kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

সৌম্যর পর শামীমের ব্যাটে সিরিজ বাংলাদেশের

জিম্বাবুয়ে : ২০ ওভারে ১৯৩/৫, বাংলাদেশ : ১৯.২ ওভারে ১৯৪/৫, ফল : বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সৌম্যর পর শামীমের ব্যাটে সিরিজ বাংলাদেশের

১৯৩ রানের পাহাড় জয় করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি জিতেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এত বেশি রান তাড়া করে এবারই প্রথম জিতল মাহমুদ উল্লাহর দল। তাতে ২-১ ব্যবধানে নিশ্চিত হয়েছে সিরিজও। ছবি : বিসিবি

বড় রান তাড়ায় যখন ৩৬ বলে দরকার ৫৪ রান, তখনই যেন শ্বাসরুদ্ধকর এক সমাপ্তির সম্ভাবনা জাগালেন ব্লেজিং মুজারাবানি। এই জিম্বাবুইয়ান পেসার তাঁর ওই ওভারে ৪টি ডট বল দিয়ে খরচ করলেন মাত্র ২ রান! কিন্তু সিরিজে নিজের দ্বিতীয় ফিফটিতে সৌম্য সরকার জয়ের ভিত গড়ে দিয়ে যাওয়ার পর শেষ দিকে সময়ের দাবি মেটানো ব্যাটিং করলেন আগের ম্যাচেই অভিষিক্ত শামীম হোসেন। যে ম্যাচে দলের হারে সিরিজে সমতা ফিরলেও কাল হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে এই তরুণের ১৫ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংসে রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার অপেক্ষাও আর থাকল না। ৪ বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশ ৫ উইকেটেই শুধু জিতল না, টেস্ট আর ওয়ানডের পর জিতে নিল তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও।

যদিও শেষ ম্যাচে স্বাগতিকরা বড় এক চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দিয়েছিল। উইকেট যতই ব্যাটিং সহায়ক হোক না কেন, রান তাড়ায় ১৯৪ রানের লক্ষ্য সহজ ছিল না মোটেও। মুজারাবানির সেই ওভারটির আগেই সৌম্য ফিরে যাওয়ার পর দলকে কক্ষচ্যুত হতে না দেওয়ার কৃতিত্বের ভাগীদার অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহও। জয় থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থাকতে বিদায় নেওয়ার আগে ২৮ বলে তাঁর ৩৪ রানের ইনিংস টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় রেখেছে দায়িত্ববোধের ছাপও। এর চেয়ে বেশি রান তাড়ার ঘটনা একটিই। সেটি ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে। সেবার ২১৫ রান করে জিতেছিল বাংলাদেশ।

এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও দুই শর বেশি রান তাড়া করতে হয় কি না, টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া স্বাগতিকদের ঝড়ের বেগে ব্যাটিং কাল জাগাচ্ছিল সেই সংশয়ও। সেই ঝড়ের গতিবেগ বোঝাতে তাসকিন আহমেদের করা ম্যাচের চতুর্থ ওভারটির কথাই বলা যাক। ওভারের প্রথম ৫ বলেই বাউন্ডারি হাঁকান জিম্বাবুইয়ান ওপেনার ওয়েসলি মাধভেরে। এর মধ্যে দুটি দুর্দান্ত স্ট্রেইট ড্রাইভে, বাকি তিনটি পুল শটে। শেষ বলেও চার মারার চেষ্টায় অবশ্য ব্যাটে-বলে হয়নি। তখনো ঠিক বোঝার উপায় ছিল না যে আরো কী বিভীষিকা অপেক্ষা করে আছে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য। দুটি করে চার আর ছক্কায় আরেক জিম্বাবুইয়ান ওপেনার টাডিওয়ানাশে মারুমানি ২০ বলে ২৭ রান করে বিদায় নেওয়ার পর রেজিস চাকাভা নামতেই শুরু হয় আসল ঝড়টা। মাধভেরের সঙ্গে তাঁর ফিফটি পার্টনারশিপ হয়ে যায় মাত্র ২৮ বলেই। ৫২ রানের মধ্যে চাকাভার অবদান যেখানে ছিল ১৯ বলে ৪১, সেখানে মাধভেরের ৯ বলে ১০! ৯.৩ ওভারেই জিম্বাবুয়ে পার করে ফেলে ১০০ রান। সাকিব আল হাসান থেকে শুরু করে আরেক বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ, চাকাভার তোপ থেকে বাঁচেননি কেউই। বিশেষ করে ঝড় নাসুমের ওপর দিয়ে গেছে একটু বেশিই। তাঁর এক ওভারেই যে চাকাভা মারেন টানা তিন ছক্কা।

চাকাভার ব্যাটিংয়ে অবলীলায় দুই শ পার করার স্বপ্ন দেখা জিম্বাবুয়ে অবশ্য ধাক্কা খায় অসাধারণ এক ‘যৌথ’ ক্যাচে। স্লগ সুইপে সৌম্য সরকারকে উড়িয়ে মারেন চাকাভা। সীমানায় ক্যাচ তালুবন্দি করলেও নাঈম শেখ ভারসাম্য হারিয়ে ছিটকে যাচ্ছিলেন বাইরেই। ওই অবস্থায় সীমানার বাইরে পড়ার আগে বল পেছনে ছুড়ে মারেন। সেখানে অপেক্ষমাণ শামীমের ক্যাচে শেষ হয় ২২ বলে ৬ ছক্কায় সাজানো চাকাভার ৪৮ রানের ঝড়। একই ওভারে ৩ বল পর জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে (০) বোল্ড করে নিজ দলের বোলারদের বেদম মার খাওয়ার দিনে সফলতম সৌম্য সরকারই। স্লো মিডিয়াম পেসে ৩ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। পরে ৯ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৪৯ বলে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৬৮ রানের ইনিংসে ম্যাচসেরা তো বটেই, সিরিজসেরা খেলোয়াড়ও সৌম্যই। সিরিজের প্রথম ম্যাচেও তো অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য হয়েছিলেন ম্যাচের সেরা।

আগের ম্যাচে ৭৩ রানের ইনিংসে দলকে সিরিজে সমতা ফেরানো মাধভেরে এদিনও করেন ফিফটি। ৩৬ বলে ৫৪ রান করে হন সাকিবের শিকার। শেষ দিকে ১৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কার মারে অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংসে স্বাগতিকদের ১৯০ পার করিয়ে নেন রায়ান বার্ল। এত রান তাড়ায় খেই না হারানো বাংলাদেশ জয়ের কক্ষপথেই ছিল। মুজারাবানির সেই ওভারটি জমজমাট নিষ্পত্তির সম্ভাবনা তৈরি করলেও শামীমের ব্যাটে তা আর হয়নি। ১৫ বলে যখন দরকার ২৫ রান, তখনই ডিওন মায়ার্সকে মারা টানা তিন বাউন্ডারিতে সমীকরণ একেবারেই সহজ করে ফেলেন এই তরুণ।



সাতদিনের সেরা