kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

অভিভূত দ্রুততম মানবী থম্পসন

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভিভূত দ্রুততম মানবী থম্পসন

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের এক দৌড়ে সব কিছুর ফায়সালা হয়ে গেল! শেলি-অ্যান ফ্রেজার পারেননি উসাইন বোল্ট হতে। তাঁকে হারিয়ে অ্যালেইন থম্পসন-হেরাহ অলিম্পিকের সবচেয়ে গৌরবের ইভেন্ট জিতে ঠিকই জবাব দিয়ে দিলেন সমালোচকদের!

হিট শেষ হওয়ার পর থেকে ১০০ মিটারের বিল্ড আপের কেন্দ্রে ছিলেন শেলি-অ্যান ফ্রেজার ও অ্যালেইন থম্পসন, তাঁদের ঘিরেই চলছিল আলোচনা। দুই জ্যামাইকান স্প্রিন্টারের অতীত-বর্তমানকে নিয়ে হয়েছে যথেষ্ট ঘাঁটাঘাঁটি। সন্তান জন্ম দেওয়া শেলি-অ্যান ফ্রেজারের দুরন্ত গতিতে ট্র্যাকে ফেরা আর থম্পসনের ইনজুরি, এসব নিয়ে হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। মজা হলো, পারফরম্যান্সের এত কাটাছেঁড়ার পরও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। অপেক্ষায় থাকতে হয় আকর্ষণীয় ১০০ মিটার স্প্রিন্টের জন্য। ওই এক ঘটন-অঘটনের দৌড়েই সব কিছুর নিষ্পত্তি হয়। সৌন্দর্য ও আকর্ষণ মিলিয়ে অলিম্পিকের এই ইভেন্টের সঙ্গে তুলনা হয় না অন্য কিছুর। দুর্ভাগা টোকিও অলিম্পিক! করোনার কারণে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে জ্যামাইকান স্প্রিন্টের দুর্দান্ত প্রদর্শনী হয়েছে। কিন্তু এমন এক রেকর্ড ভাঙা দৌড় সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতা হয়নি সাধারণ দর্শকের। যেখানে রিও অলিম্পিকের সোনাজয়ী অ্যালেইন থম্পসন হেরাহ ৩৩ বছর আগের গ্রিফিথ জয়নারের রেকর্ড ভেঙে গড়েছেন ১০.৬১ সেকেন্ডের নতুন অলিম্পিক রেকর্ড। ১৯৮৮ সালে সিউল অলিম্পিকে গ্রিফিথের রেকর্ড ছিল ১০.৬২ সেকেন্ডের। উসাইন বোল্টের মতো তিন অলিম্পিকে ১০০ মিটার জেতার স্বপ্ন দেখা শেলি-অ্যান ফ্রেজারের। কিন্তু ভাগ্যে জুটেছে আগেরবারের মতো রুপা (১০.৭৪ সেকেন্ড)। স্বদেশি শেরিকা জ্যাকসন ১০.৭৬ সেকেন্ডে জেতেন ব্রোঞ্জ।

ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা থম্পসন যে এভাবে রেকর্ড ভাঙা দৌড় দেবেন, সেটা কেউ ভাবেনি। নিজেও তাই ভীষণ খুশি এবং কণ্ঠে ফুটে উঠেছে অতি আবেগ, ‘ঈশ্বর অসাধারণ। আমি খুব খারাপ সময়ের মধ্যে যাচ্ছিলাম। তখন আমাকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে এবং সবগুলোই আমি পড়েছি। সেগুলোকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছি এবং এ জন্য আজ এখানে পৌঁছাতে পেরেছি আমার মনে হয়। আমি এতটাই অভিভূত যে তাড়াতাড়ি উদযাপন করেছি... সত্যি আর কিছু বলতে পারছি না।’

রিও অলিম্পিকের পর এই জ্যামাইকান স্প্রিন্টারের খারাপ সময় গেছে বেশ কিছুদিন। ইনজুরির কারণে ট্র্যাকের বাইরে ছিলেন কিছুদিন, এরপর ফিরলেও সেই রাজসিকতা ছিল না। তখনই সমালোচনার তীর ছুটে আসে থম্পসনের দিকে। টোকিও অলিম্পিকের মঞ্চে সেই সমালোচকদের মুখে ঝামা ঘষে শেলি-অ্যান ফ্রেজারকে হারিয়ে তিনি জিতেছেন ১০০ মিটার। জেতার পর তাই সেসব সমালোচনার কথাই বুঝি তাঁর প্রথম মনে পড়ে!

তবে স্প্রিন্টের আগে শেলি-অ্যান ফ্রেজারও ছিলেন খুব আত্মবিশ্বাসী। হিট শেষ করে বেইজিং ও লন্ডন অলিম্পিকের দ্রুততম মানবী স্বপ্ন দেখেছিলেন তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। সন্তান প্রসবের পর ট্র্যাকে ফেরা এই স্প্রিন্টারের ফর্ম দারুণ যাচ্ছিল। কিন্তু সেই ফর্ম আর আত্মবিশ্বাসে মিলেছে রূপা। এরপর তাঁর কণ্ঠে ঝরেছে হতাশা, ‘৩০ মিটার আমার সেরা ছিল না। তৃতীয় পদক্ষেপেই আমি হোঁচট খেয়েছিলাম, যেটা পরে আর পুষিয়ে উঠতে পারিনি।’ এর পরও নতুন মায়ের কণ্ঠে বিজয়মঞ্চে উঠতে পারার কৃতজ্ঞতা, ‘আমি কৃতজ্ঞ যে এখানে (টোকিও) আসতে পেরেছি। একজন মা হিসেবে আমি ভীষণ অভিভূত এবং চতুর্থ অলিম্পিকে এসেও বিজয়মঞ্চে উঠতে পেরেছি, এটা অনেক বড় সম্মান।’

রুপায় যখন সম্মান খুঁজছেন ৩৪ বছর বয়সী শেলি-অ্যান ফ্রেজার, তখন তাঁর সোনালি উত্তরাধিকারের পতাকা হাতে ২৯ বছর বয়সী অ্যালেইন থম্পসন-হেরাহ। স্প্রিন্টের আধিপত্য জ্যামাইকানের হাতেই।



সাতদিনের সেরা