kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

রপ্তানি সংকট বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত

টিপু মুনশি, বাণিজ্যমন্ত্রী

২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রপ্তানি সংকট বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত

দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নারীসহ ৪০ থেকে ৪৫ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের বড় খাত তৈরি পোশাক শিল্প। বিশ্ববাজারে রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে কঠোর লকডাউনেও কারখানা চালু রাখতে সরকার রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানার খোলার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনায় আগের বিধি-নিষেধেও এই খাত আওতামুক্ত ছিল।

করোনার নতুন ধরন ডেল্টার সংক্রমণের তীব্রতা বিবেচনায় এবার সরকার ঈদের আগেই রপ্তানি খাতকে লকডাউনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছিল। এ জন্য ঈদের আগে শ্রমিকদের ধরে রাখা যাবে না, এমন বিবেচনায় ঈদের পর লকডাউনে জোর দেওয়া হয়। ফলে ঈদের পর ১৪ দিনের লকডাউন ঘোষণা করে সরকার।

দেশের রপ্তানি খাতের বড় বাজার ইউরোপ ও আমেরিকায় টিকা দেওয়া প্রায় শেষ। এসব বাজার খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশের কারখানাগুলোতে শীত ও বড়দিনের কাজে ভরপুর, কিন্তু রপ্তানির এ ভরা মৌসুমে লকডাউনের কারণে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। আশঙ্কা তৈরি হয় যে উৎপাদনের স্থবিরতা রপ্তানিতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করবে। ক্রেতাদের বিকল্প বাজার খোঁজার সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া রপ্তানিতে ভিয়েতনাম আমাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলেছে। পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থান হারিয়েছে।

লকডাউনে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাকে সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। এ ছাড়া পোশাক খাত একটি সুসংগঠিত খাত। কারখানাগুলোতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়। ফলে এ খাতে করোনা সংক্রমণ খুবই কম। গত ১৬ মাসে সংক্রমণের হার ০.০৩ শতাংশ। এর পরও সরকার ও পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ টিকা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়েছে। ঈদের আগে গাজীপুরে এক দিনে ২৯ হাজার শ্রমিককে টিকার আওতায় আনা হয়। আগামী এক মাসের মধ্যে ৭৫ শতাংশ শ্রমিককে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

বিধি-নিষেধের সময়সীমার পাঁচ দিন আগে পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে ক্রেতাদের নির্দিষ্ট সময়ে পোশাক পাওয়ার উদ্বেগ যেমন কমেছে, সেই সঙ্গে রপ্তানিকারকরাও অর্ডার বাতিল, উড়োজাহাজের পণ্য রপ্তানির বড় বোঝা ও দেরিতে বিল পাওয়ার বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এ ছাড়া এরই মধ্যে গত পাঁচ দিন কারখানা বন্ধ থাকায় উৎপাদন হয়নি এবং আমদানি করা কাঁচামাল ছাড় না করায় বন্দরে জটিলতা তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল, ৫ তারিখ কারখানা খোলার সঙ্গে সঙ্গে শ্রম আইন অনুসারে মাসের প্রথম সপ্তাহে মজুরি দিতে হবে। এতেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতো।

সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতায় বলে, পোশাক খাতে কভিডের সংক্রমণ কম। ৪০ থেকে ৪৫ লাখ শ্রমিককে সুরক্ষা দিতে ধাপে ধাপে তাঁদের নিয়ে আসতে হবে। পরিকল্পনা অনুসারে, প্রথম ধাপে লকডাউন কিছুটা শিথিল করে তাঁদের একটু আগে নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রশ্ন আসতে পারে, সরকার কেন শুধু পোশাক খাতকে এত গুরুত্ব দেয়। এটা স্বাভাবিক, যে শিল্প দেশের রপ্তানি খাতে ৮৪ শতাংশ অবদান রাখে, সেই শিল্পকে সরকার গুরুত্ব দেবে। তাই বলে ১৬ শতাংশের অন্য খাতকে গুরুত্বের বাইরে রাখা হয়নি। তারাও সরকারের সমান সুযোগ পায়।

বিক্ষিপ্তভাবে স্রোতের মতো সারা দেশ থেকে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে আসার চিত্রে সরকারের ভাবমূর্তিতে প্রভাব পড়ার কথা নয়।