kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শেখ হাসিনা

আ. লীগ ক্ষমতায় না থাকলে দেশের মানুষ বঞ্চিত হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আ. লীগ ক্ষমতায় না থাকলে দেশের মানুষ বঞ্চিত হবে

আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিআইডি

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগই পারবে এ দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, বাংলাদেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে। আর যদি ক্ষমতায় না থাকে তারা আবার বঞ্চিত হবে। তাই তারা যেন আর বঞ্চনার শিকার না হয়।’ তিনি গতকাল আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির এক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন। আলোচনাসভায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আর শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে। আলোচকরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহ্মুদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ।

আলোচনাসভায় প্রায় ৩৪ মিনিট বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের স্মরণ, আওয়ামী লীগের উত্থান-পতনের নানা স্মৃতিচারণা, আওয়ামী লীগেরই অনেক কেন্দ্রীয় নেতার দল ভাঙার চেষ্টা, করোনা মহামারিতে করণীয়, ভ্যাকসিন ক্রয় প্রসঙ্গসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছাও জানান শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী অনেক কেন্দ্রীয় নেতার দলের ক্ষতি করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এ দেশের গরিব মানুষ ভাত পায়, চিকিৎসা পায়, লেখাপড়ার সুযোগ পায়। এটা বোধ হয় একটা শ্রেণির পছন্দ না। যারা মিলিটারি ডিক্টেটরদের পদলেহন করে চলেছিল, তাদের এটা পছন্দ না। সে জন্য আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে তারা উঠেপড়ে লাগে। কিন্তু এই সংগঠন মাটি ও মানুষের মধ্য থেকে উঠে এসেছে। এটা কারো ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার সংগঠন নয়। মুসলিম লীগ সরকারের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে এই সংগঠন গড়ে উঠেছে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে। যে সংগঠন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠে, সেই সংগঠনকে এত সহজে শেষ করে দেওয়া যায় না। সাময়িক আঘাত আসে, আওয়ামী লীগের ওপরে অনেকবার আঘাত এসেছে। বহুবার আওয়ামী লীগ ভেঙে গেছে। আওয়ামী লীগের ভেতরের লোকেরাই তো আওয়ামী লীগের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনিই সবার আগে আওয়ামী লীগ ভেঙে চলে গেলেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি করতে। কতবার এভাবে আওয়ামী লীগ ভেঙেছে। ১৯৮১ সালে আমার অবর্তমানে আমাকে সভাপতি করা হলো আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য। দুর্ভাগ্যজনক হলো, আমি প্রবাসে থাকতে যাঁকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছি, তিনিই আমাকে ছেড়ে সবার আগে চলে গেলেন। আমাদের আব্দুর রাজ্জাক সাহেব। বারবার তাঁকে বললাম, আপনার তো যাওয়ার দরকার নেই, থাকেন। আপনি তো পার্টির সেক্রেটারি। না, তিনি আওয়ামী লীগ ভেঙে বাকশাল করলেন। এরপর আবার ডক্টর কামাল হোসেন। যাঁকে আমরা রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করালাম। তাঁর নাম আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বলে প্রচার করলাম। আসলে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কি? তিনি তো বঙ্গবন্ধুর কেবিনেটে একজন মন্ত্রী ছিলেন মাত্র। আমরা প্রচারের মাধ্যমেই তাঁকে তুলে ধরলাম। তিনি ভালো করে বাংলায় কথাও বলতে পারতেন না। তিনিও ১৯৯১ সালে পার্টি ভেঙে চলে গেলেন। আরেকটা পার্টিও বানালেন। প্রথমে আওয়ামী লীগই একটা গঠনের চেষ্টা করলেন, পরে ব্যর্থ হয়ে গণফোরাম গঠন করে চলে গেলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এভাবে বারবার আওয়ামী লীগের ওপরে আঘাত এসেছে। তবে আমি বলব, আওয়ামী লীগ তো হীরার টুকরা। যতবার কেটেছে আরো জ্বলজ্বল হয়েছে, নতুনভাবে আরো জ্যোতি ছড়িয়েছে। কাজেই এই সংগঠনকে ধ্বংস করার যে যতই চেষ্টা করুক, সেটা পারেনি, পারবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক সব দিক থেকেই উন্নতি করছে। আজকে বাংলাদেশ বিশ্বে একটা মর্যাদা পেয়েছে। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীকে, কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি যারা সমর্থন দিয়ে, ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে। তারা ভরসা রেখেছিল বলেই টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আছি।’