kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

সব দিক ভেবে লকডাউন দেওয়া যায় না

ফরহাদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




সব দিক ভেবে লকডাউন দেওয়া যায় না

ঢাকার চারপাশের সাত জেলায় হঠাৎ ঘোষিত কঠোর ‘লকডাউনে’ বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এ সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপনে অনেক বিষয়েই সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। খোদ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আছেন অন্ধকারে। এ সম্পর্কিত বেশ কিছু প্রশ্ন নিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের মুখোমুখি হয়েছিলেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক বাহরাম খান

 

কালের কণ্ঠ : অনেক বিষয়ে অস্পষ্টতা রেখেই হঠাৎ করে লকডাউন দিল সরকার। মানুষ জানবে কী করে?

ফরহাদ হোসেন : বর্তমান পরিস্থিতিতে এভাবেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। অনেক প্রস্তুতি নিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দিতে গেলে অন্য জটিলতা আছে। মানুষের ভালোর জন্যই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। করোনা একটি অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি—এটা মনে রাখতে হবে। সামনে বড় ঈদ আছে। গরুর হাটসহ নানা কর্মযজ্ঞ আছে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই ঢাকাকে কেন্দ্র করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর থেকে অনেক সরকারি চাকুরে সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করেন। সরকারি অফিস তো খোলা। তাঁরা কী করবেন?

ফরহাদ হোসেন : স্ব স্ব অফিসপ্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তা ছাড়া লকডাউন চলাকালে অফিসে সবাইকে আসতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। যাঁরা বাসায় থেকে কাজ সমাধা করতে পারেন, তাঁরা হোম অফিস করবেন।

 

কালের কণ্ঠ : বাসা থেকে কাজ করা সংক্রান্ত নির্দেশনা আগের দফায় ছিল। জনপ্রশাসন এবার তো সে রকম কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি।

ফরহাদ হোসেন : দীর্ঘ সময় আমরা করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করছি। এরই মধ্যে কিছু বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তাই এখন আর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন হবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁদের অফিসের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করে নেবেন।

 

কালের কণ্ঠ : বড় সমস্যায় পড়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবীরা। তাঁরা কিভাবে চলাচল করবেন?

ফরহাদ হোসেন : বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে। সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হবে না। এই পরিস্থিতি বেশিদিন থাকবে বলেও আমরা আশঙ্কা করি না। দুই সপ্তাহের মতো লাগতে পারে। বুঝতেই তো পারছেন, সব কিছু ভেবেচিন্তে এমন (লকডাউন) সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। আমরা লকডাউন দিয়েছি ঢাকাকে নিরাপদ রাখার জন্য।

 

কালের কণ্ঠ : আগামী ঈদের সময় লকডাউন থাকবে?

ফরহাদ হোসেন : আসন্ন ঈদকেই আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বিশেষ করে ঈদের আগে গরুর হাট বসানোর প্রয়োজন পড়বে। এখন থেকে সংক্রমণটা নিয়ন্ত্রণে থাকলে কোরবানির পশুর হাট বসানো যাবে। এবার ঈদের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষের চলাচল যাতে চালু রাখা যায়, সেই চিন্তাও আছে। তার আগে পরিস্থিতিটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। এ কারণেই ঢাকার চারপাশকে কেন্দ্র করে লকডাউন দেওয়া হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : এ ক্ষেত্রে আশপাশের জেলা না করে শুধু ঢাকায় কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা যেত না?

ফরহাদ হোসেন : ঢাকার আশপাশের কয়েকটি জেলা, যেমন—গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও রাজবাড়ীতে সংক্রমণ অনেক বেড়েছে। ঢাকায়ও বাড়ছে। আর ঘন বসতি থাকায় ঢাকায় সংক্রমণটা দ্রুত ছড়ায়। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রোগীদের হাসপাতালেও ঠাঁই দেওয়া যাবে না। তাই ঢাকার বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই দ্রুত লকডাউন দেওয়া হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জসহ লকডাউন ঘোষিত জেলাগুলোতে শিল্প-কারাখানার কী হবে?

ফরহাদ হোসেন : এগুলো আগের নিয়মেই চলবে। কারখানা ও এর শ্রমিকদের বাসস্থান কাছাকাছি থাকে। তাই এগুলো চলতে সমস্যা নেই।

 

কালের কণ্ঠ : বড় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়েছে। ছোট গাড়ি তো চলছে।

ফরহাদ হোসেন : জরুরি প্রয়োজনের গাড়িগুলো তো চলবেই। অপ্রয়োজনে বের হলে তাদের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

কালের কণ্ঠ : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সবই খোলা। এ অবস্থায় ঢাকার মধ্যে গণপরিবহনে চলতে গিয়ে মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

ফরহাদ হোসেন : একেবারে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া অন্যদের বের হওয়ার প্রয়োজন নেই। মানুষ যদি এই নিয়মটা মানে তাহলে এত সমস্যা হওয়ার কারণ দেখি না।

 

কালের কণ্ঠ : আপনার কি মনে হয় মানুষ প্রয়োজন ছাড়াই বের হচ্ছে?

ফরহাদ হোসেন : মাস্ক পরার মতো সাধারণ একটি দায়িত্ব আমরা পালন করি না। অনেক সচেতন মানুষও এটা মানছেন না। তাই বের হওয়ার ক্ষেত্রে তেমনটা হচ্ছে, বলাই যায়।

 



সাতদিনের সেরা