kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

জালিয়াতির টিকাকাণ্ড হুইপ সামশুলের

চরম ঝুঁকিতে ২৬০০ মানুষ

কোল্ড বক্স ছাড়াই টিকা কেন্দ্রে নেওয়া, সিসি ক্যামেরা অচল করে টিকা চুরি, ভুয়া নিবন্ধনের ছড়াছড়িসহ চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৩ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



চরম ঝুঁকিতে ২৬০০ মানুষ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় টিকা পুশ করছেন হুইপ সামশুল হকের ভাই মহব্বত। ছবি : কালের কণ্ঠ

উপজেলার লোকজনকে টিকা দেওয়ার জন্য চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরে সিনোফার্মের কয়েক হাজার টিকা মজুদ ছিল। স্টোরে যথাযথ তাপমাত্রায় থাকা এসব টিকার মধ্যে প্রায় তিন হাজার টিকার বেশির ভাগই স্বাস্থ্য বিভাগের কাউকে না জানিয়ে কোল্ড বক্স ছাড়াই পাঁচ কিলোমিটার দূরে শোভনদণ্ডী ইউনিয়নের রশিদাবাদ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য (চট্টগ্রাম-১২) ও জাতীয় সংসদের সরকারি দলের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর গ্রামের বাড়ির পাশে ওই কেন্দ্র। সেখানে ওই ভয়াবহ ঘটনার বিষয়ে সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত সূত্রে জানা গেছে আরো ঘোরতর অনিয়মের চিত্র। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, অনুমতি ছাড়া ও যথাযথ নিয়ম না মেনেই প্রদান করা হয় দুই হাজার ৬০০ টিকা। রেজিস্ট্রেশন কার্ড জালিয়াতিও তদন্তে ধরা পড়েছে। বারকোড স্ক্যান করে জানা যায় এই জালিয়াতির ঘটনা। দুই দিনে প্রদান করা দুই হাজার ৬০০ টিকার উপস্থাপিত রেজিস্ট্রেশন কার্ডের মধ্যে অন্তত দুই হাজার ২০০ কার্ডই ভুয়া। অনুমতি ছাড়া এই টিকাদান প্রক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য সহকারীর মতোই হুইপ সামশুলের ভাই মহব্বত নিজে টিকা পুশ করেছেন টিকাপ্রত্যাশীদের! সব মিলে হুইপ ও তাঁর পোষ্য বাহিনীর মাধ্যমে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে পটিয়ায়—এমন তথ্য-উপাত্ত উঠে এসেছে সরকারি তদন্তে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের পরিচালকের নির্দেশে গত শনিবার তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। নির্ধারিত দুই দিনের মধ্যে কমিটি তদন্তকাজ শেষ করে গতকাল সন্ধ্যায় পরিচালক বরাবর রিপোর্ট জমা দেয়। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ডা. অজয় দাশ রিপোর্টের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করলেও স্বীকার করেছেন, ‘তদন্তে টিকাদান প্রক্রিয়ার অসংগতি ধরা পড়েছে।’ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার ঘণ্টাকাল আগে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তবে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে তদন্তে উঠে আসা হুইপ বাহিনীর টিকা বাণিজ্যের ভয়ংকর বিষয়।

কী আছে সরকারি তদন্তে 

গত শুক্র ও শনিবার দুই দিনে একটি ইউনিয়ন পর্যায়ের ক্যাম্পে এতগুলো টিকা প্রদানের ঘটনা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে তদন্ত কমিটির কাছে। প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রধান তা স্বীকারও করেন।

সরকারি একটি সূত্র জানায়,  চট্টগ্রাম বিভাগের টিকাদান প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সর্বোচ্চ জনবল দিয়ে পরিচালিত হয়। অথচ চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালেও দুই দিনে শোভনদণ্ডী ইউনিয়নের সেই ক্যাম্পের মতো এত ঝোড়ো গতিতে টিকা প্রদান সম্ভব হয়নি। ওই ক্যাম্পে দুই দিনে দুই হাজার ৬০০ টিকা প্রদানের ঘটনা তাই প্রশ্নবিদ্ধ। তা ছাড়া ক্যাম্পটিতে কোনো ইপিআই প্রশিক্ষিত লোকবলও ছিল না।

স্থানীয় সূত্রের ধারণা, প্রশিক্ষণহীন উপজেলার সুইপার, ঝাড়ুদার পর্যায়ের লোকজন দিয়ে এই টিকা প্রদান করা হয়। আবার হুইপ শামসুলের ভাই মহব্বত কর্তৃক টিকাদানের ছবিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এসব মিলে স্পষ্ট যে কী পরিমাণ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে পটিয়ার ওই ইউনিয়নের টিকাগ্রহীতাদের।

