kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

টানা দ্বিতীয় লিগ শিরোপা কিংসের

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১০ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টানা দ্বিতীয় লিগ শিরোপা কিংসের

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ জিতেই এএফসি কাপে যেতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক তপু বর্মণ। গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সেই লক্ষ্য পূরণও হয়েছে কিংসের। ছবি : কালের কণ্ঠ

অভিষেক মৌসুমে দুই ম্যাচ হাতে রেখে শিরোপা জিতেছিল বসুন্ধরা কিংস। দ্বিতীয় মৌসুমে তাদের দাপট আরো বেড়েছে। কাল প্রিমিয়ার লিগের টানা দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে তারা চার ম্যাচ হাতে রেখে। নিজেদের ২০তম ম্যাচে এসে এদিন শেখ জামালকে হারালেই শিরোপা নিশ্চিত হতো তাদের।

বিজ্ঞাপন

পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা সেই জামালকে ২-০ গোলে হারিয়েই তারা উৎসব করেছে।

দেশের শীর্ষ ফুটবলে নাম লিখিয়ে টানা দুই মৌসুমে কিংসের এই জয়যাত্রার তুলনা নেই। অতুলনীয় এবার তাদের ব্রাজিলিয়ান দুই রিক্রুট জোনাথন ফার্নান্দেজ আর রবসন রোবিনহোও। এই দুজনের গোলেই কাল নিশ্চিত হলো শিরোপা। চ্যাম্পিয়ন লেখা টি-শার্ট পরে এরপর মাঠেই হলো উদযাপন। করোনায় স্টেডিয়ামে দর্শক প্রবেশে মানা। খালি মাঠে উৎসবটা তাই সংক্ষিপ্তই হলো। কিন্তু কিংসের বিক্রম কমে না তাতে এতটুকুও। ২০ ম্যাচে তাদের ৫৫ পয়েন্ট, জয় ১৮টি, একটি করে শুধু ড্র ও হার। জামালের পয়েন্ট ৩৯। চার ম্যাচ আগেই তাই ১৬ পয়েন্টের ব্যবধানে কিংসের শিরোপা জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে। জামাল শেষ পাঁচ ম্যাচে যে ১৫ পয়েন্টের বেশি নিতে পারছে না।

এদিন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার রাউল বেসেরার বদলে একাদশে ঢুকেছিলেন এলিটা কিংসলে। ওদিকে শেখ জামাল ওতাবেক ভালিনজভকে ছাড়া খেলেছে তিন বিদেশি নিয়ে। তবে বড় পরিবর্তন ছিল তাদের ডাগআউটে। সেখানে যে শফিকুল ইসলাম মানিকের অনুপস্থিতি। ম্যাচ শুরুর ঘণ্টা কয়েক আগে সবাইকে বিস্মিত করে শেখ জামাল তাদের কোচকে যে অব্যাহতি দেয়।

কিংস শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু মাহবুবুর রহমানের কাটব্যাকে বিপলু আহমেদ বক্সের ভেতর থেকে বাজে শটে বল বাইরে পাঠিয়েছেন। ১৫ মিনিটে বক্সের মুখে মাহবুবুরকে রেজাউল করিম ফাউল করলেও বাঁশি বাজাননি রেফারি। ২১ মিনিটে রবসন রোবিনহোর চমক। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে শিরোপা নিশ্চিত করার ম্যাচে এগিয়ে দেন তিনি কিংসকে। লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোবিনহোর এটি ১৯তম গোল।

শেখ জামাল বল পেলেই দুই ফরোয়ার্ডের পায়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। মিডফিল্ডে ওতাবেকের অভাব ছিল স্পষ্ট। ম্যাচের আগে ভারি বৃষ্টি হয়ে যাওয়ায় দুই দলের জন্য খেলাটাও সহজ ছিল না এদিন। কিংসলেকে কড়া পাহাড়ায় রেখেছিলেন শেখ জামাল ডিফেন্ডাররা। অন্য প্রান্তে জামাল সুযোগ তৈরি করে ডান দিক থেকে মনির হোসেনের একটি লম্বা ক্রসে, তাতে ওমর জোবের লাফিয়ে নেওয়া হেড ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে। মিনিট পর জোবের স্কয়ার পাসে বক্সে বল পেয়ে পোস্টে শট নিতে পারেননি সোলায়মান।

বিরতির পর জাহিদ হোসেনকে উঠিয়ে জাভেদ খানকে নামায় শেখ জামাল। মিনিট পনেরো পরে জোড়া পরিবর্তন করেন অস্কার ব্রুজোন, মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে নামান মাহবুবুর রহমানের বদলে এবং কিংসলের জায়গা মতিন। ঠিক এই সময়টায়ই দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় কিংস। মাঝমাঠের একটু নিচ থেকে প্রতিপক্ষ এক খেলোয়াড়ের পা থেকে বল কেড়ে জোনাথনকে বাড়ান বিশ্বনাথ ঘোষ। জোনাথন কয়েকটা টাচে বল সামনে নিয়েই বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেছেন। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে জামালের ম্যাচে ফেরার চেষ্টা বড় ধাক্কা খায়। এরপর বিপলু সুযোগ পেয়েছিলেন আরো এক গোল দেওয়ার। কিন্তু দুর্বল শটে বল গোলরক্ষকের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি।

দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আরো দুটি পরিবর্তন আনেন ব্রুজোন। বিপলুকে তুলে নিয়ে নামান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার আতিকুর রহমানকে। ওদিকে রাইটব্যাক তারিক কাজীর বদলে নামেন সুশান্ত ত্রিপুরা। ৭৪ মিনিটে মতিন আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন জোনাথনের পাসে, কিন্তু বক্সের ভেতর ডিফেন্ডারকে কাটিয়েও নিশানা ঠিক রাখতে পারেননি তিনি। শট নিয়েছেন সরাসরি গোলরক্ষক বরাবর। এর মিনিট সাতেক পর ইমন মাহমুদকে গোলবঞ্চিত করেছে ক্রসবার। বক্সের মুখে ইব্রাহিমের পাস পেয়ে চমৎকার টার্নে জায়গা তৈরি করে পোস্টে শট নিয়েছিলেন এর কিছুক্ষণ আগেই জোনাথনের বদলি নামা ইমন, কিন্তু ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে সেই শট। তাতে আসলে শুধু ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগই নষ্ট হয়েছে কিংসের, ম্যাচ জয় বা তাদের শিরোপা উৎসবে তা বাধা হতে পারেনি।

দিনের অন্য ম্যাচে আরামবাগকে ৬-১ গোলে হারিয়ে আবাহনী দুইয়ে উঠে এসেছে। বাকি ম্যাচগুলোতে জামালের সঙ্গে তাদের এই দ্বিতীয় স্থানই ধরে রাখার লড়াই।

 

 



সাতদিনের সেরা