kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে কানাডা যুক্তরাষ্ট্র

দাবানলের আশঙ্কা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তীব্র দাবদাহে পুড়ছে কানাডা যুক্তরাষ্ট্র

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে কানাডার পশ্চিমাঞ্চল ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় বিস্তৃত এলাকা। প্রতিদিনই চড়চড়িয়ে বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ; ভাঙছে রেকর্ড। ভয়াবহ তাপপ্রবাহ এরই মধ্যে কেড়ে নিয়েছে কয়েক শ মানুষের প্রাণ।

নজিরবিহীন এই অবস্থায় চলতি সপ্তাহেই কানাডার শীতপ্রধান লুটন শহরের তাপমাত্রা আগের রেকর্ড ভেঙে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এর আগে দেশটির তাপমাত্রা কখনো ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর পার হয়নি।

আবহাওয়ার এই রুদ্র রূপের কারণ স্পষ্ট না হলেও তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব ও তীব্রতা দেখে এর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা আছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

দেশ দুটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামনের কয়েক দিনের চরম উষ্ণতা ও দাবানলের ঝুঁকি মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় গত শুক্রবার থেকে বুধবার পর্যন্ত পাঁচ দিনে ৪৮৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই সংখ্যা প্রদেশটিতে সাধারণত প্রতিবছর এই সময়ের স্বাভাবিক মোট মৃত্যুর প্রায় তিন গুণ বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

দাবদাহে মৃত্যুর ঘটনায় রয়াল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এক বিবৃতিতে বলেছে, তীব্র গরমে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার জনবহুল শহর ভ্যাংকুভার এবং পাশের বার্নাবি ও সুরে শহরে মৃত্যুর ঘটনা বেশি ঘটেছে। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বয়স্ক। অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা।

যুক্তরাষ্ট্রের অরেগনে গরমের তীব্রতা গত বুধবার থেকে একটু কমে এলেও এরই মধ্যে রাজ্যটিতে দাবদাহজনিত কারণে ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অরেগনের মাল্টনোমায় গত শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত ৪৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মৃত্যুর জন্য প্রাথমিকভাবে হাইপারথারমিয়াকে দায়ী করেছেন কাউন্টির ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা।

সরকারি এক বিবৃতিতে এই পরিস্থিতির তুলনা করতে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অরেগনে হাইপারথারমিয়ায় মাত্র ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।

মাল্টনোমা কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. জেনিফার ভাইনস বলেন, ‘এটা প্রকৃতই স্বাস্থ্য সংকট। তীব্র তাপপ্রবাহ কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, তা দেখা যাচ্ছে। আমাদের গ্রীষ্ম এখন ক্রমাগত উষ্ণ হচ্ছে, আমার আশঙ্কা আমরা ফের এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হব।’

কয়েক দিনের মধ্যে তাপপ্রবাহ পূর্ব দিকে সরে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার যে পরিস্থিতি তাতে অ্যালবার্টা থেকে ম্যানেটোবায় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কানাডার সরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জের জ্যেষ্ঠ জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ডেভিড ফিলিপস। তিনি বলেন, ‘কিছু এলাকায় আগের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড গুঁড়িয়ে দেবে এই তাপপ্রবাহ। এটা মারাত্মক, আগে কখনো আমরা এমনটা দেখিনি।’

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গত বুধবার অটোয়ায় বত্তৃদ্ধতা দেওয়ার সময় তাপপ্রবাহে নিহতদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন। তিনি সামনের দিনগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ট্রুডো বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে আমরা আবহাওয়ার এমন রুদ্র রূপ বারবার দেখে আসছি। এবারেরটাই যে শেষ তাপপ্রবাহ নয়, তা-ও আমরা জানি।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর গভর্নরদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনই ‘তীব্র তাপ ও দীর্ঘস্থায়ী খরার এমন বিপজ্জনক সংমিশ্রণ’ তৈরি করছে।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র রেকর্ডসংখ্যক দাবানল দেখতে পারে জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তা মোকাবেলার প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে আছে বলে সতর্ক করেন। সূত্র : রয়টার্স, সিএনএন, এএফপি।



সাতদিনের সেরা