kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

আন্তর্জাতিক মানবপাচারবিরোধী দিবস আজ

করোনায় সাগরপথে মানবপাচারের ঢল

জয়নাল আবেদীন   

৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



করোনায় সাগরপথে মানবপাচারের ঢল

ফাইল ছবি

সোনার হরিণের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নেওয়া হয় গফরগাঁও উপজেলার ভরপুর গ্রামের মনজুরুল ইসলামকে। সেখান থেকে পাশের দেশ ওমানে। রাখা হয় সীমান্তবর্তী একটি ঘরে, যেখানে আগে থেকেই ছিল সাত-আটজন বাংলাদেশি। তাদের সবাইকে নিয়ে রাখা হয় সাগরপারে আরো ৩৫ বাংলাদেশির সঙ্গে। পাঁচ দিন পর মনজুরুলসহ ২২ জনকে নৌকায় তুলে নেওয়া হয়

ইরানের বন্দর আব্বাসে। পাচারকারীচক্র এবার মুক্তিপণের চাপ দেয়। সাড়ে তিন লাখ টাকা আদায়ের পর ইরান থেকে মনজুরুলকে নেওয়া হয় তুরস্কে। সেখান থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে। এরপর মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, ক্রোয়োশিয়া, অস্ট্রিয়া হয়ে সর্বশেষ জার্মানি। কিন্তু বিধিবাম! জার্মান পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দেশে ফিরতে হয় ময়মনসিংহের মনজুরুলকে।

এভাবেই দুঃসাহস নিয়ে ইউরোপের পথে ছুটছে হাজারো তরুণ-যুবা। কেউ উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখে, কেউবা অভাবী সংসারে আশার বাতি জ্বালাতে পা বাড়াচ্ছে অনিশ্চিত পথে। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অনেকে ইউরোপের নানা দেশে ঠাঁই করে নিলেও সবার এমন ভাগ্য হয় না। ভূমধ্যসাগরের জলে ডুবে নীল হচ্ছে তাদের স্বপ্নসাধ।

তথ্য বলছে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়া লোকজনের মধ্যে শীর্ষে এখন বাংলাদেশ। এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের ১৪.৫ শতাংশই বাংলাদেশি। ইউরোপের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ফ্রন্টেক্সের তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে এভাবে অন্তত ৬২ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছে।

বিভিন্ন খাতে দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন দেখা গেলেও মানবপাচার ঠেকাতে সরকারের জোরালো তৎপরতা দেখা যায় না। এদিকে সম্প্রতি ভারতে নারীপাচারের ঘটনা বেশ উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারাও পাচারের শিকার। শ্রম অভিবাসনের নামে বাংলাদেশি নারীদের দুবাই বা সিরিয়ায় বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনাও কম নয়। এই পরিস্থিতিতেই আজ শুক্রবার ৩০ জুলাই পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানবপাচারবিরোধী দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য—‘ভুক্তভোগীদের কণ্ঠস্বর পথ দেখায়।’

মানবপাচার ইস্যুতে কাজ করছে এমন সংস্থাগুলো বলছে, কভিড-১৯ মহামারি পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে প্রতিবছর গড়ে ছয় থেকে সাত লাখ মানুষ বৈধভাবে বিদেশে গেছে। কিন্তু কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এই সংখ্যা দুই লাখে নেমে আসে। স্বাভাবিক বৈদেশিক কর্মসংস্থান বন্ধ। করোনা শুরুর পর এক বছরে প্রায় পাঁচ লাখ প্রবাসী ফেরত এসেছে! এ অবস্থায় সামনের দিনগুলোতে লোকজন বিদেশে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতে পারে। ফলে অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ইউরোপের পথে বিপজ্জনক যাত্রা : ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাতে যেন ঢল নেমেছে বাংলাদেশিদের। সম্প্রতি ভিজিট ভিসায় দুবাই গিয়ে সেখান থেকে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা বেশি দেখা গেছে। গত দুই বছরে দেড় থেকে দুই লাখ মানুষ ভিজিট ভিসায় দুবাই গেছে। তাদের অনেকেই কাজ হারিয়ে দিশাহারা, চেষ্টা করছে ইউরোপে যাওয়ার। দুবাই ও ওমানে নতুন যাওয়া তরুণরাই মূলত পাচারকারীদের প্রধান টার্গেট।

