kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

অক্সিজেন অব্যবস্থাপনা

খুমেকে ১৪১ মৃত্যু আইসিইউয়ের বাইরে

কৌশিক দে, খুলনা   

৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খুমেকে ১৪১ মৃত্যু আইসিইউয়ের বাইরে

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের চিত্র অনেকটা ব্যতিক্রম। আগে জরুরি বিভাগের সামনে ভিড় আর কোলাহল লেগেই থাকত। এবার সেখানে কম মানুষের আনাগোনা। তবে ভিন্ন চিত্র করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে (হাসপাতাল)। গতকাল শনিবার দুপুর ১টায় দেখা মিলল সারি সারি অ্যাম্বুল্যান্স। রোগীর স্বজনদের অপেক্ষা আর প্রবেশপথে সিকিউরিটি গার্ডের পাহারা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘রোগীর শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় এখানে এসেছি। এখন অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল। কিন্তু তার পরও ভয় ছাড়ছে না।’

শুধু এক রোগীর স্বজনই নন, করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজনদের বেশির ভাগই থাকে আতঙ্কে। প্রতিদিনই এখানে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শুধু জুন মাসের ১২৫ জনসহ চলতি মাসের গেল তিন দিনে এখানে মারা গেছে ১৪১ জন। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সী রোগীই বেশি। অবশ্য এ সময়ে হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

শয্যা হিসেবে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটটি বর্তমানে ১৩০ শয্যার। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত সেখানে ভর্তি ছিল ২১৩ জন। এর মধ্যে ২০ জন আছে আইসিইউতে, ২০ জন এইচডিইউতে, ৬০ জন ইয়োলো জোন এবং অন্য ১১৩ জন রেড জোনে। এখানে ৫৩টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা, ২০টি এইচডিইউ, ২০টি আইসিইউ ও সিলিন্ডারের মাধ্যমে রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনার তুলনায় রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চিকিৎসক বলেন, ‘খুলনা মেডিক্যালে শুধু খুলনার রোগীরা আসেন না। এখানে গোপালগঞ্জ, পিরোজপুর, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুতর রোগীরা আসেন। কিন্তু আমাদের ব্যবস্থাপনার তো একটা সীমা আছে। অনেক রোগী ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের কে চিকিৎসা দেবে। স্বল্প জনবল দিয়ে সবাইকে দেখতে হচ্ছে। অক্সিজেনসংকট আগেও ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এখানে ৫৩টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা আছে। অক্সিজেন থাকলে আমাদের সমস্যা হবে না। কিন্তু অন্যান্য সুবিধা তো দরকার। তা না হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অসম্ভব হবে।’

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে খুলনা করোনা হাসপাতালে (ডায়াবেটিক হাসপাতাল) মৃত্যু হয় ১৫৬ জনের। আর চলতি বছরের ছয় মাসে মৃত্যুবরণ করে ২৪৫ জন। ছয় মাসের হিসাবে গড়ে প্রতি মাসে ৪০ জনেরও বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১২ জন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন আর মার্চ মাসে ছয়জনের মৃত্যু হলেও এপ্রিলে এসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৬। আবার মে মাসে মারা যায় ৩৪ জন। খুমেক করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সাধ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছি। এখানে যেসংখ্যক হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা আছে, তাতে সংকট হবে না।’



সাতদিনের সেরা