানহা ইসলাম, অষ্টম শ্রেণির ঋতু পাণ্ডে, হিরক বাড়ৈসহ অন্য শিক্ষার্থীরা।

 

 



সাতদিনের সেরা