kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

আরো টিকা আসছে প্রয়োগেও গতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরো টিকা আসছে প্রয়োগেও গতি

কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুদানে দেওয়া মডার্নার আরো ৩০ লাখ ডোজ টিকা আজ সোমবার সন্ধ্যায় দেশে এসে পৌঁছবে। এর আগে শনিবার রাত ১১টায় এবং গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ৩টায় ১০ লাখ করে ২০ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে চীনের সিনোফার্ম কম্পানি থেকে। এদিকে আজ মডার্নার ৩০ লাখ টিকা হাতে পাওয়ার পর দেশে মোট টিকাপ্রাপ্তি হবে দুই কোটি ১০ লাখ ডোজ।

গতকাল পর্যন্ত পাওয়া এক কোটি ৮০ লাখ ডোজের মধ্যে অক্সফোর্ডের এক কোটি তিন লাখ, চীনের সিনোফার্মের ৫১ লাখ, মডার্নার ২৫ লাখ ও ফাইজারের এক লাখ ৬০০ ডোজ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ মাসেই কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় জাপান থেকে অক্সফোর্ড-আস্ট্রাজেনেকার ২৯ লাখ ডোজ টিকা আসছে। রাশিয়া থেকে ক্রয়চুক্তির আওতায় আগামী মাস নাগাদ ৫০ লাখ ডোজ স্পুিনক ভি টিকা আসার কথা রয়েছে। এ ছাড়া সরকারের সঙ্গে সিনোফার্মের ক্রয়চুক্তির মাধ্যমে প্রতি মাসে দেড় কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারের টিকা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানায়, ভারতের সেরাম থেকে ক্রয়চুক্তির মাধ্যমে টিকা আনা নিয়ে জটিলতার কারণে সরকার এখন নিজেই সরাসরি বিভিন্ন কম্পানির কাছ থেকে টিকা কেনার প্রতি আগ্রহী। তবে এর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও এজেন্ট সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে টিকা এনে সরকারকে দেওয়ার জন্য। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সরকারের তরফে নানা জটিলতায় আগ্রহী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা এগিয়ে আবার পিছিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, সরকার যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে টিকা আনার চেষ্টা করছে, সেগুলোর সঙ্গে দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে আগে থেকেই। বিদেশি কম্পানিগুলো সরকারকে সরাসরি যে দামে ও যে পরিমাণ টিকা দিতে আগ্রহী, তার চেয়ে কম দামে কিংবা একই দামে দ্রুত সময়ে বেশি পরিমাণ টিকা দিতে আগ্রহী দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু সরকার বেক্সিমকোর পর এ পর্যন্ত আর কোনো প্রতিষ্ঠানকেই চূড়ান্ত কোনো সায় দিচ্ছে না। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই টিকা ইস্যুতে ঝুলে আছে। এমনকি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারের অবস্থানে অসন্তুষ্ট।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলে, সরকার তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টিকা আনতে এখন ভয় পাচ্ছে। একদিকে সমালোচনার ভয়, অন্যদিকে কোনো কারণে আবারও বেক্সিমকো-সেরামের মতো কোনো পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় কি না, সেই শঙ্কাও কাজ করছে। তবে নীতিগতভাবে সরকারিভাবে সরাসরি কেনা ছাড়াও বেসরকারি মাধ্যমে টিকা আনার জন্য সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে আগেরই। যেহেতু এখন সরকারের উদ্যোগেই সরাসরি টিকাপ্রাপ্তি অনেকটা সহজ হয়ে উঠেছে, তাই সেদিকেই নজর বেশি। এদিকে টিকার জোগান সহজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকা প্রয়োগেও গতি জোরালো হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ মানুষ টিকার প্রথম ডোজ নিচ্ছেন।

এদিকে চীন সরকারের আগের তথ্য উদ্ধৃত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে চীনে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের চীনা টিকা ছাড়া অন্য কোনো টিকা দেওয়া যাবে না। অন্য কোনো টিকা দিয়ে কেউ চীনে যেতে পারবেন না।

 



সাতদিনের সেরা