kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

হেলেনা জাহাঙ্গীর রিমান্ডে

সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের অভিযোগ দুই মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



হেলেনা জাহাঙ্গীর রিমান্ডে

আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার রাতে এই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় গতকাল সন্ধ্যায় দুটি মামলা করেছে র‌্যাব।

এদিকে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারের পর অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে র‌্যাব। বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও ব্যক্তিদের সম্মানহানি করতেন তিনি। এ ছাড়া তিনি নানা ধরনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালানোর একটি সংঘবদ্ধচক্র গড়ে তুলেছিলেন।

রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দপ্তরে গতকাল বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানানো হয়। বলা হয়, এসব অপচেষ্টার অভিযোগেই হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‌্যাব জানায়, হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন, মিথ্যাচার, মাদক ও টেলিযোগাযোগ আইনে কয়েকটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলেনা জাহাঙ্গীর স্বীকার করেছেন যে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মানহানি ও সুনাম নষ্ট করেছেন। নিজের খ্যাতি লাভের আশায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে ছবি তুলে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে নিজেকে খ্যাতনামা হিসেবে উপস্থাপন করতে তিনি চাতুরীর আশ্রয় নিতেন।’ ব্যবসা থেকে রাজনীতিতে আসা হেলেনা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ছিলেন মন্তব্য করে খন্দকার আল মঈন জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন সময়ে মন্তব্যের জন্য আলোচিত অস্ট্রিয়াপ্রবাসী সেফাতউল্লাহ ওরফে সেফুদার সঙ্গেও হেলেনা জাহাঙ্গীরের নিয়মিত যোগাযোগ ও লেনদেন ছিল। তিনি সেফুদাকে নাতি ডাকতেন। তিনি বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর অপকৌশলের মাধ্যমে নিজেকে ‘মাদার তেরেসা’, ‘পল্লীমাতা’, ‘প্রবাসীমাতা’ হিসেবে পরিচিতি পেতে জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন।

টিভি চ্যানেল জয়যাত্রার অনুমোদন নেই : হেলেনার মালিকানাধীন আইপি টেলিভিশন চ্যানেল জয়যাত্রার কোনো অনুমোদন নেই বলে জানায় র‌্যাব। ওই চ্যানেলের কার্যালয় সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। আল মঈন জানান, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই আইপি টিভি চ্যানেল পরিচালনা করছিলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। তিনি জেলায় জেলায় প্রতিনিধি নিয়োগের নামে চাঁদাবাজি করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি ১২টি ক্লাবের সদস্য পদে রয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানের বাসায় অভিযান চালিয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। রাতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয় র‌্যাব সদর দপ্তরে। এ সময় তাঁর বাসা থেকে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, একটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, একটি হরিণের চামড়া, দুটি মোবাইল ফোনসেট, ১৯টি চেক বই ও বিদেশি মুদ্রা, দুটি অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, চাকু এবং ক্যাসিনোর সরঞ্জাম ৫৫৬টি চিপস জব্দ করা হয়। এরপর ওই রাতেই র‌্যাবের একটি দল মিরপুরে হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন জয়যাত্রা টেলিভিশন ও জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন ভবনে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে। পরে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল এ এম আজাদ জানান, অভিযানের সময় টিভি চ্যানেলটির অনুমোদন থাকার কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। চ্যানেলটির কার্যালয় সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। আর টিভির সম্প্রচার-সরঞ্জাম জব্দ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুই মামলা : হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গতকাল সন্ধ্যায় গুলশান থানায় দুটি মামলা করেছে র‌্যাব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্য প্রাণী আইন, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারায় আরেকটি মামলা করা হয়েছে।

‘আমি কোনো অপরাধ করিনি’ : হেলেনা জাহাঙ্গীর আদালতে নিজেকে নিরপরাধ দাবি করে বলেছেন, ‘আমি সরকারের  লোক। আমি আওয়ামী লীগের লোক। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২৫টি দেশ ভ্রমণ করেছি। আমি কোনো অপরাধ করিনি। তার প্রমাণ নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি বহিষ্কার হইনি। আমি এখনো দলের সঙ্গে আছি।’

এদিকে  হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারের সময় বাসা থেকে মাদকসহ মালপত্র জব্দ করার বিষয়ে বক্তব্যে হেলেনার মেয়ে জেসিয়া আলম বলেন, ‘আমার ভাইয়া মদ পান করে। সেগুলোই বাসায় ছিল। তবে ভাইয়ার মদপানের লাইসেন্স রয়েছে। আর ভাইয়ার বিয়ের সময় মায়ের সঙ্গে রাজনীতি করা নেতা-নেত্রীরা মিলে হরিণের চামড়া গিফট করেছে। তা ছাড়া সময় কাটানোর জন্য ক্যাসিনোর চিপসগুলো দিয়ে আমরা নিজেরাই খেলতাম।’

হেলেনার বিষয়ে আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল—তথ্যমন্ত্রী : আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর আইপি টিভির বিষয়ে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। গতকাল নিজের সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

ফাঁক-ফোকর দিয়ে দলের উপকমিটিতে এ ধরনের কারো ঢোকা সমীচীন হয়নি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এদের কমিটিতে রাখার বিষয়ে আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল। যাঁরা সুপারিশ করেছেন তাঁদের আরো জানাশোনার দরকার ছিল।

 



সাতদিনের সেরা