kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

পাঁচ দিন পর ২০০-এর কম মৃত্যু

সুস্থতার হার বাড়ছে মৃত্যু ১৮৭, শনাক্ত ১২১৪৮

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




পাঁচ দিন পর ২০০-এর কম মৃত্যু

দেশে করোনায় দৈনিক মৃত্যু দুই শতাধিক ছিল টানা পাঁচ দিন। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কিছুটা কমে ১৮৭-তে নেমেছে। তবে এ সময় শনাক্ত ১২ হাজারের ঘরেই ছিল। এর মধ্যে স্বস্তির খবরও আছে। গত কয়েক দিনে সুস্থতার হার আবার বাড়তে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থতার হার বাড়ায় মানুষ এ বার্তা পাবে যে সতর্ক থাকলে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৮৭ জনের। এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ১৪৮ জন। সুস্থ হয়েছে আট হাজার ৫৩৬ জন।

সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০ লাখ ৮৩ হাজার ৯২২ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছে ১৭ হাজার ৪৬৫ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৯ লাখ ১৪ হাজার ৩৪৩ জন। এর মধ্যে দৈনিক শনাক্তের হার আগের দিনের চেয়ে আরেকটু কমে নেমেছে ২৮.৯৬ শতাংশে।

আর এখন পর্যন্ত পরীক্ষা বিবেচনায় মোট শনাক্তের হার ১৫.০৮ শতাংশ, মৃত্যুর হার ১.৬১ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৮৪.৩৬ শতাংশ।

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতির কারণে সরকার ১ জুলাই থেকে টানা ১৪ দিন কঠোর বিধি- নিষেধ আরোপ করে। এর মধ্যেই গত ১২ জুলাই দেশে প্রথমবারের মতো এক দিনে ১৩ হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়। সেদিন থেকে টানা পাঁচ দিন হলো শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি থাকছে।

আর ১১ জুলাই এক দিনে রেকর্ড ২৩০ জনের মৃত্যুর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেদিন থেকে টানা পাঁচ দিন দৈনিক মৃত্যু ছিল ২০০-এর বেশি।

আগের দিন বৃহস্পতিবার ১২ হাজার ২৩৬ জনের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল ২২৬ জনের। সেই হিসাবে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যু দুটিই কমেছে।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা কমের দিকে থাকলেও সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ আছে সব মহলেই। অনেক জেলায়ই এখনো ৪০-৫০ শতাংশের ওপরে রয়েছে দৈনিক শনাক্তের হার। মৃত্যুও ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনায় বেশিই থাকছে প্রতিদিন, যা নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কের কমতি নেই।

তবে প্রতিদিন স্বস্তির খবরও মিলছে অনেক পরিবারে। সব হাসপাতাল থেকেই প্রতিদিন সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষ ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরছে। মাঝে সুস্থতার হার কিছুটা কমে গিয়ে আবার গত কয়েক দিনে বাড়তে শুরু করেছে। মোট হিসাবে যা এরই মধ্যে ৯ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর কয়েক দিন ধরেই প্রতিদিন সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা সাত-আট হাজারের ওপরে থাকছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যু নিয়ে ভয় ও আহাজারির মধ্যে ৮৪ শতাংশের বেশি রোগীর সুস্থ হওয়ার খবরও মানুষকে স্বস্তি দেবে। মানুষ বুঝতে পারবে সতর্ক থাকলে আক্রান্ত হলেও সবাই মারা যাচ্ছে না। এটাও আক্রান্তদের মানসিক শক্তি জোগাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা কালের কণ্ঠকে জানান, প্রতিদিন যে সংখ্যায় রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার তথ্য দেওয়া হয় সেটা মূলত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেওয়াদেরই বেশি। বাড়িতে থেকে যারা সুস্থ হচ্ছে যদি তাদের হিসাব পাওয়া যায় তবে সুস্থতার হার আরো বেশিই হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৮৭ জনের মধ্যে ১১৩ জন পুরুষ এবং ৭৪ জন নারী। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। এর পরই ৩৯ জন খুলনায়, ৩৬ জন চট্টগ্রামে, ১৪ জন রাজশাহীতে, ৯ জন সিলেটে, আটজন বরিশালে, সাতজন ময়মনসিংহে এবং ছয়জন রংপুরে। বয়সের হিসাবে ১১-২০ বছরের দুজন, ২১-৩০ বছরের সাতজন, ৩১-৪০ বছরের ১১ জন, ৪১-৫০ বছরের ৩০ জন, ৫১-৬০ বছরের ৩৬ জন, ৬১-৭০ বছরের ৫৪ জন, ৭১-৮০ বছরের ১২ জন, ৯১-১০০ বছরের চারজন এবং ১০০ বছরের বেশি বয়সী একজন। তাদের মধ্যে ১২ জন মারা গেছে বাসায়, ১৪৭ জন সরকারি হাসপাতালে এবং ২৮ জন বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছে।



সাতদিনের সেরা