kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

খুব সম্ভব পিএসজিতেই যাচ্ছেন মেসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



খুব সম্ভব পিএসজিতেই যাচ্ছেন মেসি

এমন একটা খবরের জন্য প্রস্তুত ছিল না কেউ। অর্ধেক বেতনে বার্সেলোনায় খেলতে রাজি ছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু চুক্তির ঠিক আগে মেসি-বার্সার সম্পর্কের মহাকাশে হঠাৎ জমে কালো মেঘ। এর পরই বিশ্ব ফুটবলে বড় ধরনের কম্পন ধরিয়ে বার্সেলোনা জানিয়ে দেয়, মেসি আর ন্যু ক্যাম্পে

থাকছেন না। ২১ বছরের অবিচ্ছেদ্য এক প্রেমকাহিনির সমাপ্তি সেখানেই। শেষ হয়ে যায় বার্সায় মেসি যুগের। এর পরই এগিয়ে আসে পিএসজি। ফরাসি ক্লাবটির মালিক নাসির এল খেলাইফি অনেক আগে থেকে চাইতেন মেসিকে। এবার বিনে পয়সায় তাঁকে পাওয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করতে চান না কোনোভাবে। আর্জেন্টাইন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো এরই মধ্যে যোগাযোগ করেছেন মেসির সঙ্গে। পিএসজির নতুন প্রকল্প নিয়ে আশাবাদী মেসিও। এদিকে পেপ গার্দিওলাও জানিয়েছেন মেসিকে নিয়ে ভাবছে না ম্যানসিটি। তাই নাটকীয় কিছু না ঘটলে আবারও নেইমারের সঙ্গে জুটি গড়তে চলেছেন এই কিংবদন্তি।

স্পেনের ‘স্পোর্ত’ আর আর্জেন্টিনার ওলে জানাচ্ছে, চুক্তির ঠিক আগে এভাবে ১৮০ ডিগ্রি সব কিছু বদলে যাওয়ায় ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে এখনই সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু বলতে চান না আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। ভক্তরা বরাবরের মতো ভিড় জমিয়েছেন ন্যু ক্যাম্পের বাইরে। কেউ ডুকরে কাঁদছেন তো কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছেন অন্যকে। কিন্তু মেসি থাকতে চাইলেও তাঁকে রাখতে পারছে না বার্সা। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট হুয়ান লাপোর্তা জানালেন তাঁর অসহায়ত্ব, ‘মেসির সঙ্গে চুক্তি করলে অডিটে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ত বার্সেলোনা। ক্লাব সব সময়ই খেলোয়াড় আর কোচের চেয়ে বড়। ক্লাবকে ধ্বংস করে আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। মেসির সঙ্গে আলোচনায় আমরা আর্থিক যে অঙ্কে রাজি ছিলাম সেটা ফেয়ার প্লে অনুমোদন করত না। এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না যেজন্য ক্লাবকে ভুগতে হতো আগামী ৫০ বছর।’

এমনিতে বার্সেলোনা বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্লাব। তবে ১.২ মিলিয়ন ইউরো দেনার জালে আটকে পড়ায় হাঁসফাঁস করছে ক্লাবটি। পাশাপাশি করোনা মহামারিতে ক্লাবের ক্ষতির অঙ্কটাও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। এ জন্য কমে গেছে বেতন দেওয়ার সীমা। ২০১৯-২০ মৌসুমে বার্সেলোনা বেতনের পেছনে খরচ করতে পারত ৬৭১ মিলিয়ন ইউরো। ২০২০-২১ মৌসুমে সেটা কমে আসে ৩৫০ মিলিয়ন ইউরোয়। এবার সেটা আরো কমে দাঁড়িয়েছে ১৬০ মিলিয়ন ইউরোয়! কারো মতে সেটা ২০০ মিলিয়ন ইউরো। মেসিকে ধরে রাখতে তাই কাছাকাছি ২০০ মিলিয়ন ইউরো বেতন কমাতে হতো কাতালান ক্লাবটিকে।

