kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযান

বিনোদনের রঙিন জগতে নিজেকে রাঙাতে না পেরে বিপথে হাঁটছেন কিছু নায়িকা ও মডেল। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ছেন প্রতারণা ও ঠকবাজিতে। মাদক কারবারের মতো ভয়ংকর কাজেও নামছেন অনেকে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মডেল কিংবা নায়িকার বাসায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা হানা দিলেই মিলছে বিদেশি মদ, ইয়াবাসহ হরেক মাদকদ্রব্য।

সর্বশেষ গত রবিবার মধ্যরাতে রাজধানীর বারিধারায় ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং মোহাম্মদপুরে মরিয়ম আক্তার মৌ নামের দুই মডেলের বাসায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দুজনের বাসা থেকেই মদ, ইয়াবার সঙ্গে সিসার কাঁচামালও পেয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। মৌ বাসায় মিনিবার বানিয়ে মাদকদ্রব্য বিক্রির সঙ্গেও জড়িত। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, রাতে বাসায় পার্টির নামে বিত্তশালী পরিবারের ছেলেদের ডেকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে প্রতারণার ফাঁদ পাতে একটি চক্র। পুলিশের জালে আটকা দুই মডেল ওই একই চক্রের সদস্য। এই চক্রে আরো কয়েকজন রয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। দুটি মাদকের মামলায় আদালতের নির্দেশে গতকাল সোমবার দুজনকেই তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি পুলিশ।

এর আগে গত শনিবার রাতে একসময়ের চিত্রনায়িকা সিমন হাসান একার রামপুরার উলনের বাসায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, গাঁজা ও মদ উদ্ধার করে পুলিশ। গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে একার বাসায় গিয়েছিল পুলিশ। গত মার্চে রোমানা ইসলাম স্বর্ণা নামের আরেক মডেলকে বিয়ের নামে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

গত রবিবার রাতের অভিযানের ব্যাপারে ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) হারুন অর রশীদ বলেন, ‘পিয়াসা ও মৌ দুজনই একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা অনেক ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ পেয়েছি, সেসব ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তাঁদের বাসায় অভিযান চালানো হয়। দুজনের বাসায়ই বিদেশি মদ, ইয়াবা ও সিসা পাওয়া গেছে। মৌয়ের বাসায় মদের বারও ছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘তাঁরা উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পার্টির নামে বাসায় ডেকে আনতেন। এরপর তাদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও তুলে রাখতেন। পরবর্তী সময়ে সেসব ভিডিও এবং ছবি ভিকটিমদের পরিবারকে পাঠাবেন বলে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নিতেন।’ তিনি জানান, মাদকদ্রব্য পাওয়ায় দুই থানায় মাদক মামলা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের যে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে মামলা হবে।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, গত রবিবার রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকায় ৯ নম্বর রোডে মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। ওই সময় পিয়াসার ঘরের টেবিল থেকে চার প্যাকেট ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর রান্নাঘরের কেবিনেট থেকে উদ্ধার করা হয় ৯ বোতল বিদেশি মদ। অভিযানের এক পর্যায়ে ফ্রিজ খুলে একটি আইসক্রিমের বাক্সে সিসা তৈরির কাঁচামাল ও বেশ কয়েকটি ই-সিগারেট পাওয়া যায়। ডিবির একই দল রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের ২২/৯ বাড়ির নিচতলায় আরেক মডেল মৌয়ের বাসায় অভিযান চালায়। তাঁর বাসার ড্রয়িংরুমের পাশেই একটি মিনিবার পায় পুলিশ। বাসার ভেতরের বেডরুমের একটি ড্রয়ার থেকে পাঁচ প্যাকেট ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ওই বেডরুমের ভেতরে আরেকটি ড্রেসিংরুম থেকে উদ্ধার করা হয় অন্তত ১২ বোতল বিদেশি মদ। আটকের সময় মডেল মৌ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘আমার বাসায় মাদকদ্রব্য ছিল না। পিয়াসার সঙ্গে ঝামেলায় আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’

ডিবি সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের মে মাসে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে নাম ছিল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার। সেই মামলার আসামি তাঁর সাবেক স্বামী বলেও দাবি করেন পিয়াসা। এনটিভির রিয়ালিটি শো ‘সুপার হিরো সুপার হিরোইন’-এর প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পিয়াসা দু-একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন। কয়েক বছর ধরে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের সঙ্গে ব্ল্যাকমেইলিং কারবারে জড়িয়ে পড়েন তিনি। অন্যদিকে মৌ মিডিয়ায় প্রতিষ্ঠা পাননি। তবে মডেল পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কয়েকটি পরিবার পুলিশের কাছে পার্টির ফাঁদে ফেলে জিম্মি করে টাকা এবং বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের অভিযোগ করেছে। তবে সেসব পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করেননি ডিবি কর্মকর্তারা।

গতকাল গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা পুলিশের মামলায় পিয়াসাকে এবং মোহাম্মদপুর থানায় একই আইনে পুলিশের মামলায় মৌকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন ডিবির তদন্ত কর্মকর্তারা। আলাদা ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত দুজনেরই তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে গত শনিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ রামপুরার উলনে নায়িকা একার বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় একার বিছানার ওপর থেকে পাঁচ পিস ইয়াবা, ৫০ গ্রাম গাঁজা ও মদ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ তথ্য পেয়েছে, সেবনের পাশাপাশি একা মাদক বিক্রিও করেন। মাদক সেবনে একসময়ের নায়িকা একাকে এখন চেনাই দায়।

এর আগে গত ১২ মার্চ প্রতারণার অভিযোগে মডেল রোমানা স্বর্ণাকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ। এক সৌদিপ্রবাসী মামলায় অভিযোগ করেন, বিয়ের ফাঁদে ফেলে তাঁর কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রোমানা স্বর্ণা। পুলিশ তদন্ত করে তাঁর এমন বেশ কয়েকটি বিয়ের তথ্য জানতে পারে।

 

 



সাতদিনের সেরা