kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

দু-এক মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার চিন্তা

অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ, চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)

৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দু-এক মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার চিন্তা

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকায় সেশনজটে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এই সময় অনলাইনে ক্লাস চললেও ছয় মাস ধরে চেষ্টা করেও কোনোভাবেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যাচ্ছে না। যদিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আগেই ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যবস্থা দু-এক মাসের মধ্যে করা হবে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র শরীফুল আলম সুমন।

 

কালের কণ্ঠ : বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চাই।

কাজী শহীদুল্লাহ : আমরা বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক কষ্ট করে গুচ্ছ ভর্তিতে আসার জন্য রাজি করিয়েছি। যাতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ভোগান্তি লাঘব হয়। কিন্তু কভিড (করোনা) এসে তো সব তছনছ করে দিল। অনেক দিন হয়ে গেল, এখন আর আমাদের হাত গুটিয়ে বসে থাকলে হবে না। কভিড আরো এক-দেড় বছরও থাকতে পারে। কেউ কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে আনা, পরীক্ষা নেওয়া, ভর্তি করা—এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতেই হবে। শিক্ষাই একমাত্র খাত, যেটি কভিডে পুরোপুরিই বন্ধ আছে। অন্যান্য খাত কিছুদিন খুলছে, কিছুদিন বন্ধ আছে, যে কোনোভাবেই হোক চলছে।

 

কালের কণ্ঠ : শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতি কত দূর? কবে নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারে?

কাজী শহীদুল্লাহ : আমরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার পর্যায়ে রয়েছি। সরকার এখন শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে খুবই তৎপর। শিক্ষার্থীরাও টিকা নিচ্ছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হবে। আমি কিন্তু আগে থেকেই জোর গলায় বলছি, শুধু হলের ছাত্রদের টিকা দিলে চলবে না। কারণ ক্লাসে তো শুধু হলের ছাত্ররাই আসে না, অনাবাসিক ছাত্ররাও আসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচজনের বেঞ্চে গাদাগাদি করে আটজন বসে। তাহলে আমরা শুধু হলের ছাত্রদের টিকা দিয়ে কিভাবে করোনা ঠেকাব? তাই আবাসিক, অনাবাসিক, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সবাইকে টিকা দিতে হবে। সরকার কিন্তু সেদিকেই এগোচ্ছে। আমার বিশ্বাস, আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যবস্থা হবে। তার চেয়ে বড় বিষয় পরীক্ষা তো নিতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি, অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ ব্যাপারে উৎসাহ দিচ্ছি।

 

কালের কণ্ঠ : অনেক দিন ধরেই ভর্তি পরীক্ষা আটকে আছে, সে ব্যাপারে অগ্রগতি কত দূর?

কাজী শহীদুল্লাহ : এখন ভর্তি পরীক্ষাও যদি অনলাইনে নিতে হয়, সেটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চিন্তা করে দেখতে পারে। কিন্তু শুধু জিপিএ দিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা সম্ভব নয়। এতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা হতাশ হবেন। কারণ, আমরা আগে দেখেছি, জিপিএ ৫ পেয়েও অনেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে না। আর গত বছর তো এইচএসসির পরীক্ষাই নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কাউন্সিল আছে, ডিনস কমিটি আছে, তারাই এ ব্যাপারে কাজ করবে। আমরা ইউজিসি থেকে তাদের জেনারেল গাইডলাইন দিই।

 

কালের কণ্ঠ : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনলাইন ক্লাস নিয়ে আপনারা কি সন্তুষ্ট?

কাজী শহীদুল্লাহ : অনলাইনে ক্লাসের কথা বলা হলেও এটা আমাদের জন্য নতুন। শিক্ষকরা এ ব্যাপারে সেভাবে ট্রেইনড না। আমরা অনেক কষ্ট করে শিক্ষার্থীদের স্মার্ট ফোন কেনার জন্য ঋণ দিয়েছি। কিন্তু তার পরও নেটওয়ার্ক সমস্যা, রিমোর্ট এরিয়ায় বিদ্যুৎ সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। সমস্যার সমাধান বের করে আমাদের এগোতে হবে। সরাসরি ভর্তি পরীক্ষা নিতে পারলে তো ভালো, সেটা না হলে যদি অনলাইনেও নিতে হয়, তা-ও ভালো। চুপচাপ বসে থাকলে কোনো লাভ হবে না। এতে শুধু শিক্ষার্থীদের হতাশা বাড়ছে। আমাদের কভিড মোকাবেলা করেই এগোতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আগেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু করেছে। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়বে, আপনি কী মনে করেন?

কাজী শহীদুল্লাহ : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যদি আগে ভর্তি করে তাহলে কিছু শিক্ষার্থী একবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ভর্তি হবে, পরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলে চলে যাবে। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হবে, দুই জায়গায় ভর্তি হতে হলে বেশি অর্থ ব্যয় হবে। আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েরও শূন্য আসন পূরণ করতে সমস্যায় পড়তে হবে। আমার কাছে মনে হয়, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোটা ঠিক হবে না। তারা আগে যেভাবে ভর্তি করত, সেটাই অনুসরণ করা উচিত। কারণ আমরা যে হয়রানিটা কমানোর জন্য গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি চালু করেছি, এভাবে ভর্তি হলে সেটা তো থেকেই যাবে। আমরা সেই হয়রানিটা চাই না। ইউজিসির পক্ষ থেকে আমরা এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করব।

কালের কণ্ঠ : আপনাকে ধন্যাবাদ।

কাজী শহীদুল্লাহ : আপনাকেও ধন্যবাদ।



সাতদিনের সেরা