kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

সাক্ষাৎকার : অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

কার্যকর লকডাউন টিকা আর স্বাস্থ্যবিধি মানলেই নিরাপদ

এই মানের লকডাউন জারি থাকলে ১৪ দিনে ১০ শতাংশে নামবে সংক্রমণ

২ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




কার্যকর লকডাউন টিকা আর স্বাস্থ্যবিধি মানলেই নিরাপদ

আমাদের পরামর্শ ও সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম দিনের কঠোর লকডাউন আগের চেয়ে বেশ গোছানো ও কার্যকরভাবে পালিত হয়েছে। সংক্রমণ রোধে এটি খুবই ইতিবাচক দিক। যদি আমরা অন্ততপক্ষে ১৪ দিন এই মানের কার্যকর লকডাউনে থাকতে পারি, তাহলে দৈনিক শনাক্তের হার এখন যেভাবে প্রায় ২৬ শতাংশে উঠেছে, তা ১০-১৫ শতাংশের মধ্যে নেমে আসবে। এরপর আরো সাত দিন চালানো গেলে শনাক্তের হার টার্গেট অনুসারে ৫ শতাংশের নিচে নামবে। এর পরই আমরা আবার সব খুলে দিতে বলতে পারব স্বাস্থ্যবিধি মেনে। এই সময়টুকু যদি আমরা ধৈর্য ধরে, কষ্ট করে থাকতে পারি এবং সঙ্গে টিকা আর স্বাস্থ্যবিধি চালিয়ে যেতে পারি, তাহলে সামনের দিনগুলোতে আমরা অনেকটাই নিরাপদ হতে পারব বলে বিশ্বাস। বৈজ্ঞানিকভাবেই এ পদ্ধতিতে সংক্রমণ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে অনেক দেশ।

আমাদের সবার একটি বিষয় মনে রাখা উচিত, আমরা কেউ লকডাউন চাইতাম না যদি দেশে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা না থাকত। আমরা কোনোভাবেই সংক্রমণের বিস্তার রোধ করতে পারলাম না। আবার প্রত্যাশিত সংখ্যায় টিকাও দেওয়া যায়নি। তার চেয়েও বেশি হেলাফেলা করছে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর এখন পর্যন্ত কোনো একক পদ্ধতি নেই। তিনটি পর্যায়ের সমন্বিত ব্যবস্থায় যতটা ঠেকানো যায়, সেটিই করছে সব দেশ। পাশের দেশ ভারতের দিল্লিতে টানা তিন সপ্তাহ কঠোর লকডাউন ও টানা ছয় সপ্তাহ গণপরিবহন বন্ধ রাখার পর সেখানে সংক্রমণ দৈনিক ২৮ হাজার থেকে এক হাজারের নিচে নেমে এসেছে। আমাদের এখানেও গত বছর সংক্রমণ এখনকার তুলনায় কম থাকার বড় কারণ ছিল প্রায় দুই মাস টানা লকডাউন পরিস্থিতিতে থাকা। কিন্তু এটাও ঠিক, আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও মানুষের জীবিকার প্রশ্নে যেমন একটানা বেশিদিন লকডাউন দেওয়া সম্ভব নয়, আবার দু-তিন সপ্তাহ কার্যকর লকডাউন না করতে পারলে সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হয়। কয়েক দিন পর পর লকডাউন দিতে গিয়ে ক্ষতি হয় আরো বেশি।

সরকার ও সমাজের অন্যান্য মহলকে এই লকডাউনের সময়ে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করাটাও জরুরি। এ জন্য সরকার এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সেটা আরো বাড়াতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনকেও এমন সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসা দরকার।

আমরা যদি ধৈর্যহারা হয়ে লকডাউন আগের মতো ঢিলেঢালা করে ফেলি, কিংবা হেলাফেলা করি, তাহলে কিন্তু শনাক্তও কমবে না, মৃত্যুও কমবে না।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ : চেয়ারম্যান, কভিড-১৯ মোকাবেলায় জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ও চেয়ারম্যান বিএমডিসি