kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

৬ হাজার ছাড়াল দৈনিক শনাক্ত মৃত্যু আরো ৮১

সবচেয়ে বেশি খুলনাতেই তৃতীয় দফায় চূড়ায় উঠল সংক্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



৬ হাজার ছাড়াল দৈনিক শনাক্ত মৃত্যু আরো ৮১

করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৮১ জন। এই সময়ের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ছয় হাজার ৫৮ জন। শনাক্তের ১৯.৯৩ শতাংশ। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩০ হাজারের বেশি। এই হিসাবের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেছেন, দেশে করোনার সংক্রমণ তৃতীয় দফায় চূড়ায় উঠে গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুসারে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৮১ জনের মধ্যে ২৩ জন মারা গেছে খুলনায়, ২০ জন রাজশাহীতে, ১৩ জন ঢাকায়, সাতজন চট্টগ্রামে, তিনজন বরিশালে, পাঁচজন সিলেটে, সাতজন রংপুরে এবং তিনজন ময়মনসিংহে। মৃতদের মধ্যে ৫৫ জন পুরুষ এবং ২৬ জন নারী। তাদের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছরের একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের আটজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৯ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের ১৮ জন ও ষাটোর্ধ্ব ৩৬ জন।

ওই তথ্যানুসারে এ পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্ত আট লাখ ৭২ হাজার ৯৩৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১৩ হাজার ৮৬৮ এবং সুস্থ হয়েছে সাত লাখ ৯৪ হাজার ৭৮৩ জন।

ঢাকার বাইরে ঠাকুরগাঁওয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬০০টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৮৮ জন সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

ঝিনাইদহে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তিনজন মারা গেছে। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৬৮ জন ভর্তি আছে। হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন সেলিনা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ ল্যাবে পরীক্ষা করা ১৪৩টি নমুনার ফলাফলে ৭৩ জনের পজিটিভ এসেছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন-অর-রশিদ জানান, এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে শয্যা বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে হাসপাতালের অন্য সেবা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যশোরে আরো ১৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা ও করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১০ জন। এদের মধ্যে ছয়জন করোনা রোগী এবং অপর চারজন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। উচ্চ ঝুঁকির কারণে যশোরে কঠোর বিধি-নিষেধ চলছে। বিধি-নিষেধ কার্যকর করতে যশোর পৌর এলাকায় আটটি টিমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। সেই সঙ্গে জনগণকেও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, যশোরে ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৫৩ শতাংশ।

বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে ১৪২ জন। সদর হাসপাতালের আরএমও আরিফ আহমেদ বলেন, যশোর জেনারেল হাসপাতালে করোনায় যারা মারা গেছে তাদের বেশির ভাগ উপজেলা থেকে আসা রোগী।

উত্তরের জেলা দিনাজপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের হার। ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন শনাক্ত হয়েছে ৪৮৩ জন। এর মধ্যে দিনাজপুর সদর উপজেলায় ৩১৩ জন। এ ছাড়া একই সময় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। দিনাজপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহ মো. এজাজ-উল হকের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

বগুড়ায় ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এটিই জেলায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে গত ৯ দিনে ৩৬ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই ভাইরাস। ৩৬ জনের মধ্যে বগুড়ার ১৪ জন, নওগাঁর সাতজন, জয়পুরহাটের ১৩ জন এবং গাইবান্ধা ও নাটোর জেলার একজন করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

২৩ জুন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে ২৪৭টি নমুনায় ৬৫ জনের, জিন এক্সপার্ট মেশিনে ১৪টি নমুনায় পাঁচজনের এবং অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় ৬৩টি নমুনায় ৯ জনের পজিটিভ এসেছে। এ ছাড়া টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ৩০টি নমুনায় ১৯ জন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৪টি নমুনার ফলাফলে সদরে ৬০, আদমদীঘিতে সাত, গাবতলীতে আট, সারিয়াকান্দিতে দুই, দুপচাঁচিয়ায় তিন, কাহালুতে দুই, নন্দীগ্রামে পাঁচ, শেরপুরে দুই এবং ধুনটে একজন করে পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গতকাল সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে রেকর্ড ১৮ জন। আগের দিন মারা যায় ১৬ জন। প্রায় এক মাস ধরে এই হাসপাতালে গড় মৃত্যুহার ১০। চলতি মাসের গতকাল পর্যন্ত ২৪ দিনে এই হাসপাতালে মোট মারা গেছে ২৬৩ জন। সেই হিসাবে ২৪ দিনে মৃত্যুর হার ১০.৯৮। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী। তিনি জানান, হাসপাতালে করোনা রোগীদের চাপ সামলাতে একের পর এক বাড়ানো হচ্ছে করোনা ওয়ার্ড।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির জানান, ২৪ ঘণ্টায় বাগেরহাটে ১২২ জনের নমুনা পরীক্ষ করে ৪২ জন পজিটিভ পাওয়া গেছে। শনাক্তের হার ৩৪ শতাংশ। লকডাউন বাস্তবায়ন করা গেলে দ্রুত সংক্রমণ কমে আসবে বলে সিভিল সার্জন আশাবাদী।

এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন রাজশাহী, বগুড়া, যশোর, দিনাজপুর, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহসহ অন্যান্য এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা।