kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি

মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার, মহাপরিচালক, ডিএনসি

২৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি

মাদকের নতুন আগ্রাসন চলছে সাইবার বা অনলাইন মাধ্যমে। মাদক নিয়ন্ত্রণে নজরদারি করতে শক্তিশালী সাইবার ইউনিট প্রয়োজন বলে মনে করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার। তাঁর মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য নোডাল এজেন্সি হিসেবে অস্ত্র, ডগ স্কয়াড, স্ক্যানারসহ আধুনিক সক্ষমতাও প্রয়োজন। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার

ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরো জানিয়েছেন, যুবসমাজকে মাদক থেকে রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কুরিয়ারে পার্সেল ও সীমান্তপথে মাদক পাচার প্রতিরোধে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানান তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এস এম আজাদ   

 

কালের কণ্ঠ : অনলাইনে প্রকাশ্য বা গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে মাদক বেচাকেনা চলছে। এতে করে আইস, এলএসডির মতো নতুন ধরনের ভয়ংকর মাদক ছড়িয়ে পড়ছে। এসব প্রতিরোধে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?

মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার : সাইবার জগতে নজরদারি করে মাদক বেচাকেনা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আমাদের কোনো সাইবার এক্সপার্ট টিম বা ইউনিট নেই। ফলে সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। আমরা এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছি। আলাপ-আলোচনা চলছে। আশা করছি সরকার বিষয়টি অনুধাবন করবে।

 

কালের কণ্ঠ : মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান জোরদার করার পরও এর আগ্রাসন থামানো যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে কোন কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আপনি মনে করছেন?

মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার : মাদকের আগ্রাসন উদ্বেগের বিষয়। এর সঙ্গে অস্ত্রসহ অনেক অপরাধ জড়িত। মাদকের বেশি শিকার হচ্ছে যুবসমাজ। এই যুবসমাজকে রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করি। এবারের মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘মাদক বিষয়ে হই সচেতন, বাঁচাই প্রজন্ম বাঁচাই জীবন’। প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ নির্দেশনায় মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানোর পাশাপাশি আমরা সচেতনতা বাড়ানোর কাজও করছি।

 

কালের কণ্ঠ : কাজ করতে গিয়ে কোন ধরনের সমস্যায় পড়ছেন বা কোন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন?

মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার : যারা মাদক কারবার করে তারা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাদের হাতে অস্ত্র আছে। আমাদের হাতে অস্ত্র নেই। অধিদপ্তরে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি করা হয়েছে। এনটিএমসিতে (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার) আমাদের প্রতিনিধি দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোন ট্র্যাকার ভীষণ প্রয়োজন। এই প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা সম্প্রতি একটি মামলার আসামি ধরেছি। ডগ স্কয়াড ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে মাদক উদ্ধারের সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : কারবারিরা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মাদক পাচার করছে। গোয়েন্দা তথ্যে ডিএনসিও কিছু চালান ধরেছে। এ ব্যাপারে আপনারা আরো কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?

মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার : আমরা একটি নির্দেশনা দিয়েছি। শতাধিক কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা সভা করেছি। পার্সেল পাঠানোর ক্ষেত্রে উন্নত স্ক্যানার ব্যবহারের পাশাপাশি প্রেরকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ছবি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনেকে ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করে। এ কারণে আঙুলের ছাপ রাখারও ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আমাদের নির্দেশনা অনেকে মানতে শুরু করেছে। এতে কিছু মাদকের চালান ধরাও গেছে।

 

কালের কণ্ঠ : বিমান ও স্থলবন্দরে মাদক পরীক্ষার স্ক্যানার নেই। এ কারণে পার্সেল বা লাগেজে পাচার ঠেকানো যাচ্ছে না। আপনার মন্তব্য জানতে চাই।

মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার : বিমানবন্দরে স্ক্যানার ও আর্চওয়ে বসানোর পরামর্শ দিয়েছি আমরা। এ ক্ষেত্রে কিছু অনুমোদন প্রয়োজন। ডগ স্কয়াড গঠন করা হচ্ছে মূলত বন্দরের কথা চিন্তা করেই। এগুলো বাস্তবায়ন হলে নজরদারি সহজ হবে।

 

কালের কণ্ঠ : প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ও ভারত থেকে আমাদের দেশে বেশির ভাগ মাদক আসছে। সীমান্ত দিয়ে এই পাচার প্রতিরোধে আপনারা কী কী  উদ্যোগ নিয়েছেন?

মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার : আমাদের দেশে মাদক উৎপাদন হয় না। আমাদের সংবিধান বা রাষ্ট্র মাদক কারবার সমর্থন করে না। পাশের দেশ থেকে আমাদের দেশে মাদক আসছে। মিয়ানমার থেকে আসছে ইয়াবা। ফেনসিডিল আসছে ভারত থেকে। আমরা অব্যাহত চেষ্টা করছি এসবের সরবরাহ বন্ধ করতে। এককভাবে এটা আমরা করতে পারব না। এর জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষক, অভিভাবক, রাজনীতিবিদ, সুধীসমাজ—সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। পাশের দেশের সঙ্গে আমরা আলোচনাও করছি। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সর্বশেষ আলোচনা অনেকটা ফলপ্রসূ হয়েছে। ভারতের সঙ্গেও আমাদের সম্মেলন হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : সীমান্তের কারবারিদের ব্যাপারে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?

মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার : যারা চোরাকারবারে জড়িত তারা সব সময় কৌশল পাল্টায়। ফলে আমাদেরও কৌশল পাল্টাতে হচ্ছে। নজরদারির মাধ্যমে আমরা মাদক কারবারিদের তালিকা হালনাগাদ করেছি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আধুনিকায়নে সরকারের কাছে যে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন হলে আমাদের সক্ষমতা অনেক বাড়বে।

 

কালের কণ্ঠ : প্রায় এক বছর হলো আপনি এই অধিদপ্তরের ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অধিদপ্তরকে আধুনিকায়নে এ সময়ের মধ্যে কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন?

মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার : রাষ্ট্রের একজন কর্মচারী হিসেবে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করছি। পার্সেলে নজরদারি, ডগ স্কয়াড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। চারটি বিভাগে আধুনিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা হচ্ছে। এনটিএমসিতে আমাদের প্রতিনিধি নিশ্চিত করা হয়েছে। ডোপ টেস্টের বিধিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আইনের সংশোধন ও পরিবর্তন হয়েছে। পোশাক পরিবর্তন হয়েছে। অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আছে। আলোচনায় আছে সাইবার ইউনিট গঠনসহ আরো কিছু প্রস্তাবনা।

কালের কণ্ঠ : ব্যস্ততার মধ্যে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার : আপনাকে ও কালের কণ্ঠকে ধন্যবাদ।



সাতদিনের সেরা