kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ছাড়ে স্থবিরতা

পরিস্থিতি উত্তরণে বিকল্প প্রস্তাব বন্দর কর্তৃপক্ষের

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ছাড়ে স্থবিরতা

ঈদ-পরবর্তী ‘কভিড শাটডাউনে’ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি পণ্য ছাড়ে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০২০ সালে প্রথম লকডাউনে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে সৃষ্ট অচলাবস্থার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। এ পরিস্থিতিতে অচলাবস্থা রোধে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার একক পণ্যভর্তি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছাড় হয়। কভিড লকডাউন চলাকালে পণ্যছাড়ের পরিমাণ নেমে আসে দেড় থেকে দুই হাজার এককে। কিন্তু ২০ জুলাই থেকে পণ্যছাড়ে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ২১ ও ২২ জুলাই বন্দর থেকে কোনো পণ্য ছাড় হয়নি। ২৩ জুলাই মাত্র ৩৯ একক ও পরদিন ২৪ জুলাই তা ৬০০ এককে নেমে আসে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, পণ্য আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে শিল্প-কারখানা খোলা রাখা ও বন্দর সচল থাকা পরস্পর ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটিতে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেই সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়। শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় বন্দরে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই; কেউ ঠেকাতে পারবে না। একজন আমদানিকারক পণ্য ছাড় করে কোথায় নেবেন? শিল্প-কারখানা বন্ধ। লকডাউনে ভোগ্য পণ্য বেচাকেনার বাজারও মন্দা। ফলে আমদানিকারকরা বাধ্য হয়েই বন্দর ইয়ার্ডে পণ্য রেখে দিচ্ছেন।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, ঈদের ছুটির দিন আট ঘণ্টা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া দেশের কোনো সমুদ্রবন্দরই বন্ধ থাকে না। কিন্তু বন্দর খোলা রাখলেও তা সচল থাকা নির্ভর করে বন্দর ব্যবহারকারীদের ওপর। এর আগের সব লকডাউনে চট্টগ্রাম বন্দর অনেকটাই সচল থেকেছে। এর প্রধান কারণ বন্দর ব্যবহারকারীরা সচল ছিলেন। আর ব্যবহারকারীরা সচল থাকেন শিল্প-কারখানা খোলা থাকলে। ২০২০ সালের মার্চে প্রথম লকডাউনে হঠাৎ করেই শিল্প-কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় বিপর্যয় নেমে আসে পণ্য উৎপাদনে; অচলাবস্থা নেমে আসে পণ্য রপ্তানিতেও।

দেশের পোশাক শিল্প-কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শিল্প-কারখানা খোলা থাকলেই শুধু পণ্য উৎপাদন হবে, আর সেই পণ্য রপ্তানি হবে বন্দর দিয়ে। এখন কারখানা বন্ধ থাকার ক্ষতিকর প্রভাব বোঝা যাবে কিছুদিন পর। এ জন্য আমরা সরকারকে বলেছি ১ আগস্ট থেকে শিল্প-কারখানা চালু রাখতে। তাহলে আর্থিক ক্ষতি কিছুটা হলেও পোষানো যাবে।’

জানা গেছে, কারখানায় পণ্য উৎপাদনের পর রপ্তানির জন্য সেই পণ্য প্রথমে নেওয়া হয় ১৮টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে। সেখানে পণ্যগুলো প্যাকিংয়ের পর কাস্টমসের উপস্থিতিতে কনটেইনারে বোঝাই করা হয়। এরপর কনটেইনার সিলগালা করে লরিতে বোঝাই করে নেওয়া হয় বন্দর জেটিতে। সেই কনটেইনার জাহাজে তুলে বিদেশের গন্তব্যে পাঠানো হয়। কারখানা বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে সেই ডিপোতেও।

কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডার সচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, স্বাভাবিক সময়ে দিনে চার হাজার কাভার্ড ভ্যান রপ্তানি পণ্য নিয়ে ডিপোগুলোতে প্রবেশ করে। ঈদ-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি পণ্য বোঝাই কোনো ভ্যান ডিপোতে ঢোকেনি। ঈদের আগেই ডিপোর বাইরে লাইনে থাকা কিছু কাভার্ড ভ্যান ঢুকেছে। এর ফলে ডিপোতে রপ্তানি পণ্য বোঝাই কনটেইনার ধীরে ধীরে কমছে। তিনি জানান, ডিপোতে গতকাল শনিবার পর্যন্ত রপ্তানি পণ্য বোঝাই কনটেইনার ছিল ১২ হাজার ৮৯৭ একক; ২৩ জুলাই পর্যন্ত ছিল ১৪ হাজার ৪৯ একক, ২২ জুলাই ছিল ১৫ হাজার ৯৬৮ একক।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র বলছে, বন্দরের ভেতর ইয়ার্ডে কনটেইনার রাখার পরিমাণ আনলিমিটেড নয়; প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার একক পণ্যভর্তি কনটেইনার জাহাজ থেকে নামে। আর ডেলিভারি সে পরিমাণ না হলে ইয়ার্ডে পণ্য জমে যায়। এখনো জাহাজ থেকে পণ্য সেই পরিমাণ নামছে ঠিকই; কিন্তু ডেলিভারি নেমে এসেছে ৬০০ এককে। এ কারণে বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনার জমেছে ৪২ হাজার ৫৭৩ একক। অথচ বন্দরে মোট কনটেইনার রাখা যায় ৪৯ হাজার একক। এর মধ্যে অবশ্য ১৫ শতাংশ স্থান খালি রাখতে হয় কনটেইনার পরিচালন কাজ নির্বিঘ্ন রাখার জন্য। এ অবস্থায় বন্দরে অচলাবস্থা রোধে একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডেলিভারি স্বাভাবিক রাখতে আমরা বিজিএমইএকে বলেছি। তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কারখানা খোলা রাখার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে বন্দরের বদলে আমদানি পণ্য সরাসরি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে ছাড়ের কথা বলেছি। সেটি অনুমোদন পেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যাবে।’