kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

লকডাউন তোলার ক্ষেত্রে মাস্ক টিকায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব

বাহরাম খান   

৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



লকডাউন তোলার ক্ষেত্রে মাস্ক টিকায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব

পর্যায়ক্রমে লকডাউন তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মাস্ক পরিধান এবং টিকা দেওয়ার বিষয়টিকে। সেই সঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক চাপ পড়ার কারণে কম অসুস্থ কভিড রোগীদের আবাসিক হোটেলে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পরপরই এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

চলমান কঠোর বিধি-নিষেধ বা লকডাউন পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে হওয়া উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর গতকাল বুধবার থেকে এসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা।

১১ আগস্ট থেকে লকডাউন-পরবর্তী সময়ে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে, এর মধ্যে রয়েছে মাস্ক পরিধানের বিষয়ে কঠোরভাবে নিয়ম প্রতিপালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সম্ভব না হলে পুলিশকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার মাধ্যমে অর্থাৎ আইন সংশোধন করে নতুন বিধান চালুর চিন্তাও রয়েছে সরকারের। দ্বিতীয়ত, টিকাদানের বিষয়ে ব্যাপক জোর দেওয়া হবে। দোকানপাট-পরিবহন শ্রমিকদের যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া যায় সে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

দোকানপাট ও শপিং মল খোলার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যারা নিশ্চিত করতে পারবে, শুধু সেগুলোই খোলা রাখতে দেওয়া হবে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ব্যর্থ হবে, সেসব শপিং মল জরিমানাসহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর গণপরিবহন পরিচালনার ক্ষেত্রে বিগত সময়ের চেয়ে ভিন্ন মাত্রার সতর্কতা অবলম্বন করতে চাচ্ছে সরকার।

গত মঙ্গলবার হওয়া উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসনে বাস, লঞ্চ ও ট্রেন চলবে সারা দেশে। তবে আগের মতো ইচ্ছামতো সব গণপরিবহন চলতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে চলাচলে সক্ষম অর্ধেক পরিবহন পরিচালনা করবে। অর্থাৎ একই দিনে সব গণপরিবহন যাতে না চলে তা নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতসংখ্যক কর্মচারী দিয়ে সরকারি অফিস পরিচালনার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। অন্যদিকে পর্যটনকেন্দ্র, সামাজিক অনুষ্ঠান, হোটেল-মোটেলসহ সেবা খাতের বিষয়ে লকডাউন তোলার প্রথম পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসবে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে খাবার হোটেল, কাঁচাবাজার, শপিং মল ও মার্কেট কতক্ষণ খোলা রাখা যাবে, সে বিষয়ে সময় নির্ধারণ করে দেবে সরকার।

ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো বাছাই করে এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই লকডাউন-পরবর্তী সময়ে দেশ পরিচালনার কথা ভাবছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের পর ফিরতি নির্দেশনায় এ বিষয়গুলোর কোনো কোনোটি সংযোজন-বিয়োজনও হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় এসংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। গত ২৩ জুলাই থেকে জারি হওয়া বিধি-নিষেধের সময়সীমা আজ শেষ হচ্ছে। গত মঙ্গলবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ আগস্ট পর্যন্ত বিধি-নিষেধ বাড়ানোর বিষয়টি থাকবে আজকের প্রজ্ঞাপনে। আগামী ১১ আগস্ট থেকে বিধি-নিষেধ তুলে নিলেও কী কী বিষয় মেনে চলতে হবে, তা নিয়ে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। উচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত এলে আজকের প্রজ্ঞাপনেই লকডাউন-পরবর্তী কার্যক্রম কিভাবে চলবে, সেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

গত মঙ্গলবার আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে বৈঠকের সভাপতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ১১ আগস্ট থেকে লকডাউন তুলে দিয়ে কিভাবে দেশ চলবে, সে বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। সেগুলোর পরিপ্রেক্ষিতেই প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ওই দিন থেকে টিকা না নিয়ে ১৮ বছরের বেশি বয়সী কেউ বের হলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন মন্ত্রী, গতকাল তিনি তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর বাইরেও ওই বৈঠকে আরো কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে পর্যায়ক্রমে লকডাউন তুলে দেওয়ার বিষয়টিতে জোর দিচ্ছে সরকার।

বৈঠক সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, চলতি লকডাউনের মধ্যেই ১ আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল ৬ আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত অন্য সব কলকারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত আসারও সম্ভাবনা রয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খুললেও এবং আগামীকাল থেকে অন্যগুলো খুলে দিলে শ্রমিকরা কিভাবে যাতায়াত করবেন, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত সরকার থেকে আসেনি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রিদের যেকোনো বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিতে হয়। গত মঙ্গলবার হওয়া বৈঠকের খসড়া সিদ্ধান্তগুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে। তিনি যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেটাই চূড়ান্তভাবে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সরকার টানা লকডাউন রাখতে চায় না। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে আমাদের লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। লকডাউন-পরবর্তী দেশ পরিচালনায় সর্বোত্তম বিকল্পগুলো কী হতে পারে, তা নিয়ে আমরা বৈঠকে আলোচনা করেছি। এখন সেগুলো যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আশা করছি, আগামীকালই (বৃহস্পতিবার) দেশবাসী আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানতে পারবে।’

 



সাতদিনের সেরা