kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

সাক্ষাৎকার

মানুষকে সেবা দিচ্ছি ভালোবেসে

মুহা. শফিকুল ইসলাম, কমিশনার, ডিএমপি

২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মানুষকে সেবা দিচ্ছি ভালোবেসে

দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ রোধে দেশজুড়ে চলছে কঠোর বিধি-নিষেধ। এ অবস্থায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে নিজেদের জীবন বাজি রেখে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন ডিএমপি কমিশনার মুহা. শফিকুল ইসলাম। ডিএমপি সদর দপ্তরে সশরীরে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রেজোয়ান বিশ্বাস।

 

 

কালের কণ্ঠ : করোনা সংক্রমণের এই সময়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ জনগণের সেবায় কিভাবে কাজ করছে?

ডিএমপি কমিশনার : শুরু থেকেই নিজের জীবন বাজি রেখে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে মানুষকে সেবা দিয়ে চলেছি আমরা। ঢাকা মহানগরে করোনা রোগীদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এরই মধ্যে আমাদের অনেক সদস্য এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা সংক্রমণে মারা গেছেন ৩২ জন পুলিশ সদস্য। তাঁরা সবাই নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে মানুষের পাশে থেকে মানবিক দায়িত্ব পালন করছেন।

 

কালের কণ্ঠ : কিভাবে এই কঠিনকে জয় করছেন আপনারা?

ডিএমপি কমিশনার : করোনা যখন প্রথম শুরু হলো, তখন সমাজের প্রায় সর্বস্তরের মানুষই চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়ে যায়। বাবা মারা গেলে সন্তান তার লাশের পাশে যায়নি—এমন চিত্র অহরহই ঘটেছে। তখন আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। সামনে থেকে তাদের সাহস জুগিয়েছি। লকডাউনের সময় সরকারের নির্দেশনায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি আমরা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনসহ অনেকেই এক দিনের বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দিয়েছেন। এতে সারা দেশের মানুষ করোনার প্রথম ঢেউয়ে অনেকটা ভালোভাবে ছিল। পুলিশ মানবিক হওয়ায় এসব সম্ভব হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : কভিড আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া রোগীর লাশ নিয়ে মানুষের আতঙ্ক দূর করতে আপনাদের ভূমিকাটি কী রকম?

ডিএমপি কমিশনার : দেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর শুরুতে সরকার কবরস্থানগুলো নির্ধারণ করে দিলেও সেখানে লাশ দাফন করতে গিয়ে কিছুটা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। হাজারো মানুষ বিরোধিতা করে বলেছে যে কভিড রোগীর লাশ সেখানে দাফন করা যাবে না। এরপর বিষয়টি নিয়ে আমরা মানুষকে বুঝিয়েছি। তারপর লাশ দাফন করেছি।

 

কালের কণ্ঠ : করোনার শুরু থেকে দুস্থ মানুষের জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা সম্পর্কে বলুন।

ডিএমপি কমিশনার : দেড় বছর আগে করোনার শুরু থেকেই আমরা অসহায় অভাবী মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করেছিলাম। এখনো তা অব্যাহত আছে। এবারও আমরা প্রত্যেক থানায় ২০০টি করে খাবার প্যাকেট দিয়েছি। আমরা আমাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।

 

কালের কণ্ঠ : অনেকেই লকডাউন মানতে চায় না। এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা কেমন?

ডিএমপি কমিশনার : মানুষ সেভাবে চ্যালেঞ্জ করছে না পুলিশকে। তবে চোর-পুলিশ খেলা চলছে। পুলিশ এলে মাস্ক পরছে, দোকানের শাটার নামিয়ে দিচ্ছে। পুলিশ চলে গেলে আবার তারা দোকান খুলছে। পুলিশকে ফাঁকি দেওয়া সচেতন মানুষের কাজ না। বাঁচার জন্য নিজের চেষ্টাটা জরুরি। সেই চেষ্টাটাই আমরা সবাই মিলে দেড় বছর ধরে করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আমরা লাঠি বা শক্তি প্রয়োগ করিনি। আর শক্তি প্রয়োগ করে হয়তো এক-দুই দিন এ থেকে বিরত রাখা যাবে; কিন্তু মানুষ এটা অন্তর থেকে বোধ না করলে মাসের পর মাস তা সম্ভব নয়।

 

কালের কণ্ঠ : করোনাকালে পুলিশের স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনে কতটা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

ডিএমপি কমিশনার : স্বাস্থ্য সচেতনতার ব্যাপারে পুলিশ অনেক সচেতন। ডিএমপিতে এরই মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি সদস্য টিকা নিয়েছেন। এ কারণে এখন পুলিশে সংক্রমণের হার কম। রাজারবাগ পুলিশ ব্যারাক, সিআইডি কার্যালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, ডিএসবিসহ অন্য ইউনিটে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরাও আমাদের ব্যারাক ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে টিনশেড করে তিনটি বড় ব্যারাকে দেড় হাজারের বেশি সদস্যকে রাখতে পারছি। তাঁরা নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনেই থাকছেন। গত তিন সপ্তাহে ডিএমপিতে ৭০ জনের মতো সদস্য করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : সবাইকে মানবিক হতে আপনার পক্ষ থেকে বার্তা?

ডিএমপি কমিশনার : জনগণের উদ্দেশে বলব, সবাই সচেতন হলে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে যাবে। পুলিশকে ফাঁকি না দিয়ে নিজে সচেতন হতে হবে। আমরা যে রাস্তায় আছি, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সদস্য মারা গেছেন, হাজার হাজার সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন; আর তা কিন্তু আপনাদের নিরাপত্তা দিতে গিয়েই। সুতরাং নিজে নিরাপদ থাকুন, অন্যকেও নিরাপদে থাকার সুযোগ দিন।

 

কালের কণ্ঠ : আপনাকে ধন্যবাদ।

ডিএমপি কমিশনার : আপনাকেও ধন্যবাদ।



সাতদিনের সেরা