kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

এক দিনেই ১৫৩ ডেঙ্গু রোগী

► ছাদে বা আঙিনায় পানি জমে থাকলে আমাদের জানান : তাপস
► যে ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী সবচেয়ে কম, সেই কাউন্সিলর পুরস্কার পাবেন : আতিক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এক দিনেই ১৫৩ ডেঙ্গু রোগী

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেই প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী, বিশেষ করে ঢাকায় রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এদের মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালেই ডেঙ্গু রোগী যাচ্ছে বেশি। সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার হিসাবে দেশে ১৫৩ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫০ জনই ঢাকায়। ঢাকায় ভর্তি হওয়া রোগীর মধ্যে ১১৪ জনই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ৩৬ জন ভর্তি হয়েছে সরকারি হাসপাতালে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি ডেঙ্গু মৌসুমে দেশে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগী দুই হাজার ৯৮ জন, যার মধ্যে এক হাজার ৫২৬ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। এখন হাসপাতালে আছে ৫৬৮ জন, যাদের মধ্যে ৫৫৭ জন ঢাকায় এবং ১১ জন ঢাকার বাইরে। চলতি জুলাই মাসে গতকাল পর্যন্ত ২৮ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৭২৬ জন, জুন মাসে যা ছিল ২৭২ জন।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্রগুলো জানায়, অনেকে সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করালেও ভর্তি হওয়ার দরকার হলে তাদের বেশির ভাগই চলে যায় বেসরকারি হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীর ভিড় বেশি থাকায় ভয়ে অনেকেই সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে চায় না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল  ইসলাম বলেন, সব হাসপাতালে করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু টেস্ট করতে বলা হয়েছে। সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার অ্যান্টিজেন কিটের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। জ্বরের উপসর্গ থাকলেই করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু টেস্ট করাও জরুরি।

ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকার দুই মেয়রের সতর্কতা

ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র গতকালও কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সহযোগিতা চান। দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগস্ট মাসটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আগে নগরবাসীকে তা প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করতে হবে।’ উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘোষণা দেন, যে ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী সবচেয়ে কম থাকবে সেই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে পুরস্কৃত করা হবে। একই সঙ্গে লার্ভা থাকা বিভিন্ন স্থাপনার ছবি যে স্বেচ্ছাসেবক সবচেয়ে বেশি তুলে দেবেন তাঁকেও পুরস্কৃত করা হবে।

শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ হাইওয়ে সংলগ্ন দক্ষিণ সিটির ৫৮ ও ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা ম্যাচ কলোনিতে জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তো মানুষের ছাদে উঠতে পারি না। আপনারা যদি দেখেন যে ছাদে কোথাও পানি জমে আছে, নিজে পরিষ্কার করতে পারবেন না, তাহলে আমাদের জানান। আমরা এসে পরিষ্কার করে দিয়ে যাব। আপনারা যদি কোনো প্রতিবেশীর আঙিনায় পানি জমে থাকতে দেখেন, তাহলে তাদের দিকে না তাকিয়ে আমাদের জানান। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে উপস্থিত হব। আমরাই জমে থাকা পানি পরিষ্কার করে দেব। আমাদের শুধু তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনেক বড় এলাকা নিয়ে গঠিত। তাই প্রত্যেকের ঘরে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। এ জন্য আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আগেই আমাদের তথ্য দিন। রোগী হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে তথ্য নিয়ে লাভ হয় না। মশার প্রজননের আগে লার্ভা পর্যায়ে তথ্য দিন। এতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’

পরে মেয়র তাপস নগরীর ৫৯, ৫৮ ও ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি স্থান এবং দক্ষিণ সিটি ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. বদরুল আমিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শরীফ আহমেদসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

উত্তরের মেয়র আতিক মোহাম্মদপুর এলাকায় মশক নিধন অভিযানের সময় পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আমরা একটা নতুন ক্যাম্পেইন করতে যাচ্ছি। এই ক্যাম্পেইনে প্রতি শনিবার সকাল ১০টায় ১০ মিনিটের জন্য নগরবাসী নিজ নিজ বাসাবাড়ি এবং এর আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করবে।’ 

এ সময় অভিনেতা মোশাররফ করিম বলেন, “শহরটা শুধু আতিক ভাইয়ের একার নয়। আমাদের সবার। আমরা ‘আমি’ থেকে ‘আমরা’ হতে চাই। আমরা এমনিতেই করোনার ঝামেলায় আছি। তার মধ্যে এই অভিযান আমাদের সবার নিরাপত্তার জন্যই। আমরা যাতে সুস্থ থাকি তার জন্যই এই প্রচারণা।”

এ সময়  ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজাসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযান শেষে মেয়র আতিকের নেতৃত্বে একটি মোটর শোভাযাত্রা বের করা হয়। 

 



সাতদিনের সেরা