kalerkantho

সোমবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

১২ হাজার ব্যক্তি গত বছর টাকা সাদা করেছেন

► ২১ হাজার কোটি কালো টাকা সাদা হয়েছে
► সরকারের রাজস্ব আয় ২ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১২ হাজার ব্যক্তি গত বছর টাকা সাদা করেছেন

সরকারের দেওয়া বিশেষ সুবিধা নিয়ে গত অর্থবছরে দেশের অনেক ব্যবসায়ী, বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক, শিল্পী, খেলোয়াড়সহ অন্যরা কালো টাকা সাদা করেছেন। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ১১ হাজার ৮৫৯ জন ব্যক্তি ২০ হাজার ৬০০ কোটি কালো টাকা সাদা করেছেন। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা। কালো টাকা সাদা করা সম্পর্কিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া যায়।  

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত অর্থবছরে কর অঞ্চল-৪-এ অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী, সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তা, পোশাক কারখানার মালিকসহ ৪৭৯ জন ব্যক্তি এক হাজার ৬৭৭ কোটি কালো টাকা সাদা করেছেন। একই সময়ে বৃহৎ করদাতা ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত ৩১ জন ব্যক্তি এক হাজার ৫২৭ কোটি টাকা সাদা করেছেন। তাঁদের মধ্যে ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক বেশি। ৭৩৯ জন চিকিৎসক এক হাজার ৪২৭ কোটি টাকা সাদা করেছেন। ঢাকা কর অঞ্চল-১-এ অন্তর্ভুক্ত ৬১১ জন গাড়ি আমদানিকারক, পোশাক কারখানার মালিক, সোনা ব্যবসায়ী, জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার এক হাজার ৫৩০ কোটি টাকা সাদা করেছে। 

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গত অর্থবছরে কালো টাকা শেয়ারবাজার, নগদ, ব্যাংক আমানত, বন্ড, ফ্ল্যাট, জমি ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ ছিল। গত বছর সর্বাধিক ব্যক্তি কালো টাকা সাদা করেছেন নগদ, ব্যাংক আমানত এবং অন্যান্য সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করে।

সাত হাজার ৫৫ জন ব্যক্তি নগদ, বন্ড ও ব্যাংক আমানত খাতে এক হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা কর দিয়ে ১৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা সাদা করেছেন। পুঁজিবাজারে ২৮৬ জন ব্যক্তি ৪০০ কোটি টাকা সাদা করেছেন। এক হাজার ৬৪৫ জন ব্যক্তি এক হাজার ৯৭০ কোটি টাকা সাদা করেন জমিতে, দুই হাজার ৮৭৩ জন এক হাজার ৪৪০ কোটি টাকা ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট বা বাড়ি কিনে সাদা করেছেন।

গত অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করার বিশেষ সুযোগ দিয়ে বলা হয়েছিল, ‘১ জুলাই ২০২০ থেকে ৩০ জুন ২০২১-এর মধ্যে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত অর্থ জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি বর্গমিটারের ওপর নির্দিষ্ট হারে এবং নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোনো সিকিউরিটিজের ওপর ১০ শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করলে আয়কর কর্তৃপক্ষসহ অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না।’

স্বাধীনতার পর ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১৬ বার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রতিবারই কোনো না কোনো শর্ত জুড়ে দেওয়ায় যিনি কালো টাকা সাদা করতেন, তাঁকে অর্থের উৎস সম্পর্কে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জেরা বা তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে পারত। ফলে আগে কালো টাকা সাদা করতে খুব একটা উৎসাহ দেখা যায়নি। তবে গত অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অতীতের ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে এসে ১০ শতাংশ কর ধার্য করে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রদর্শনের পর এসব অর্থ কোথা থেকে এসেছে তা নিয়ে প্রশ্ন করা হবে না—এমন অঙ্গীকার করায় স্বাধীনতার পর যে পরিমাণ কালো টাকা সাদা হয়েছে, গত অর্থবছরে প্রায় তার সমান ২০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা সাদা হয়েছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশেষ সুযোগ নিয়ে কালো টাকা সাদা করা হয়েছে বেশি, যা করোনাকালীন সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।

 



সাতদিনের সেরা