kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রয়োজন না থাকায় যুক্তরাষ্ট্র তার মজুদ থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার কভিড টিকা বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে দিতে চায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এখনো অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রয়োগের অনুমোদন দেয়নি। কবে নাগাদ এফডিএ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার অনুমোদন দেবে বা আদৌ দেবে কি না, সে ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত নয়। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোর অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা সরাসরি বা কোভ্যাক্সের মাধ্যমে পাওয়া বড় অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ভারত অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা রপ্তানি বন্ধের পর সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট সাময়িকভাবে মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রায় ১৬ লাখ লোক অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশের হাতে মাত্র এক লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা মজুদ আছে। কোভ্যাক্সের আওতায় পাওয়া এক লাখ ৬২০ ডোজ ফাইজারের টিকা ও চীনের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ১১ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা দিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। সংরক্ষণ জটিলতার কারণে ফাইজারের টিকা শুধু ঢাকায় নির্দিষ্ট কয়েকটি কেন্দ্রে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে চীনের টিকা মেডিক্যাল শিক্ষার্থীসহ অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা বেশ কিছু গোষ্ঠীকে দেওয়া হচ্ছে।

চীনা টিকা না নিলে চীন কর্তৃপক্ষ তাদের দেশে বিদেশিদের ঢুকতে দিচ্ছে না। আবার চীনা টিকা এখনো মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ অনেক দেশে স্বীকৃতি না পাওয়ায় এই টিকা নিয়ে ওই দেশগুলোতে ঢোকা যাচ্ছে না বা ঢুকলেও কোয়ারেন্টিন থেকে অব্যাহতি মিলছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ এরই মধ্যে ফাইজার, মডার্না ও জনসনের টিকা অনুমোদন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র গত ৩ জুন প্রথম দফায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে আড়াই কোটি ডোজ টিকা সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছিল। গত সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফায় চলতি জুন মাসের মধ্যেই আরো সাড়ে পাঁচ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দুই দফায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে আট কোটি ডোজ টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এগুলোর মধ্যে আপাতত নেই অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা।

হোয়াইট হাউসে গত সোমবার ব্রিফিংয়ে প্রেসসচিব জেন সাকি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এফডিএ অনুমোদন করলেই অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বিদেশে পাঠানো হবে। কিন্তু অনুমোদনের আগে অবশ্যই না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) গত সোমবার বলেছে, দরিদ্র দেশগুলোতে টিকা ফুরিয়ে আসছে। সেদিন রাতেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ঘাটতি পূরণে সাড়ে পাঁচ কোটি ডোজ কভিড টিকা সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের যেসব দেশে কভিড টিকার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে, সেসব দেশে এই টিকা পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সাড়ে পাঁচ কোটি ডোজের মধ্যে চার কোটি ১০ লাখ ডোজ টিকা (৭৫ শতাংশ) কোভ্যাক্স কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। বাকি এক কোটি ৪০ লাখ ডোজ টিকা যুক্তরাষ্ট্র তার অগ্রাধিকারের দেশগুলোকে বিতরণ করবে। যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্য এক কোটি ৪০ লাখ, ভারত ও বাংলাদেশসহ এশিয়া অঞ্চলের জন্য এক কোটি ৬০ লাখ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয় করে আফ্রিকার দেশগুলোকে এক কোটি ডোজ টিকা দেবে।

এদিকে সপ্তাহব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বড় বড় পণ্ডিত টিকার নামে মুলা দেখিয়ে যাচ্ছে। দেখেন না জি-৭ দেশগুলো কিছুদিন আগে বৈঠক করে বলেছে, তারা ১০০ কোটি ডোজ টিকা দরিদ্র দেশগুলোকে দেবে। এ নিয়ে শুধু গল্পই শুনছি; কিন্তু দেওয়ার জন্য কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটা মজার কাহিনি বলি। আমেরিকার অনেক ব্যক্তিবিশেষ আমাদের জানিয়েছেন যে অমুক লোক অনেক টিকা দিতে পারবে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে আমেরিকার লোক আমাদের জানিয়েছে, তারা রাশিয়ান টিকার ডিলারশিপ পেয়েছে; কিন্তু রাশিয়া সরকার আমাদের জানিয়েছে, তাদের কোনো ডিলারই নেই।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘টিকা একটা মজার জিনিস। সাংবাদিক, সাহিত্যিক, গায়ক, ব্যবসায়ী—সবাই এখন ভ্যাকসিন ব্যবসায়ী।’

টিকা কবে নাগাদ পাওয়া যেতে পারে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘টিকা নিয়ে সুখবর পাব; কিন্তু কবে পাব সেটি এখন বলতে পারছি না।’ মন্ত্রী বলেন, ‘ধনী দেশগুলো টিকা নিয়ে বসে রয়েছে। তাদের যত জনসংখ্যা, তার থেকে তাদের কাছে টিকা বেশি রয়েছে।’

টিকা এখন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে যে দেব; কিন্তু কেউ দেয় না। আবার দেওয়ার সময় জিজ্ঞেস করে যে অমুক জিনিসে আমাকে সমর্থন দেবেন কি না। এখন দেখা যাচ্ছে, এটিকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’