kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

টিসিবির লাইনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ

এক হাজার টাকার বাজারে ক্রেতার সাশ্রয় প্রায় ৩০০ টাকা

রোকন মাহমুদ   

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এক হাজার টাকার বাজারে ক্রেতার সাশ্রয় প্রায় ৩০০ টাকা

বাজারে বর্তমানে পাঁচ লিটারের ভোজ্য তেল সয়াবিনের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭১০ টাকা। একই তেল সরকারি সংস্থা টিসিবির ট্রাকে পাওয়া যাচ্ছে ৫০০ টাকায়। এ ছাড়া বাজার থেকে দুই কেজি চিনি কিনতে লাগছে ১৪০ টাকা, টিসিবির ট্রাকে পাওয়া যাচ্ছে ১১০ টাকায়। খোলাবাজারে দুই কেজি মসুর ডাল ১৬০ টাকা, একই মানের ডাল টিসিবির ট্রাক থেকে কেনা যায় ১১০ টাকায়। শুধু তেলেই ক্রেতার সাশ্রয় ২০০ টাকা। চিনিতে ৩০ টাকা আর ডালে ৫০ টাকা। খোলাবাজারের এক হাজার টাকার পণ্য টিসিবির ট্রাক থেকে কেনা যায় ৭২০ টাকায়। এতে ক্রেতার সাশ্রয় প্রায় ৩০০ টাকা। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের আয়ে যখন টান পড়েছে তখন কে না চাইবে এই সাশ্রয়। এ পরিস্থিতির মধ্যে ঈদের পরও কমেনি টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কেনার দীর্ঘ লাইন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষই সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্যের ক্রেতা। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের সঙ্গে সচ্ছলরাও এখন আগ্রহী হয়ে উঠছে সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য কেনায়। সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও টিসিবির পণ্য কিনছেন। তবে তাঁরা লাইনে দাঁড়াতে সংকোচ বোধ করায় পিয়ন কিংবা অন্যভাবে এসব পণ্য কিনছেন। আর আগে কিছুটা সংকোচ বোধ করলেও এখন আর লাইনে দাঁড়াতে সংকোচ করছেন না মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। নিম্ন আয়ের মানুষের সঙ্গে একই লাইনে দাঁড়িয়ে কিছুটা সাশ্রয়ের জন্য পণ্য কিনছেন তাঁরা। এ কথা বলা যায়, বর্তমানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষই টিসিবির পণ্যে আগ্রহী।

গতকাল রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট, মাতিঝিল শাপলা চত্বর, ফকিরাপুল, যাত্রাবাড়ী মোড়সহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ট্রাকের পেছনে ক্রেতার দীর্ঘ লাইন। এসব ক্রেতার প্রথম আগ্রহ ভোজ্য তেল সয়াবিনে। এ ছাড়া মসুর ডাল ও চিনিও কিনছে অনেক ক্রেতা। কেউ কেউ একাই চাচ্ছে দুজনের পণ্য। বিক্রেতা দিতে না চাইলেও বারবার অনুরোধ করছে। বলছে, জরুরি কাজ থাকায় আরেকজন পণ্যের টাকা দিয়ে গেছে তার কাছে। অনেকে আবার কৌশল করে বেশি পণ্য নিতে চাচ্ছে। এ নিয়ে বচসা হতেও দেখা গেছে লাইনে দাঁড়ানো অন্যদের সঙ্গে।

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় মতিঝিল শাপলা চত্বরে গিয়ে দেখা গেল, শ দেড়েক মানুষ লাইনে দাঁড়ানো। মিনিট দশেক দাঁড়িয়েও লাইনের মানুষ কমতে দেখা যায়নি। একজন কিনে চলে গেলে নতুন কয়েকজন এসে লাইনে যুক্ত হচ্ছে। লাইনে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী জানান, তাঁর অফিসের একজন স্যার টাকা দিয়েছেন তাঁর জন্য তেল-ডাল কিনতে। তাই তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছেন। আশপাশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রিকশাচালক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দেখা গেছে টিসিবির পণ্যের লাইনে।

খিলগাঁও রেলগেটে টিসিবির পণ্য কেনার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন কুলসুম বেগম। তিনি জানান, আগে ছোট একটি বুটিক শপ চালাতেন । করোনায় তা বন্ধ রয়েছে। পাঁচজনের সংসার তাঁর। আগে বাড়তি যে আয় হতো তা এখন নেই। তাই কিছুটা সাশ্রয়ের জন্য টিসিবির পণ্য কিনতে এসেছেন।

তবে এলাকার ক্রেতাদের অভিযোগ, অনেকে দুইবারও পণ্য কিনে নেয় সুযোগ বুঝে। আবার অনেকে লাইনের পেছনে থাকায় পণ্য পাচ্ছে না।

ফকিরাপুল তেল পাম্পের কাছে টিসিবির ট্রাকে পণ্য বিক্রয়কারী ডিলার প্রতিনিধি আলম বলেন, ‘এত মানুষের মধ্যে কজনের মুখ চিনে রাখা যায়। তবে যাদের আমরা চিনে ফেলি, তাদের লাইন থেকে বের করে দিই। ট্রাকে এখন পণ্যের বরাদ্দ কম। তাই সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয় না।’

গত ১৮ জুলাই পর্যন্ত তেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রি করা হতো। গত ২৬ জুলাই থেকে সারা দেশে ৪৫০টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি করছে টিসিবি। এর মধ্যে ঢাকা সিটিতে ৮০টি ও চট্টগ্রাম সিটিতে ২০টি ট্রাক রয়েছে। টিসিবির এবারের ট্রাকে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম সরকারি ছুটির দিন ছাড়া আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

 



সাতদিনের সেরা