তথ্যানুযায়ী, গত ২১ জুন লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে নৌডুবিতে ১৭ বাংলাদেশি প্রাণ হারায়। তিউনিশিয়ার কোস্ট গার্ড ভূমধ্যসাগর থেকে বাংলাদেশিসহ ৩৮০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। এর আগে ২৪ জুন ২৬৭ জনকে উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড, যার মধ্যে ২৬৪ জনই বাংলাদেশি। ১০ জুন ১৬৪ বাংলাদেশিকে তিউনিশিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয়। একই রুটে ইতালি যাওয়ার সময় গত ১৮ মে ৩৬ জন, ২৭ ও ২৮ মে ২৪৩ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে তিউনিশিয়ার কোস্ট গার্ড। এ বছর এভাবে মোট তিন হাজার ৩৩২ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার বা আটক করা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর বলেছে, ২০১৪ সাল থেকে এ বছরের জুন পযন্ত নানা দেশের মোট ২২ লাখ ২৪ হাজার ২৪৫ জন সাগরপথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আসে। আর এই কায়দায় ইউরোপে ঢুকতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ২১ হাজার ৭০৭ জন।

পাচারের ১৮ রুট : ইউরোপে মানবপাচারে বাংলাদেশি পাচারচক্র ব্যবহার করে ১৮টি রুট। ফ্রন্টেক্স বলছে, পৃথিবীর যেই দেশ থেকেই আসুক ইউরোপে ঢুকতে হলে শেষ পর্যন্ত মোট ৯টি পথ আছে। বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করছে ভূমধ্যসাগর। এই পথে ৩৭ হাজার ১৯৮ জন বাংলাদেশি ইউরোপে ঢুকেছে। গত কয়েক বছরে বলকান রুট দিয়েও প্রায় সাড়ে ছয় হাজার বাংলাদেশি প্রবেশ করেছে। এভাবে ইউরোপে ঢুকতে গিয়ে বসনিয়ার জঙ্গলে এখনো আটক আছে শতাধিক বাংলাদেশি।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ কিন্তু সিরিয়া, সুদান, ইরিত্রিয়ার মতো যুদ্ধ বা দারিদ্র্যপীড়িত দেশ নয়। তা সত্ত্বেও আমাদের লোকজন এভাবে ইউরোপে যাচ্ছে। আবার শ্রম অভিবাসনের নামে ভিজিট ভিসায় দুবাই যাচ্ছে। ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে নারী ও কিশোরীরা। অন্যদিকে রোহিঙ্গারাও পাচার হয়ে যাচ্ছে। পাচার প্রতিরোধে মানুষকে যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মামলাগুলোর দ্রুত বিচার হতে হবে।’

মামলার অগ্রগতি হয় না : মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে সরকার ২০১২ সালে আইন করেছে। ওই বছরের ৭ এপ্রিল এই আইনে প্রথম মামলাটি করেছিলেন নওগাঁ জেলার বাবু। তাঁর অভিযোগ ছিল, কাজের কথা বলে মিসরে নিয়ে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে। মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। আসামি জামিনে ছাড়া পান। ৯ বছরেও শেষ হয়নি বিচার। এরপর মামলা হয়েছে অনেক। গত মার্চ পর্যন্ত মামলার সংখ্যা পাঁচ হাজার ৭৩৮টি। নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ২৮২টি মামলা, যা মোট মামলার ৪ শতাংশ। সাজা হয়েছে ১ শতাংশেরও কম।

মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সালমা আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণে নারী ও শিশুপাচার বাড়ছে। বিচার ঝুলে থাকছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা পাচারকারীর তথ্য দিতে পারে না। নানা জটিলতায় এসব মামলা ধুঁকছে। করোনাকালে অনলাইনে পাচারের প্রবণতা বেড়েছে। অথচ দেশ যখন ডিজিটাইজেশনের পথে এগোচ্ছিল, আমরা তখন নীতিমালা ঠিক করতে বলেছিলাম। আইনের ফাঁকে বেরিয়ে অপরাধীরা আরো বড় অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।’

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মানবপাচারবিষয়ক সেলের বিশেষ পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান বলেন, বিদেশে পাচারের ঘটনায় বেশির ভাগ সময় ভুক্তভোগীরা যথেষ্ট তথ্য দিতে চায় না। আবার অনেক মামলার বাদী বা ভুক্তভোগীকেই পাওয়া যায় না। ভূমধ্যসাগর দিয়ে যারা মানবপাচারের শিকার তারা কোনো অভিযোগও করে না। তবে পুলিশ দেশে-বিদেশে পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক খুঁজছে। পাচারকারীরা পার পাবে না।

