kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত-মৃত্যুর রেকর্ড

মৃত্যু ২৪৭, শনাক্ত ১৫১৯২

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত-মৃত্যুর রেকর্ড

দেশে করোনাভাইরাস মহামারির ১৬ মাসের ইতিহাসে সব সূচকে সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার হিসাবে। এক দিনেই ২৪৭ জনের মৃত্যু, ১৫ হাজার ১৯২ জন শনাক্ত, সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ৯৫২ জনের নমুনা পরীক্ষা এবং সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৫২ জন সুস্থ হয়েছে। এর আগে সর্বোচ্চ ২৩১ জনের মৃত্যু হয় গত ১৯ জুলাই ও সর্বোচ্চ শনাক্ত হয় গত ১২ জুলাই ১৩ হাজার ৭৬৮ জন।

এ ক্ষেত্রে পরীক্ষা বেশি হওয়ায় শনাক্ত বেশি হয়েছে, আর দুই সপ্তাহ আগে যে হারে সংক্রমণ ছিল সেই হারেই মৃত্যু বেশি এবং হাসপাতালে যেহেতু রোগী ছিল বেশি, তাই তাদের মধ্যে সুস্থও বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও দৈনিক শনাক্তের হার অনেকটা গত কয়েক দিনের ধারায় ২৯.৮২ শতাংশ রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শনাক্তসংখ্যায় বেশি হলেও হার একই আছে। তার মানে ঈদের আগে থেকে যে ধারা ছিল সেটা যেমন গত দু-তিন দিন দেখা গেছে, গতকালও তা-ই হয়েছে। কিন্তু ভয় হচ্ছে, ঈদের আগে শিথিল সময়ের প্রভাব দেখার জন্য আরো কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ আমরা যে আশঙ্কা করে আসছিলাম, সেটা এখনো আসেনি, আসবে সামনে।’ তিনি বলেন, মৃত্যু সব সময়ই দু-তিন সপ্তাহের আগের আক্রান্তদের মধ্য থেকেই ঘটে থাকে। ফলে এখন যারা আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের মধ্য থেকে দুর্ভাগ্যক্রমে অনেক বেশি মৃত্যু দেখতে হতে পারে আরো দু-তিন সপ্তাহ পর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২৪৭ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭২ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর ৬১ জন চট্টগ্রামে, ৪৬ জন খুলনায়, ২১ জন রাজশাহীতে, রংপুরে ১৬ জন, সিলেটে ১৪ জন, বরিশালে ১২ জন ও ময়মনসিংহে পাঁচজন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪১ জন ও নারী ১০৬ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৩ জনের বয়স ৬১-৭০ বছর, ৫৯ জন ৫১-৬০ বছর, ৪৫ জন ৭১-৮০ বছর, ৩০ জন ৪১-৫০ বছর, ১৭ জন ৮১-৯০ বছর, ১৬ জন ৪১-৪০ বছর, তিনজন ২১-৩০ বছর, দুজন ৯০-৯১ বছর এবং দুজন ১১-২০ বছরের।

দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১৯ হাজার ৫২১ জন ও সুস্থ হয়েছে ১০ লাখ ৯ হাজার ৯৭৫ জন।

এদিকে গতকাল পাওয়া তথ্য অনুসারে ঢাকার ১৬টি সরকারি ও ২৮টি বেসরকারি হাসপাতাল মিলে মোট ৪৪টির মধ্যে ২৬টিতে কোনো কভিড আইসিইউ বেড খালি ছিল না। আর ১৮টিতে খালি ছিল না কভিড জেনারেল বেডও। এর মধ্যে পাঁচটি হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকলেও বাকিগুলোতে সেই ব্যবস্থা করারও সুযোগ নেই। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আগে থেকে প্রতিদিনই থাকছে অতিরিক্ত রোগী। আইসিইউ খালি নেই একটিও। ঢাকা মেডিক্যাল, কুয়েত মৈত্রীও পরিপূর্ণ কভিড রোগীতে।

শনাক্ত হিসাবে গতকাল সর্বোচ ৪২ শতাংশ শনাক্ত ছিল সিলেটে, ৩৯.৫৫ শতাংশ বরিশালে, ৩৭.৬০ শতাংশ চট্টগ্রামে, ২৯.৭৬ শতাংশ ময়মনসিংহে, ২৮.৮৫ ঢাকা বিভাগে, ২৭.৩৬ শতাংশ রংপুরে, ২৬.৩০ শতাংশ খুলনায় এবং ২০.৭৬ শতাংশ রাজশাহীতে।

 



সাতদিনের সেরা