kalerkantho

শুক্রবার । ৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৩ জুলাই ২০২১। ১২ জিলহজ ১৪৪২

আইসিডিডিআরবির সমীক্ষার ফলাফল

ঢাকায় ৭১% চট্টগ্রামে ৫৫% বস্তিবাসী করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল

► টিকা ছাড়াই তাদের শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে
► হার্ড ইমিউনিটির সুফল পাওয়ার বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকায় ৭১% চট্টগ্রামে ৫৫% বস্তিবাসী করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল

ঢাকার ৭১ শতাংশ এবং চট্টগ্রামের ৫৫ শতাংশ বস্তিবাসী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে টিকা ছাড়াই অ্যান্টিবডি অর্জন করেছে। এ ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে অ্যান্টিবডি বেশি পাওয়া গেছে, যা পুরুষদের মধ্যে ছিল ৬৬ শতাংশ আর নারীদের মধ্যে ৭০.৬ শতাংশ। একটি সমীক্ষার ফলাফল তুলে ধরে আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র—আইসিডিডিআরবি ও বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের পক্ষ থেকে গতকাল মঙ্গলবার ভার্চুয়াল এক সেমিনারে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সেমিনারে জানানো হয়, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে বস্তি ও বস্তিসংলগ্ন বাইরের এলাকায় বসবাসকারী মোট তিন হাজার ২২০ জনের ওপর এই সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এতে ঘরে ঘরে গিয়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণ, রক্তচাপ ও শরীরে পুষ্টি পরিমাপ এবং রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল বস্তি ও বস্তির বাইরে বসবাসকারীদের রক্তে কভিড-১৯-এর উপস্থিতি এবং এর সম্ভাব্য কারণ নির্ণয় করা।

সমীক্ষায় দেখা যায়, বয়স্ক ও তরুণদের আক্রান্তের (সেরোপজিটিভিটি) হার প্রায় সমান। আক্রান্তদের ৩৫.৫ শতাংশের মধ্যে মৃদু উপসর্গ দেখা দিয়েছিল এবং বাকিরা ছিল উপসর্গহীন। আবার স্বল্প শিক্ষিত, অধিক ওজন, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিক রোগীদের মাঝে আক্রান্তের হার বেশি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বারবার হাত ধোয়ার প্রবণতা, নাক-মুখ কম স্পর্শ করা, আগে বিসিজি টিকা গ্রহণ এবং মাঝারি ধরনের শারীরিক পরিশ্রম করা ব্যক্তিদের মধ্যে কম মাত্রার সংক্রমণ দেখা গেছে। যারা আক্রান্ত হয়নি তাদের মধ্যে জিংকের মাত্রা বেশি দেখা গেছে। অন্যদিকে আক্রান্তদের মধ্যে ভিটামিন-ডি-এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।

সমীক্ষার ফলে বলা হয়, বস্তির বাইরে, বস্তিসংলগ্ন এলাকার নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের তুলনায় কভিড-১৯ অ্যান্টিবডি অর্জনের হার বস্তিতে বেশি। সমীক্ষার ফল উপস্থাপন করেন আইসিডিডিআরবির গবেষক ডা. রুবহানা রাকিব ও ড. আবদুর রাজ্জাক। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের সমন্বয়কারী ড. মোশতাক রাজা চৌধুরী, আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহামুদুর রহমান, আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেনসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে বিশেষজ্ঞরা জানান, ৭১ শতাংশ আক্রান্ত হয়ে অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও তাকে হার্ড ইমিউনিটির সুফল পাওয়ার কাছাকাছি এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ, ৮০ শতাংশ আক্রান্ত হলে বা টিকার মাধ্যমে অ্যান্টিবডি তৈরি হলেই হার্ড ইমিউনিটি হয়ে যাবে সে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়। অনেকেরই পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

এই সমীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা করেছে ফরেইন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং ইউনাইডেট নেশনস পপুলেশন ফান্ড (ইউএনএফপিএ)। বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ এই গবেষণায় অ্যাডভোকেসি পার্টনার হিসেবে কাজ করেছে।

 



সাতদিনের সেরা