সরকারি সূত্রটি আরো জানায়, উপজেলাটির হেলথ কমপ্লেক্সেই পূর্ণ লোকবল নিয়ে গোটা দিনে যেখানে (সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত) মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টিকা প্রদান করার সক্ষমতা আছে, সেখানে একটি ইউনিয়নের ওই ক্যাম্পেই প্রশিক্ষিত লোকবল ছাড়া কিভাবে দুই দিনে দুই হাজার ৬০০ অর্থাৎ দিনে এক হাজার ৩০০ করে টিকা পুশ করা হলো, তা-ও প্রশ্নবিদ্ধ। 

যথাযথ তাপমাত্রায় টিকা না রাখার কারণে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষকে দেওয়া করোনা টিকার কার্যকারিতা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগেই এখন প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা ও সরকারি দলের স্থানীয় নেতারা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির (এমপি) করোনা মহামারিতে মানুষকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় করোনার টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি টিকা প্রদানে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সহযোগিতা করার কথা। কিন্তু সেখানে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপির নির্দেশে সরকারি কোনো নিয়ম না মেনে নানা গোঁজামিলে তাঁর গ্রামের বাড়ি এলাকায় প্রায় তিন হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উল্টো গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে (প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণকারী) ‘ঝুঁকির’ মুখে ফেলা হয়েছে। সামশুল হক চৌধুরী তাঁর অনুসারীদের দিয়ে সরকারি টিকা নিয়ে যে অনিয়ম করেছেন, তা নজিরবিহীন। প্রশ্ন উঠেছে, যাঁরা রশিদাবাদে টিকা নিয়েছেন, তাঁদের এখন কী হবে? কিভাবে নিয়মের মধ্যে আনা হবে? তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর থেকে এত টিকা (প্রায় তিন হাজার) রশিদাবাদে নেওয়ার মতো কোল্ড বক্স ছিল না স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। টিকা পরিবহন ও সংরক্ষণে কোল্ড চেইন মানা হয়নি।

কোল্ড বক্স ছাড়া টিকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোল্ড বক্সে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত টিকা রাখা যায়। কোল্ড বক্স খোলার পর ছয় ঘণ্টার মধ্যে টিকা দিতে হবে। এখন সেখানে কী হয়েছে, তা তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।’ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া টিকা দেওয়া সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন ছাড়া তো টিকা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া টিকা কিভাবে দেবে?’

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সব্যসাচী নাথ বলেন, ‘আমিসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কাউকে না জানিয়ে অন্যায়ভাবে এসব টিকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি বিষয়টি জানার পর সিভিল সার্জন স্যারকে অবহিত করলে তিনি তাত্ক্ষণিক সরেজমিনে গিয়ে ওই কার্যক্রম (অবৈধভাবে রশিদাবাদে টিকা দেওয়া) বন্ধের নির্দেশ দিলে ব্যবস্থা নিয়েছি। তদন্ত কমিটি ঘুরে গেছে এখন তারা যে প্রতিবেদন দেবে, সে ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কোল্ড বক্স ছাড়া টিকা নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে জানিয়ে নেওয়া হয়নি। কোল্ড বক্স ছাড়া কত টিকা নিয়ে গেছে, তা তদন্তে উঠে আসবে। কোল্ড বক্স থেকে বের করে সাধারণত ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে। ওখানে কী হয়েছে, তা আমি জানি না। আদৌ কি ভ্যাকসিন ছিল, না পানি দিয়েছে, তা বলতে পারছি না। সব বিষয় তদন্তে আসবে।’

পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যথাযথ কোল্ড চেইন মেনে যদি করোনার টিকা পরিবহন, সংরক্ষণ ও প্রয়োগ করা না হয়, তাহলে টিকার কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে। টিকা যাঁরা দিয়েছেন, তাঁরা জানেন সেখানে কোল্ড চেইন মানা হয়েছে কি না।’

এদিকে সরকারি নিয়ম না মেনে রশিদাবাদে অবৈধভাবে কেন্দ্র বানিয়ে করোনার টিকাদান কার্যক্রমে জড়িত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আরো পাঁচ কর্মচারীকে গতকাল কারণ দর্শানো নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে বলে উপজেলা চিকিৎসক-কর্মকর্তারা জানান। আগের দিন রবিবার ওই অবৈধ টিকাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) পদে চলতি দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য সহকারী মো. রবিউল হোসেনকে শোকজ করা হয়েছিল।