ট্রানজিট রুট ভারত : সম্প্রতি মানবপাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য। বাংলাদেশের তিনদিকে অন্তত ৩০টি জেলার সঙ্গে ভারতের সীমান্ত। সম্প্রতি টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কিশোরীদের ভারতে পাচারের ঘটনা উঠে এসেছে। মানবপাচারের মামলার তথ্য তুলে ধরে পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার নারী পাচারের শিকার হয়েছে।

গত ১০ বছরে আইনি প্রক্রিয়ায় ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা দুই হাজার নারীর মধ্যে ৬৭৫ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রগ্রাম। এতে দেখা গেছে, ১৬ থেকে ২০ বছরের কিশোরীরা সবচেয়ে বেশি পাচারের শিকার। এর পরই আছে ১১ থেকে ১৫ বছরের কিশোরীরা। বেশির ভাগই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলার।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষণায় দেখা গেছে, পাচারকারীরা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সংকটে থাকা পরিবারের শিশু-কিশোরীদের টার্গেট করছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভারতে ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের মানবপাচারচক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এই নারীদের বেশির ভাগকে জোর করে যৌন পেশায় বাধ্য করা হয়।

অনলাইনে টোপ : গবেষণা বলছে, ১৪ থেকে ৩০ বছর বয়সী মেয়েরাই অ্যাপে বেশি আসক্ত। এই বয়স সীমার মেয়েরাই পাচারের শিকার হয় বেশি। আবেগ, নিজেকে উপস্থাপনের প্রবণতা এবং দারিদ্র্যই পাচারকারীদের বড় সম্বল। পাচারের ক্ষেত্রে ফেসবুক, টিকটক, লাইকিসহ সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যম অনেক বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের গবেষণার তথ্য, পাচারের শিকার মেয়েদের ৩০ শতাংশেরই পাচারকারীর সঙ্গে প্রথম পরিচয় বিভিন্ন অ্যাপে। সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর তরিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, পাচারকারীরা এখন অনলাইনে বসেই শিকার খোঁজে। এ জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে নজর রাখতে হবে। মানবপাচার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এটি খুবই জরুরি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারতের কলকাতা, হায়দ্রাবাদ, মুম্বাইভিত্তিক একটি চক্র দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে একটি শক্তিশালী পাচারের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, টিকটকে ভিডিও দেখার পর একটি মেয়েকে টার্গেট করে পাচারকারীরা। প্রথমেই মেয়েটিকে মডেল বানানোর লোভে ফেলা হয়। তারপর ওই মেয়েকে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় চক্রটি। ভিডিও বানানোর নাম করে কৌশলে অশ্লীল ফুটেজ ধারণ করে তাকে জিম্মি করা হয়। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির কাছে হার মেনে ওই মেয়ে পাচার হয়ে যায়।

পাচারের শিকার রোহিঙ্গারা : কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের মালয়েশিয়ায় পাচারের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। রোহিঙ্গাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য মালয়েশিয়া। আশ্রয়শিবিরে নানা কারণে রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। মূলত এই শ্রেণির রোহিঙ্গারাই দালালের ফাঁদে পা দেয় বেশি। ছেলেদের ভালো চাকরি এবং মেয়েদের ভালো পাত্রের টোপ দেওয়া হয়। বাস্তবে মালয়েশিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার পর বন্দি করা হয় দাসত্বের জীবনে। অথচ তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় দালালচক্র।

ইউএনএইচসিআর বলছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে এক হাজার ৫৯৭ জন রোহিঙ্গা পাচার হয়। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বৃদ্ধি পায় মানবপাচার। ২০২০ সালে অন্তত দুই হাজার ৪০০ মানুষ সাগরপথে পাড়ি দিয়েছে। অন্তত ২০০ জন রোহিঙ্গা সাগরে ডুবে মারা গেছে পাচারকালে।

মানবপাচার প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে দাতব্য সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। সংস্থাটির গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে দুই বছরে শুধু কক্সবাজার থেকেই পাচারের শিকার হয়েছে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা। এর মধ্যে তিন শতাধিক ব্যক্তি পাচার হয়েছে গত এক বছরে।

 



সাতদিনের সেরা