kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে

জাহাঙ্গীর কবির নানক, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আওয়ামী লীগ

আবদুল্লাহ আল মামুন   

২৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক একজন পুরোদস্তুর রাজনীতিক। সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে একদম তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন। ছিলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এরপর আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। এই সময় তাঁর নেতৃত্বে যুবলীগ বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে যুবলীগ শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই এই নেতাকে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের যোদ্ধা হিসেবে মনে করা হয়।

গত সোমবার কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জাহাঙ্গীর কবির নানক সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, হেফাজতে ইসলামের রাজনীতিসহ সরকারসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোকপাত করেন তিনি। নানক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিখিয়েছেন দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকতে। আর তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্যোগ এই করোনা মহামারির মধ্যে তা বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এটা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোবল, সাহসী ও মানবিক নেতৃত্বের কারণে।’

করোনা মহামারির মধ্যে কী করছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কি বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘গত বছর মার্চে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ দুর্যোগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কী করেছে, সেই প্রশ্নের উত্তর সহজেই মিলবে যদি দলীয় নেতাদের মৃত্যুর তালিকাটি দেখেন। কত নেতা আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেছেন। তাঁরা তো বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়েই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। খাবার পৌঁছে দেওয়া, অর্থ সহায়তা, চিকিৎসা প্রদান, লাশ দাফনসহ এসংক্রান্ত সব কাজেই অগ্রভাগে ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এখনো রয়েছেন। দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছি। এ কারণেই বিশ্বে মহামারি মোকাবেলায় বাংলাদেশ একটি মডেল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তুলনামূলক প্রাণহানির সংখ্যাও অত্যন্ত কম।’

করোনা মহামারিতে দেশের অর্থনীতির ওপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে আওয়ামী লীগ সরকার তা মোকাবেলায় সক্ষম হয়েছে বলে কি না জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘শুধু আমরা দাবি করছি না যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শক্ত হাতে অর্থনীতির চাকা সচল রেখে বাংলাদেশকে ঝড়-ঝাপ্টার হাত থেকে রক্ষা করেছেন—এটা বিশ্বের বিভিন্ন জনপ্রিয় গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসিক আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন। কিউসিকের মতে, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মহামারি মোকাবেলায় সফলতা দেখানো নারী নেত্রীদের একজন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

নানক বলেন, ‘আমাদের নেত্রী অনেক আগে উপলব্ধি করেছেন শুধু খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই চলবে না, দুর্যোগের এই সময়ে সচল রাখতে হবে অর্থনীতির চাকাও। তাই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সংক্রমণের শুরুতেই বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে ঋণ, নগদ অর্থ আর খাদ্য সহায়তা দেন। করোনার মধ্যেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নেওয়া। আর এ অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।’

করোনার মধ্যে হঠাৎ করে আলোচনায় এসেছে নারী পাচার, মদ-জুয়ার মতো অপরাধের ঘটনা—এ সম্পর্কে আপনি কী বলেন? উত্তরে জাহাঙ্গীর কবির নানক এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে সামাজিক ব্যাধি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এসব ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার এ ধরনের ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। যারা অপরাধী তাদের নিশ্চয় শাস্তি হবে।’

এবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন প্রাণবন্ত হয়েছে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরাও বিভিন্ন দাবিতে কথা বলেছেন। কার্যকর সংসদের জন্য বিরোধী দলের সদস্যদের ভূমিকাও ছিল উল্লেখ করার মতো। সরকার কি সংসদকে কার্যকর করতে নতুন কোনো উদ্যোগ নিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নানক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমাদের নেত্রী দেশকে সামরিক জান্তার কবল থেকে মুক্ত করতে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। আমরা সব সময় চাই সংসদ প্রাণবন্ত থাকুক। আমরা মনে করি, গণতন্ত্র, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য সংসদ প্রাণবন্ত থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।’

সংসদ প্রাণবন্ত হয়েছে। আগামী দিনে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কি তার সাংগঠনিক কাঠামো গতিশীল রাখতে পেরেছে? কেননা অনেক জেলা ও উপজেলায় ৮-১০ বছরের পুরনো কমিটি রয়েছে। দূরত্ব রয়েছে তৃণমূলের সঙ্গেও। এই প্রশ্নের উত্তরে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘এটা অস্বীকার করি না যে কিছু জেলায় পুরনো কমিটি রয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছি। করোনা মহামারির কারণে সম্মেলন অনুষ্ঠান ব্যাহত হয়েছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব সম্মেলন অনুষ্ঠানে সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে। আর তৃণমূলের সঙ্গে কোনো দূরত্ব আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ স্বয়ং আমার নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সারা দেশের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ রয়েছে।’

হঠাৎ করে দলীয় কোন্দল ও খুনোখুনি বেড়ে গেছে। কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন? জানতে চাইলে নানক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ টানা ১২ বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতায় রয়েছে। এতে কিছু অনুপ্রবেশকারী দলের মধ্যে অস্থিরতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। বিষয়গুলো সম্পর্কে আমরা সতর্ক। আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীও বসে নেই। কেউ অপরাধ করে থাকলে অবশ্যই তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

মৌলবাদী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এদের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আমাদের দর্শন ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাস করে। আমরা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করেছি। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যারাই কথা বলবে, আমরা তাদের প্রতিহত করব।’

 

 



সাতদিনের সেরা