২০১৯-২০ মৌসুমে বার্সা বেতন দিয়েছে ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৫১০ মিলিয়ন ইউরো, যা দুইয়ে থাকা ম্যানইউর চেয়ে ৩৩ শতাংশ বেশি। সাবেক সভাপতি হোসে মারিয়া বার্তোমেউয়ের অদূরদর্শিতায় বেড়েছে সেটা। পরের মৌসুমে বেতন ৪৩০ মিলিয়ন ইউরোয় কমিয়ে আনলেও অঙ্কটা ছিল আকাশছোঁয়া। করোনার জন্য ৩৫০ মিলিয়ন ইউরোর সীমা অতিক্রম করা বার্সাকে ছাড় দিয়েছিল লা লিগা। কিন্তু এবার সেই উপায় ছিল না। করোনার জন্য গত বছর বার্সার ক্ষতি হয়েছে ২৩০ মিলিয়ন ইউরো। দর্শক মাঠে এলেও এ বছর সম্ভাব্য ২৬৭ মিলিয়ন ইউরোর ক্ষতির অঙ্ক করে রেখেছে তারা। এ জন্যই মেসিকে রাখা যাচ্ছে না বলে জানালেন লাপোর্তা, ‘প্রথমে মেসির সঙ্গে চুক্তির আলোচনা হয়েছিল দুই বছরের। পরে আমরা পাঁচ বছরে রাজি হই। মেসি থাকতেই চেয়েছিল। কিন্তু ও খুশি হবে না (এমন সিদ্ধান্তে)। আমি আজ (গতকাল) মেসিকে এখানে আনতে চেয়েছিলাম। এখন বাস্তবতাটা উপলব্ধি করতে হবে। ক্লাবের মোট আয়ের চেয়েও খেলোয়াড়দের বেতন দিতে হয় ১১০ শতাংশ বেশি। খেলোয়াড়দের বেতন দেওয়ার জন্য এখন এত টাকা নেই আমাদের।’ লাপোর্তার এমন বক্তব্যকে অনেকে মনে করছেন, লা লিগা কর্তৃপক্ষকে চাপে রাখার কৌশল, যেন বেতনের সীমা বাড়ায় তারা। মেসিকে হারানো যতটা ক্ষতি বার্সার, ততটা তো লা লিগারও। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো রিয়াল ছাড়ার পর এমনিতেই আকর্ষণ কমেছে লা লিগার। মেসি যাওয়ার পর লিগটা বিবর্ণ হবে আরও।

মেসিকে রাখতে দলের গুরুত্বপূর্ণ অনেককে বিক্রি করতে হতো বার্সেলোনার। ক্লাবের সেরা খেলোয়াড়টির জন্য বার্সার পক্ষ থেকেও আন্তরিকতার কমতি ছিল না। তারা চেষ্টা করেছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের সাউলের সঙ্গে আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানকে অদলবদল করতে। শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি ব্যাপারটা। চোটে পড়া ফিলিপে কৌতিনিয়ো আর উসমান দেম্বেলেকেও কিনতে রাজি নয় কোনো ক্লাব। আর তাঁরাও চান না কম বেতনে অন্য ক্লাবে যেতে। পুরো ব্যাপারটার একটা পরিষ্কার ছবি পাওয়া যেতে পারে ইতালিয়ান বিখ্যাত সাংবাদিক ফাব্রিজিও রোমানোর টুইটে, ‘মেসি বার্সায় এসেছিল চুক্তি স্বাক্ষর করতে। পুরোপুরি একমত ছিল দুই পক্ষ। কিন্তু বার্সা লিওকে জানাল, লা লিগার নিয়মের কারণে তাদের হাত-পা বাঁধা। অন্য খেলোয়াড়দের নিয়েও ঝামেলা ছিল। লাপোর্তার সততা ভালো লেগেছে মেসির। পিএসজি এরই মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ শুরু করেছে মেসির সঙ্গে।’

পিএসজির পাশাপাশি ম্যানচেস্টার সিটিও বসে নেই। পেপ গার্দিওলা পেতে চান প্রিয় শিষ্যটিকে। চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী চেলসিও চেষ্টায় মেসিকে পেতে। শেষ পর্যন্ত যেখানেই যান মেসির জন্য শুভ কামনাই জানালেন লাপোর্তা, ‘  মেসি থাকতেই চেয়েছিল, বার্সা ওর বাড়ি। যেখানেই যাক আমি তার সেরাটা চাইব। লা লিগায় মেসিই ছিল সেরা। সব সময় ইতিহাস তৈরি করেছে ও। মেসি আমাদের সব কিছু দিয়েছে, যা খেলাধুলার জগতে আর কেউ দিতে পারবে না। আমরা তাকে হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’



সাতদিনের সেরা