kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

লিটন আর সাকিবে রেকর্ড গড়া জয়

বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ২৭৬/৯, জিম্বাবুয়ে : ২৮.৫ ওভারে ১২১, ফল : বাংলাদেশ ১৫৫ রানে জয়ী

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লিটন আর সাকিবে রেকর্ড গড়া জয়

আগে ব্যাট করা বাংলাদেশের অবস্থা এক পর্যায়ে যেমন ছিল, রান তাড়ায় জিম্বাবুয়েরও এর কাছাকাছিই। তামিম ইকবালরা পড়েছিলেন ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসার মতো বিপর্যয়ে। ব্রেন্ডন টেলররাও ব্যতিক্রম নন। ৭৮ রানে ৪ উইকেট পড়ে যায়  তাঁদেরও। এই একই জায়গা থেকে ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন দুজন। ব্যাট হাতে লিটন কুমার দাস। আর বোলিংয়ে সাকিব আল হাসান।

বিপর্যয়ের মধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে যান লিটন। সহজাত নয়, স্বভাববিরুদ্ধ ব্যাটিংয়ে মাহমুদ উল্লাহকে নিয়ে তাঁর ওয়ানডে একাদশে ফেরার ম্যাচে ধীরগতির ফিফটিতে বিপর্যয় এড়ান প্রথমে। এরপর পুষিয়ে দেওয়া ব্যাটিংয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের সঙ্গে করেন নিজের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরিও। সেঞ্চুরির পর আর তেমন এগোয়নি লিটনের ইনিংসটি। তবে তাঁর ১০২ রানের ইনিংসেই হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সফরকারীরা খুঁজে পায় জয়ের ভিত। রান তাড়ায় প্রায় একই রকম বিপর্যয়ে স্বাগতিক দলের হয়ে কেউ অবশ্য লিটনের ভূমিকায় আবির্ভূত হতে পারেননি। বলা ভালো হতে দেননি সাকিব। তাঁর বোলিংয়েই ভেঙে পড়ে জিম্বাবুয়ের মিডল ও লোয়ার অর্ডার। তাই বড় লক্ষ্য তাড়ায় মাত্র ১২১ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগের অংশ এই সিরিজ তাই ১৫৫ রানের বিশাল জয় দিয়েই শুরু করতে পারল বাংলাদেশ। যে জয় গড়েছে নতুন রেকর্ডও। দেশের বাইরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় তো এটিই। এমন দিনে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে (২৬৯) টপকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলারও বনে গেছেন সাকিব। ৩০ রানে ৫ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্স এই বাঁহাতি স্পিনারের আগের সেরা বোলিংকে (৫/২৯) ছাড়িয়ে যেতে যেতেও যায়নি। ম্যাচসেরা হওয়ার লড়াইয়ে অবশ্য এগিয়ে থেকেছে লিটনের ১১৪ বলে খেলা ইনিংসটিই।

হারারের উইকেটে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া ম্যাচে সাধারণত উইকেটে বাউন্স ও মুভমেন্ট থাকে। কিছুটা সবুজ ঘাসে ঢাকা উইকেটে গতকালও তা থাকল। এমন উইকেটে টস জেতা যেকোনো দলই আগে বোলিং নেবে। জিম্বাবুয়েও তা-ই নিল,  নেওয়ার পর তাদের পেসাররা চাপে ফেললেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদেরও। সেই চাপে ভুলও হতে থাকল। অধিনায়ক তামিম (০) ফিরলেন তৃতীয় ওভারেই। উইকেটে গিয়েও চড়াও হতে চাওয়া সাকিবও (১৯) তাঁকে অনুসরণ করলেন দ্রুতই। ৩২ রানেই তাই ২ উইকেট নেই। বিপর্যয়ের মধ্যে উইকেটে বিলিয়ে এসে বিপর্যয় আরো বাড়ান মোহাম্মদ মিঠুন (১৯) ও মোসাদ্দেক হোসেন (৫)। সেখান থেকে মাহমুদের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন লিটন। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের ৯৩ রানের পার্টনারশিপে কক্ষপথে ফেরে সফরকারীরা। মাহমুদের (৩৩) বিদায়ের পর দলকে দুই শ পার করিয়ে থামেন লিটনও। এরপর শেষ দিকে আফিফ হোসেনের ৩৫ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস দলকে পৌনে তিন শ রানের পুঁজিও এনে দেয়। প্রথম ৩০ ওভারে ১২৪ রান করা বাংলাদেশ পরের ২০ ওভারে তোলে ১৫২ রান।

বিশাল রান তাড়ায় শুরুতেই বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়েও। ভেতরে ঢোকা দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ওপেনার ওয়েসলি মাদভেরেকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। আরেক ওপেনার অভিষিক্ত তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে এর আগেই ফিরিয়েছেন আরেক পেসার সাইফউদ্দিন। ১৩ রানেই তাই ২ উইকেট হারানো দলে পরিণত হয় জিম্বাবুয়ে। আরেক অভিষিক্ত ডিওন মায়ার্সকে ফেরান শরীফুল ইসলাম। এরপর অধিনায়ক টেলর (২৪) সাকিবকে উইকেট উপহার দিয়ে যেতেই যেন তাসের ঘরে পরিণত জিম্বাবুয়ের ইনিংস। একের পর এক পড়তে থাকে উইকেট, এর মধ্যে রেজিস চাকাভার (৫৪) ফিফটি হারের ব্যবধানই যা একটু কমাতে পেরেছে, কমানোর পরও যা দেশের বাইরে বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয়।