kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

কড়া লকডাউনে ঢাকার সড়ক ফাঁকা

দ্বিতীয় দিনে গ্রেপ্তার ৩২০

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কড়া লকডাউনে ঢাকার সড়ক ফাঁকা

দিনভর ছিল থেমে থেমে আষাঢ়ের বৃষ্টি। ‘কঠোর’ লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল শুক্রবার এমন বৃষ্টিতে রাজধানীর ঘরবন্দি মানুষ যেন আরেকটু বেশি বন্দিদশা অনুভব করল। প্রথম দিন বৃহস্পতিবারের তুলনায় রাজধানীর মূল সড়কগুলোও গতকাল অনেক বেশি ফাঁকা ছিল। সড়কের মোড়ে মোড়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের টহল আর তল্লাশি চৌকিতে ছিল প্রথম দিনের মতোই কড়াকড়ি। যারা খুব প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়েছে, তাদেরও নিরাপত্তা বাহিনীর জিজ্ঞাসার মধ্য দিয়ে পার হতে হয়েছে। আর যাদের মুখে মাস্ক ছিল না, তাদের গুনতে হয়েছে জরিমানা। বিধি-নিষেধের পরও কোনো কারণ ছাড়াই ঘর থেকে বের হয়ে সড়কে ঘোরাফেরা করছিল এমন অনেককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল জুমার নামাজে মুসল্লিদের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে খুব বেশি জমায়েত হতে দেখা না গেলেও এলাকার মসজিদগুলোয় জমায়েত ছিল যথেষ্ট। দুপুরের পর মহল্লার অলিগলির চায়ের দোকানগুলোয় আড্ডা বাড়তে দেখা গেছে।

কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল রাজধানীর গাবতলী, মিরপুর, আজিমপুর, লালবাগ, হাজারীবাগ, নিউ মার্কেট, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, রামপুরা, পল্টন, ফার্মগেট, কমলাপুর, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

চলমান কঠোর বিধি-নিষেধের প্রথম দিন ৫৫০ জন গ্রেপ্তার হলেও গতকাল এই সংখ্যা কমেছে। সরকারঘোষিত বিধি-নিষেধ অমান্য করায় গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ৩২০ জনকে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) ইফতেখারুল ইসলাম। এ ছাড়া এদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত ২১৯টি গাড়ি ও ২০৮ জনকে পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন। এ ছাড়া দেশজুড়ে র‌্যাবের ৫৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ২১৩ জনকে দুই লাখ ১৫ হাজার ৫৪০ টাকা জরিমানা করেছেন। 

বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজে দেখা গেছে, অন্য জুমার তুলনায় মুসল্লির সংখ্যা কম ছিল। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় কর্তৃপক্ষের নানা উদ্যোগ থাকায় মুসল্লিদের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারের প্রবণতাও ছিল লক্ষণীয়। নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আল্লাহর দরবারে মহামারির সংক্রমণ থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীর মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করেন। বায়তুল মোকাররমের ইমাম সরকারি নির্দেশনা মানা ও করোনার বিধি-নিষেধ মেনে চলতে মুসল্লিদের আহ্বান জানান। তবে বেশির ভাগ পাড়া-মহল্লার মসজিদগুলোয় অন্য জুমার মতোই মুসল্লিদের জমায়েত হতে দেখা গেছে। শুক্রবারের ছুটি, সঙ্গে লকডাউনে মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় এলাকায় মানুষের ভিড় কিছুটা বেশি ছিল।

হাজারীবাগের বাসিন্দা মাইনুদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, ‘মসজিদ স্বাভাবিকভাবেই খোলা থাকা দরকার। নয়তো বহু মানুষ নামাজে নিরুৎসাহিত হবেন। তবে ওয়াক্তের নামাজগুলোয় তেমন ভিড় হয় না। জুমার নামাজে ভিড় বেড়েছে। আর যাঁরা নিয়মিত নামাজ আদায় করতে মসজিদে আসেন তাঁরা ফেরার পথে চায়ের দোকানে আড্ডা দেন না। চায়ের দোকানে যাঁরা আড্ডা দেন তাঁরা সব সময় দেন।’

শ্যামপুরের করিমুল্লা বাগ মসজিদে দেখা গেছে, অন্য জুমাবারের তুলনায় গতকাল জুমার সময় মুসল্লিদের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা বেশি ছিল। মসজিদে মুসল্লি বেশি হওয়ায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। এই মসজিদের ইমামও মোনাজাতে বিশ্বকে করোনা মুক্ত করতে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে নিবেদন জানান। 

এই মসজিদের মুসল্লি বাদশা মিয়া জানান, করোনার কারণে লোকজন মাস্ক পরে এসেছেন নামাজ পড়তে। কিছু কিছু লোকের মুখে মাস্ক দেখা না গেলেও মসজিদে প্রবেশের পর যখন অন্যদের মুখে মাস্ক দেখেছেন তখন তাঁদের অনেকে পকেট থেকে মাস্ক বের করে মুখে পরে নেন।

আজিমপুরে কথা হয় জামাল আহমেদ নামে এক পথচারীর সঙ্গে। লকডাউন কেমন হচ্ছে তা বুঝতে আরো দু-এক দিন সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সড়কে যানবাহনের অপ্রতুলতার সুযোগ নিয়ে রিকশা বেশি ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আনোয়ার মিয়া নামে আরেক পথচারী রিকশায় বাড্ডা থেকে কুড়িল যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এখন কোথাও যাওয়ার জন্য রিকশাই একমাত্র ভরসা। এটুক পথের জন্য ১৫০ টাকা রিকশা ভাড়া দিতে হচ্ছে।’ 

নিউ মার্কেট এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে মাথায় পলিথিন লাগিয়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন রিকশাচালক জুয়েল মিয়া। তিনি বলেন, ‘ভোর থেকে বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তায় মানুষ নেই, খ্যাপও তেমন পাচ্ছি না। সকাল থেকে মাত্র দুইটা ভাড়া মারছি। আগের দিনের চেয়ে রাস্তায় মানুষও কম।’

কমলাপুর এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। প্রায় সবাই বলছিলেন জরুরি প্রয়োজনের কথা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ওই চেকপোস্টটির দিকে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন এক যুবক। তাঁর মোটরসাইকেল আটকালে জানান, তিনি কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করেন। সায়েদাবাদ থেকে কমলাপুরের দিকে যাওয়া প্রধান সড়কে চেকপোস্ট বসান সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ওই সড়ক ধরে যাঁরা যাতায়াত করছিলেন তাঁদের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসা করা হয় বের হওয়ার কারণ। এ ছাড়া পথচারীদের মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ করতেও দেখা গেছে সেনা সদস্যদের।

গাবতলী ও মিরপুর এলাকার সড়কে কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনের তুলনায় গতকাল লোকজন ছিল কম। তবে জুমার নামাজের সময় লোকজনের চলাচল কিছুটা বেশি ছিল।

গাবতলীতে দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্ট আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একদিকে সাপ্তাহিক ছুটি, অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হয়নি।’



সাতদিনের সেরা