জানা যায়, রবিউলের বাড়ি শোভনদণ্ডীতে। হুইপ সামশুলের এলাকায়। সামশুল হক ২০০৮ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হওয়ার পর রবিউলকে ২০১২ সালে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেতে সহযোগিতা করেন। রবিউল এলাকায় নিজেকে সামশুলের অনুগত ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে দাপট দেখিয়ে আসছেন। তাঁর প্রতাপে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অসহায় ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই গত ৩০ ও ৩১ জুলাই দুই দিন হুইপের বাড়ির পাশে রশিদাবাদে দুটি স্কুল ও কলেজে এসব টিকা দেওয়া হয়। প্রথম দিন শুরুতেই হুইপ টিকাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে সামশুল হক নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। তবে রবিউল তদন্ত কমিটিসহ গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন, ‘মানুষ যখন টিকা দেওয়ার জন্য আমার কাছে আসছিলেন, তখন আমি বলেছি হুইপের কাছে গিয়ে বলেন। তিনি বললে ব্যবস্থা নেব। হুইপ মহোদয় সম্মতি দিলে আমি টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।’

যেভাবে টিকা চুরি

গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কর্মস্থল ত্যাগ করেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি কর্মস্থলে গেলে দেখেন স্টোরের সামনে সিসি ক্যামেরা বিকল। অভিযোগ উঠেছে, এই ক্যামেরা অচল করে রবিউলের নেতৃত্বে প্রায় তিন হাজার টিকা রশিদাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব টিকা ছিল রবিউলের তত্ত্বাবধানে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সব্যসাচী নাথ বলেন, ‘তদন্ত কমিটিও বিষয়টি দেখেছে। কোল্ড বক্সে নিয়ে গিয়েছিল কি না এবং কয়টি কোল্ড বক্স ছিল, এসব বিষয় দেখতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা।’

আরো ১৩২ ভায়েল গায়েব

রবিউল তদন্ত কমিটির কাছে স্বীকার করেছেন তিনি স্টোর থেকে দুই হাজার ৬০০ সিনোফার্মের টিকা রশিদাবাদে নিয়ে গিয়ে মানুষকে দিয়েছেন। স্টোরে মজুদ থাকা টিকা হিসাব করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা দেখেছেন শুধু দুই হাজার ৬০০ টিকা নয়, আরো ১৩২ ভায়েল গায়েব হয়ে গেছে। প্রতি ভায়েলে দুই ডোজ হিসেবে ২৬৪টি ডোজও পাওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে দুই হাজার ৮৬৪টি ডোজ স্টোরে নেই।

ভুয়া নিবন্ধনের ছড়াছড়ি

মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ইপিআই মো. রবিউল হোসেন গত রবিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তদন্ত কমিটিকে দুই হাজার ৬০০ টিকা দেওয়ার সপক্ষে নিবন্ধনের কপি জমা দিয়েছেন। তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা যায়, রবিউলের জমা দেওয়া এসব নিবন্ধনের মধ্যে বেশির ভাগ ভুয়া। এ ব্যাপারে প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা ডা. অজয় দাশ বলেন, ‘টিকা দেওয়া দুই হাজার ৬০০ জনের নিবন্ধনের যে কাগজ জমা দেওয়া হয়েছে, এতে আমরা কিছু অনিয়ম পেয়েছি। পুরো বিষয়টি প্রতিবেদনে থাকবে।’

টিকা দিতে টাকাও নেওয়া হয়েছে

অভিযোগ উঠেছে, টিকা প্রদান করার সময় অনেকের কাছ থেকে রবিউলের নেতৃত্বে গঠিত সিন্ডিকেট টাকা নিয়েছে। একেকজনের কাছ থেকে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা নেয়। টাকা দেওয়া লোকের সংখ্যা হাজার হবে। আবার এমন অভিযোগও উঠেছে, প্রায় তিন হাজার টিকার মধ্যে কয়েক শ টিকা রবিউল অন্যত্র (বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ব্যক্তিবর্গ) পাচার করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়েছেন। হুইপের অনুসারীদের টিকা নিয়ে এই অবৈধ বাণিজ্যের বিষয়টি এখন এলাকায় মানুষের মুখে মুখে। তবে কেউ বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ।

টিকা গ্রহণকারীদের কী হবে?

সরকার নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরে হুইপের বাড়ির পাশে অবৈধ কেন্দ্রে করোনার টিকা গ্রহণকারী হাজারো মানুষ পড়েছেন দুর্ভাবনায়। নিবন্ধনহীনভাবে টিকা নেওয়া লোকজনকে টিকা (প্রথম ডোজ) দেওয়া হলেও তাঁরা দ্বিতীয় ডোজ কোথায় নেবেন? যেহেতু কেন্দ্রটি অবৈধ, তাই নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।



সাতদিনের সেরা